শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বস্তাভর্তি সরকারি বই

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভ্যানে করে মাধ্যমিক স্তরের সরকারি বিনামূল্যের বই বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে জনতা।

গত শক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তা মোড়ে বইয়ের বস্তাসহ ভ্যানটি আটক করেন তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বইগুলো উদ্ধার করেন ও সিলগালা করে রাখেন বিদ্যালয়ের কক্ষে।

জব্দকৃত বইগুলো উপজেলার চণ্ডীপুর ফজলুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মাধ্যমিক শাখার বিভিন্ন শ্রেণির। পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার দিকে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভ্যানে করে বইগুলি বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। জনগণ তা আটক করে থানায় খবর দেয়। পুলিশ চণ্ডীপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তা মোড় থেকে বইগুলো উদ্ধার করে। পরে প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে একটি রুমে জব্দকৃত বইগুলো সিলগালা করে রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শী মমিন মিয়া বলেন, প্লাস্টিকের বস্তায় ভর্তি এক ভ্যান বই সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সাধারণ জনগণ টের পেয়ে ভ্যানটি আটক করে। ভ্যানচালককে বইগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, চণ্ডীপুর ফজলুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ মিয়া বইগুলো বিক্রির জন্য তাঁর ভ্যান ভাড়া করছেন। পরে লোকজন থানায় খবর দিলে কঞ্চিপাড়া ফাঁড়ি থেকে পুলিশ এসে বইগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমি বই বিক্রির বিষয়ে কিছু জানি না। আমার প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজেই এগুলো গায়ের জোরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নাই।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলার রহমান বলেন, ‘পুরাতন বইগুলো বিক্রির জন্য প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক নিয়ে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় লোকজন আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ নাকি বইগুলো প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। আমি এইটুকু শুধু শুনছি। তবে বিক্রির জন্য যে রেজল্যুশন করা লাগে, তা করা হয় নাই।’

সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্কুলের উন্নয়নকাজ চলছে। টাকারও দরকার, তাই বইগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন আটক করে। বইগুলো এখন প্রতিষ্ঠানেই আছে। তবে বই বিক্রির বিষয়টি সভাপতি ও অধ্যক্ষ স্যার জানেন।’

থানার ওসি মো. মাহবুব আলম বলেন, উদ্ধারকৃত বইগুলো ওই স্কুলের একটি কক্ষে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে সিলগালা কক্ষটি খোলা হবে। তারপর কী ব্যবস্থা নেবেন ওনারাই ভালো জানেন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন মণ্ডল বলেন, ‘জনতার হাতে আটক বইগুলো স্টোরেজ করতে বলেছি। রোববার বইগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের বই বিক্রির সুযোগ নেই। তবে পুরোনো বই বিক্রি করতে হলেও গভর্নিং বডির অনুমতি নিতে হবে।’

সুন্দরগঞ্জে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বস্তাভর্তি সরকারি বই

প্রকাশের সময়: ০৮:১৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভ্যানে করে মাধ্যমিক স্তরের সরকারি বিনামূল্যের বই বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে জনতা।

গত শক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তা মোড়ে বইয়ের বস্তাসহ ভ্যানটি আটক করেন তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বইগুলো উদ্ধার করেন ও সিলগালা করে রাখেন বিদ্যালয়ের কক্ষে।

জব্দকৃত বইগুলো উপজেলার চণ্ডীপুর ফজলুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মাধ্যমিক শাখার বিভিন্ন শ্রেণির। পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার দিকে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভ্যানে করে বইগুলি বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। জনগণ তা আটক করে থানায় খবর দেয়। পুলিশ চণ্ডীপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তা মোড় থেকে বইগুলো উদ্ধার করে। পরে প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে একটি রুমে জব্দকৃত বইগুলো সিলগালা করে রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শী মমিন মিয়া বলেন, প্লাস্টিকের বস্তায় ভর্তি এক ভ্যান বই সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সাধারণ জনগণ টের পেয়ে ভ্যানটি আটক করে। ভ্যানচালককে বইগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, চণ্ডীপুর ফজলুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ মিয়া বইগুলো বিক্রির জন্য তাঁর ভ্যান ভাড়া করছেন। পরে লোকজন থানায় খবর দিলে কঞ্চিপাড়া ফাঁড়ি থেকে পুলিশ এসে বইগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমি বই বিক্রির বিষয়ে কিছু জানি না। আমার প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজেই এগুলো গায়ের জোরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নাই।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলার রহমান বলেন, ‘পুরাতন বইগুলো বিক্রির জন্য প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক নিয়ে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় লোকজন আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ নাকি বইগুলো প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। আমি এইটুকু শুধু শুনছি। তবে বিক্রির জন্য যে রেজল্যুশন করা লাগে, তা করা হয় নাই।’

সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্কুলের উন্নয়নকাজ চলছে। টাকারও দরকার, তাই বইগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন আটক করে। বইগুলো এখন প্রতিষ্ঠানেই আছে। তবে বই বিক্রির বিষয়টি সভাপতি ও অধ্যক্ষ স্যার জানেন।’

থানার ওসি মো. মাহবুব আলম বলেন, উদ্ধারকৃত বইগুলো ওই স্কুলের একটি কক্ষে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে সিলগালা কক্ষটি খোলা হবে। তারপর কী ব্যবস্থা নেবেন ওনারাই ভালো জানেন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন মণ্ডল বলেন, ‘জনতার হাতে আটক বইগুলো স্টোরেজ করতে বলেছি। রোববার বইগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের বই বিক্রির সুযোগ নেই। তবে পুরোনো বই বিক্রি করতে হলেও গভর্নিং বডির অনুমতি নিতে হবে।’