শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিপূর্ণ থানা ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন পুলিশ 

সর্বদা জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। সেই পুলিশের সদস্যরাই দিনাজপুরের খানসামা থানায় ঝুঁকিপূর্ণ থানা ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। থানা ভবনের কলাম, বিম ও ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে।
রডগুলোতে ধরেছে মরিচা। ভবনের দেয়ালের পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে পড়েছে। মাঝে-মধ্যেই পলেস্তারা খসে পড়ে। এছাড়া দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল। পুলিশ বাহিনী যখন মানবিক পুলিশ হিসেবে মানুষের নিরাপত্তা প্রদানে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে ঠিক তখনই জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যদিয়ে থানা ভবনে কাজ-কর্ম করছে সেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। প্রাকৃতিক বড় ধরনের কোনো দূর্যোগ হলে ঘটতে পারে বিপর্যয়।
জানা গেছে, ১৮৯১ সালে খানসামা থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে এ থানাকে উপজেলায় রুপান্তর করা হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে থানাগুলো নদী তীরবর্তী স্থানে গড়ে তোলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় খানসামা থানাও উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে গোবিন্দপুর নামক স্থানে থানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে থানা ভবন নির্মাণ হওয়ার পর সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হলে আশির দশকে আবার ভবন নির্মাণ করা হয়। সেই ভবনও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ইন্সপেক্টর (তদন্ত), উপ-পরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলসহ ৬০ জন পুলিশ সদস্য থানা ভবনের নিচতলায় বসে বা অবস্থান করে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় তলার ব্যারাকে ৩০ জন পুলিশ সদস্য রাত্রিযাপন করেন। এছাড়া অস্ত্রাগার, হাজতখানা ও মালখানা রয়েছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মূল সড়কের পাশেই সীমানা প্রাচীরে ঘেরা খানসামা থানা ভবন। মূল গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই চত্বরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ফুল বাগানের সৌন্দর্য এবং ভবনের বাইরের অংশের নতুন রঙ দেখে ভালোই লাগবে। কিন্তু ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতেই মনে হবে-‘বাইরে ফিটফাট আর ভিতরে সদরঘাট!’ এ ভবনে খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র কক্ষেই ফাটল। অপরদিকে, ইন্সপেক্টরের (তদন্ত) কক্ষ, সার্ভিস ডেস্ক, অপারেটর কক্ষ ও অফাসাররা যেসব কক্ষে বসে কাজ করছেন সেগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। এছাড়াও মূল ভবনের পিছনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র বাসভবন ও মসজিদের পাশেই পুলিশ সদস্যদের টিনশেড ভবন। এ ভবনও অনেক পুরোনো। সেগুলো সংস্কার করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুজ্জামান মন্ডল বলেন, সারাদিন মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে থানায় এসে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের নিরাপত্তাহীন অবস্থায় থাকতে হয়। এতে আমরা মানসিকভাবে টেনশনে থাকি, কখন কী হয়? কোনো বড় দূর্ঘটনা এড়াতে নতুন ভবন প্রয়োজন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম ভবনের এ দূর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, থানা ভবনের বর্তমান নাজুক অবস্থা সম্পর্কে অবগত করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি দেবেন।
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে পত্র পাঠানো হয়েছে। যেন নতুন ভবন নির্মাণের ফলে পুলিশ সদস্যরা নির্বিঘ্নে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
জনপ্রিয়

ঝুঁকিপূর্ণ থানা ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন পুলিশ 

প্রকাশের সময়: ০৬:২২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বদা জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। সেই পুলিশের সদস্যরাই দিনাজপুরের খানসামা থানায় ঝুঁকিপূর্ণ থানা ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। থানা ভবনের কলাম, বিম ও ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে।
রডগুলোতে ধরেছে মরিচা। ভবনের দেয়ালের পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে পড়েছে। মাঝে-মধ্যেই পলেস্তারা খসে পড়ে। এছাড়া দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল। পুলিশ বাহিনী যখন মানবিক পুলিশ হিসেবে মানুষের নিরাপত্তা প্রদানে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে ঠিক তখনই জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যদিয়ে থানা ভবনে কাজ-কর্ম করছে সেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। প্রাকৃতিক বড় ধরনের কোনো দূর্যোগ হলে ঘটতে পারে বিপর্যয়।
জানা গেছে, ১৮৯১ সালে খানসামা থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে এ থানাকে উপজেলায় রুপান্তর করা হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে থানাগুলো নদী তীরবর্তী স্থানে গড়ে তোলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় খানসামা থানাও উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে গোবিন্দপুর নামক স্থানে থানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে থানা ভবন নির্মাণ হওয়ার পর সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হলে আশির দশকে আবার ভবন নির্মাণ করা হয়। সেই ভবনও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ইন্সপেক্টর (তদন্ত), উপ-পরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলসহ ৬০ জন পুলিশ সদস্য থানা ভবনের নিচতলায় বসে বা অবস্থান করে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় তলার ব্যারাকে ৩০ জন পুলিশ সদস্য রাত্রিযাপন করেন। এছাড়া অস্ত্রাগার, হাজতখানা ও মালখানা রয়েছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মূল সড়কের পাশেই সীমানা প্রাচীরে ঘেরা খানসামা থানা ভবন। মূল গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই চত্বরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ফুল বাগানের সৌন্দর্য এবং ভবনের বাইরের অংশের নতুন রঙ দেখে ভালোই লাগবে। কিন্তু ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতেই মনে হবে-‘বাইরে ফিটফাট আর ভিতরে সদরঘাট!’ এ ভবনে খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র কক্ষেই ফাটল। অপরদিকে, ইন্সপেক্টরের (তদন্ত) কক্ষ, সার্ভিস ডেস্ক, অপারেটর কক্ষ ও অফাসাররা যেসব কক্ষে বসে কাজ করছেন সেগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। এছাড়াও মূল ভবনের পিছনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র বাসভবন ও মসজিদের পাশেই পুলিশ সদস্যদের টিনশেড ভবন। এ ভবনও অনেক পুরোনো। সেগুলো সংস্কার করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুজ্জামান মন্ডল বলেন, সারাদিন মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে থানায় এসে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের নিরাপত্তাহীন অবস্থায় থাকতে হয়। এতে আমরা মানসিকভাবে টেনশনে থাকি, কখন কী হয়? কোনো বড় দূর্ঘটনা এড়াতে নতুন ভবন প্রয়োজন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম ভবনের এ দূর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, থানা ভবনের বর্তমান নাজুক অবস্থা সম্পর্কে অবগত করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি দেবেন।
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে পত্র পাঠানো হয়েছে। যেন নতুন ভবন নির্মাণের ফলে পুলিশ সদস্যরা নির্বিঘ্নে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।