রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খামার করে দিনমজুর থেকে কোটিপতি জামাল হোসেন

নিভৃত গ্রামের জামাল হোসেন ভোলা (৫০)। একসময়ে দিনমজুর ছিলেন। তা দিয়ে সংসারে যেন নুন আন্তে পান্তা ফুরায়। এরপর দরিদ্রের এই কষাঘাত থেকে বাঁচতে হাঁসের খামারের পরিল্পনা নেয়। ঠিক যেমন স্বপ্ন তেমন কাজ। মাত্র ২০টি হাঁস দিয়ে শুরু করেন খামারের যাত্রা। এ থেকে ধীরে ধীরে তিনি এখন কোটিপতি।

সংগ্রামী এই উদ্যোক্তা জামাল হোসেনের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র গ্রামে। সম্প্রতি এ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে তার খামারের চিত্র। শুধু হাঁসের খামারই না, আরও রয়েছে ডেইরি, মৎস্য ও পোল্ট্রি খামার। এসব খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের।

জানা যায়, জামাল হোসেন ভোলা ১৯৮৪ সালে ২০টি হাঁস কিনেন। সেই হাঁস দিয়ে যাত্রা শুরু খামারের। পর্যায়ক্রমে মাছচাষ, মুরগি ও গরুর খামার গড়ে তোলেন। পাশাপাশি হার্ডওয়ার ও পোল্ট্রি খাদ্যের ব্যবসাও করছেন। কিনেছেন প্রায় আট-নয় বিঘা জমি। ছয়জন ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। মেধা ও পরিশ্রমে জীবনের চাকা পাল্টে দিয়েছেন। মাত্র ৩৫ বছরের ব্যবধানে দিনমজুর থেকে তিনি এখন কোটিপতি।

উদ্যোক্তা জামাল হোসেন ভোলা জানান, বর্তমানে তার এক একর ৫২ শতক জমিতে রয়েছে পুকুর। সেই পুকুরে মাছ চাষ করছেন। পুকুরের ওপরে মুরগির সেড। সেডের পাশেই গরুর খামার। খামারে রয়েছে ১ হাজার ২০০ মুরগি। প্রতিদিন ডিম পাচ্ছেন এক হাজার ১০০টি। ডিম বিক্রি করে মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকা। মাছ বিক্রি করে সাড়ে ১২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। আরও আয় হচ্ছে ব্যবসা থেকেও।  ভবিষ্যতে একটি মডেল খামার গড়ে তুলবেন। যা দেখে খামার করতে মানুষ উদ্বুদ্ধ হবে বলে তার স্বপ্ন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ২১০টি গরুর খামার, ১৫০টি ছাগলের খামার, ৬০টি ভেড়ার খামার, ৩৮টি হাঁসের খামার ও ২৩৯টি মুরগির খামার রয়েছে। খামারকে কেন্দ্র করে উপজেলায় প্রায় ২৫টি ডিমের পাইকারি আড়ত, প্রায় ২৫০টি গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির খাদ্য বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে। এসবের মধ্যে জামাল হোসেন অন্যতম একজন খামারী।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জামাল হোসেনসহ অন্যান্য খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, ঋণ ও চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামার গড়ে তুলতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন উপজেলার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। এই শিল্পের প্রসারে খামারিদের ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

খামার করে দিনমজুর থেকে কোটিপতি জামাল হোসেন

প্রকাশের সময়: ০৬:১৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩

নিভৃত গ্রামের জামাল হোসেন ভোলা (৫০)। একসময়ে দিনমজুর ছিলেন। তা দিয়ে সংসারে যেন নুন আন্তে পান্তা ফুরায়। এরপর দরিদ্রের এই কষাঘাত থেকে বাঁচতে হাঁসের খামারের পরিল্পনা নেয়। ঠিক যেমন স্বপ্ন তেমন কাজ। মাত্র ২০টি হাঁস দিয়ে শুরু করেন খামারের যাত্রা। এ থেকে ধীরে ধীরে তিনি এখন কোটিপতি।

সংগ্রামী এই উদ্যোক্তা জামাল হোসেনের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র গ্রামে। সম্প্রতি এ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে তার খামারের চিত্র। শুধু হাঁসের খামারই না, আরও রয়েছে ডেইরি, মৎস্য ও পোল্ট্রি খামার। এসব খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের।

জানা যায়, জামাল হোসেন ভোলা ১৯৮৪ সালে ২০টি হাঁস কিনেন। সেই হাঁস দিয়ে যাত্রা শুরু খামারের। পর্যায়ক্রমে মাছচাষ, মুরগি ও গরুর খামার গড়ে তোলেন। পাশাপাশি হার্ডওয়ার ও পোল্ট্রি খাদ্যের ব্যবসাও করছেন। কিনেছেন প্রায় আট-নয় বিঘা জমি। ছয়জন ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। মেধা ও পরিশ্রমে জীবনের চাকা পাল্টে দিয়েছেন। মাত্র ৩৫ বছরের ব্যবধানে দিনমজুর থেকে তিনি এখন কোটিপতি।

উদ্যোক্তা জামাল হোসেন ভোলা জানান, বর্তমানে তার এক একর ৫২ শতক জমিতে রয়েছে পুকুর। সেই পুকুরে মাছ চাষ করছেন। পুকুরের ওপরে মুরগির সেড। সেডের পাশেই গরুর খামার। খামারে রয়েছে ১ হাজার ২০০ মুরগি। প্রতিদিন ডিম পাচ্ছেন এক হাজার ১০০টি। ডিম বিক্রি করে মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকা। মাছ বিক্রি করে সাড়ে ১২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। আরও আয় হচ্ছে ব্যবসা থেকেও।  ভবিষ্যতে একটি মডেল খামার গড়ে তুলবেন। যা দেখে খামার করতে মানুষ উদ্বুদ্ধ হবে বলে তার স্বপ্ন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ২১০টি গরুর খামার, ১৫০টি ছাগলের খামার, ৬০টি ভেড়ার খামার, ৩৮টি হাঁসের খামার ও ২৩৯টি মুরগির খামার রয়েছে। খামারকে কেন্দ্র করে উপজেলায় প্রায় ২৫টি ডিমের পাইকারি আড়ত, প্রায় ২৫০টি গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির খাদ্য বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে। এসবের মধ্যে জামাল হোসেন অন্যতম একজন খামারী।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জামাল হোসেনসহ অন্যান্য খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, ঋণ ও চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামার গড়ে তুলতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন উপজেলার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। এই শিল্পের প্রসারে খামারিদের ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।