রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিস্তার চরে সেচে ফসল উৎপাদন শঙ্কিত চাষীরা 

তিস্তার বুক চিরে জেগে উঠেছে চর। এসব চরে আলু, মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, পেয়াজ ও মরিচসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ করছেন কৃষকরা। পানির পাম্প (শ্যালো) বসিয়ে সেচের পানি সংগ্রহ করে চাষাবাদ করছেন তারা। ধুধু বালু চরে কৃষকের ডিজেল কিনে ফসল উৎপাদনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ।
লালমনিরহাট কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ৫ উপজেলায় জেগে ওঠা চরের জমির পরিমান ১০ হাজার হেক্টর। এ বছর চাষাবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।
চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জেগে ওঠা চরের বৃহৎ অংশই চাষাবাদের বাইরে রয়েছে।নদীতে পানি সংকট থাকায় কৃষকরা শ্যালো ইঞ্জিন ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বালুময় জমিতে সেচের মাধ্যমে পানি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারো শুকিয়ে যাওয়ায় খরচ মিটিয়ে লাভবান হওয়া নিয়ে শঙ্কিত চাষিরা।
সরেজমিনে তিস্তার চরের চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিস্তা নদীতে পানি থাকলে ফসল ফলাতে তাদের কোনো বেগ পেতে হতো না। পানি না থাকায় তাদের এখন মরণদশা। ডিজেল কিনে ফসল ফলাতে তাদের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। কারণ চরের জমিতে সেচের ব্যয় সমতলের চেয়ে তিনগুণ বেড়ে যায়। ফলে ফলন ভালো হলেও লাভ হওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লালমনিরহাটের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সৈয়দা সিফাত জাহান বলেন, তিস্তা নদীর বিশাল চরাঞ্চলে আলু, ভুট্টা ও মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন করে চরের কৃষকরা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাচ্ছেন। সেচের জন্য ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও কীটনাশকের ব্যয় চরের চাষাবাদে কম লাগে। তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ থাকলে কৃষকরা সেখান থেকে সেচের পানি সরবরাহ করে ফসল উৎপাদনে খরচ কমাতে পারতেন। তবে কৃষি বিভাগ থেকে চর কৃষকদের বালুচরে নানা ফসল উৎপাদনে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, উজান থেকে পানি তুলনামূলক কম আসায় তিস্তায় পানি প্রবাহ কমেছে। পলি জমে তিস্তার বুক ভরাট হয়ে মূল-ভূখন্ডের সমান হয়ে গেছে। যেটুকু পানি প্রবাহ আছে কয়েকটি চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে গেছে। তবে তিস্তা নদী খনন করে একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলে রূপান্তর করতে পারলে তিস্তায় পানি প্রবাহ সচল থাকবে।

তিস্তার চরে সেচে ফসল উৎপাদন শঙ্কিত চাষীরা 

প্রকাশের সময়: ০৫:৫০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৩
তিস্তার বুক চিরে জেগে উঠেছে চর। এসব চরে আলু, মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, পেয়াজ ও মরিচসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ করছেন কৃষকরা। পানির পাম্প (শ্যালো) বসিয়ে সেচের পানি সংগ্রহ করে চাষাবাদ করছেন তারা। ধুধু বালু চরে কৃষকের ডিজেল কিনে ফসল উৎপাদনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ।
লালমনিরহাট কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ৫ উপজেলায় জেগে ওঠা চরের জমির পরিমান ১০ হাজার হেক্টর। এ বছর চাষাবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।
চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জেগে ওঠা চরের বৃহৎ অংশই চাষাবাদের বাইরে রয়েছে।নদীতে পানি সংকট থাকায় কৃষকরা শ্যালো ইঞ্জিন ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বালুময় জমিতে সেচের মাধ্যমে পানি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারো শুকিয়ে যাওয়ায় খরচ মিটিয়ে লাভবান হওয়া নিয়ে শঙ্কিত চাষিরা।
সরেজমিনে তিস্তার চরের চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিস্তা নদীতে পানি থাকলে ফসল ফলাতে তাদের কোনো বেগ পেতে হতো না। পানি না থাকায় তাদের এখন মরণদশা। ডিজেল কিনে ফসল ফলাতে তাদের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। কারণ চরের জমিতে সেচের ব্যয় সমতলের চেয়ে তিনগুণ বেড়ে যায়। ফলে ফলন ভালো হলেও লাভ হওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লালমনিরহাটের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সৈয়দা সিফাত জাহান বলেন, তিস্তা নদীর বিশাল চরাঞ্চলে আলু, ভুট্টা ও মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন করে চরের কৃষকরা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাচ্ছেন। সেচের জন্য ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও কীটনাশকের ব্যয় চরের চাষাবাদে কম লাগে। তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ থাকলে কৃষকরা সেখান থেকে সেচের পানি সরবরাহ করে ফসল উৎপাদনে খরচ কমাতে পারতেন। তবে কৃষি বিভাগ থেকে চর কৃষকদের বালুচরে নানা ফসল উৎপাদনে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, উজান থেকে পানি তুলনামূলক কম আসায় তিস্তায় পানি প্রবাহ কমেছে। পলি জমে তিস্তার বুক ভরাট হয়ে মূল-ভূখন্ডের সমান হয়ে গেছে। যেটুকু পানি প্রবাহ আছে কয়েকটি চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে গেছে। তবে তিস্তা নদী খনন করে একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলে রূপান্তর করতে পারলে তিস্তায় পানি প্রবাহ সচল থাকবে।