মো. রফিকুল ইসলাম, চিরিরবন্দর : আত্রাই নদী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। এ নদীর বুকে বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে চর। এসব চরে শুধুই বালু আর বালু। কিছু কিছু চরে বালু-পলি মাটির সংমিশ্রন। বালু আর পলি মাটির সংমিশ্রিত এসব চরে কৃষকেরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে অনায়াসে বিভিন্ন প্রকার ফসল ফলাচ্ছেন। চরের চাষাবাদে অর্জিত অর্থ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। এতে কৃষকেরা রঙিন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আলোকঝাড়ি, বাসুলী, বেলপুকুর, গোবিন্দপুর, জোয়ার, কায়েমপুর, শুড়িগাঁও, আগ্রা ও চাকিনিয়া গ্রামে আত্রাই নদীর চরে ৫৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে নদীর চরে বোরোধান ৪৫ হেক্টর, পিঁয়াজ ৩ হেক্টর, মিষ্টিকুমড়া ১ হেক্টর, ভূট্টা ৪ হেক্টর ও সরিষা ২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চরের জমিতে বেশি চাষাবাদ বৃদ্ধি হয়েছে।
সরজমিন বেলপুকুর, কায়েমপুর ও গোবিন্দপুর এলাকার চর ঘুরে দেখা গেছে, নদীর বুকে জেগে ওঠা চর পলিমাটি মিশ্রিত উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। এসব জমিতে কৃষকেরা চাষাবাদে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। আত্রাই নদীর এসব চরে কৃষকেরা ধান, গম, পিঁয়াজ, ভূট্টা, সরিষা, মিষ্টিকুমড়াসহ নানান প্রকার শাক-সবজি চাষ করছেন।

উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের চরের চাষি রিকশাভ্যানচালক ছমিরউদ্দিন বলেন, তার নিজস্ব কোনো আবাদি জমি নেই। আত্রাই নদীতে চর পড়ায় ফসলের আবাদ শুরু করেছেন। তিনি নদীর চরের জমিতে ধানের পাশাপাশি পিঁয়াজ ও বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি চাষ করেছেন। এসব চাষ করে তার বাড়তি আয় হবে। যা সংসারের বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি ব্যয় করবেন। চরের আশপাশের সব কৃষকেরা এখন কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
আরেক চাষি এনামুল হক বলেন, নদীর চরে অনন্ত বিঘাখানেক জমিতে ধান চাষ করেছেন। অন্যান্য আবাদি জমির তুলনায় চরের জমিতে ধানচাষে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। সেই সঙ্গে ফলনও ভালো পাওয়া যায়।
খামারপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা শ ম জাহেদুল ইসলাম বলেন, নদীর চরে ধান ও পিঁয়াজের আবাদ অনেক ভালো হয়। সেই সঙ্গে চরে চাষাবাদ উপযোগি ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে আমরা কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানে কাজ করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার জাগো২৪.নেট-কে বলেন, অন্যান্য আবাদি জমির সঙ্গে নদীর চরে চাষাবাদ করে কৃষকেরা একদিকে যেমন লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা ও সফলতা ধরে রাখতে উপজেলা কৃষিবিভাগ সর্বদা কৃষকের পাশে রয়েছে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 














