শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাপদাদার রক্তভেজা জমিতে ইপিজেড চায় না সাঁওতালরা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমিতে ইপিজেড বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুরে এই কর্মসূচির আয়োজন করে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ও আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাগদাফার্ম সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম থেকে সাঁওতাল-বাঙালিরা একসঙ্গে বাসযোগে গাইবান্ধা জেলা শহরে আসে। তারা গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সুখশান্তির বাজার এলাকায় নেমে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে সাঁওতাল-বাঙালিদের প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মশিউর রহমানের হাতে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের জমিতে ইপিজেড বাতিলসহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবগত করবেন বলে আশ্বাস দেন। এরপর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে আদিবাসী ঐতিহ্যের প্রতীক তির-ধনুক, ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে শতাধিক সাঁওতাল-বাঙালি নারী-পুরুষ অংশ নেন।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিচিত্রা তির্কী, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু ও সদস্য সচিব মোরশেদ হাসান দীপন, সদর উপজেলা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, আদিবাসী নেতা র‌্যাফেল হাসদা, সুফল হেমব্রম, প্রিসিলা মুরমু, সুচিত্রা মুরমু, প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ইপিজেডের নামে সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের ভেতরে তিন ফসলি জমি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। শহীদ শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মারডির রক্তে ভেজা জমিতে ইপিজেড করা চলবে না। গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের ১ হাজার ৮৪২.৩০ একর রিকুইজিশনকৃত জমি আদিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে হবে, সাঁওতালদের উপরে আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘরে লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, পুলিশের গুলিতে নিহত ও আহত সাঁওতাল পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী এবং বাঙালীদের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

বক্তরা আরো বলেন যে, সাঁওতালসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উপর নির্যাতন ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া অব্যহত থাকলে তারা দেশান্তরে বাধ্য হবে। যা ভাষা, সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বাপদাদার রক্তভেজা জমিতে ইপিজেড চায় না সাঁওতালরা

প্রকাশের সময়: ০৫:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমিতে ইপিজেড বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুরে এই কর্মসূচির আয়োজন করে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ও আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাগদাফার্ম সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম থেকে সাঁওতাল-বাঙালিরা একসঙ্গে বাসযোগে গাইবান্ধা জেলা শহরে আসে। তারা গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সুখশান্তির বাজার এলাকায় নেমে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে সাঁওতাল-বাঙালিদের প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মশিউর রহমানের হাতে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের জমিতে ইপিজেড বাতিলসহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবগত করবেন বলে আশ্বাস দেন। এরপর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে আদিবাসী ঐতিহ্যের প্রতীক তির-ধনুক, ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে শতাধিক সাঁওতাল-বাঙালি নারী-পুরুষ অংশ নেন।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিচিত্রা তির্কী, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু ও সদস্য সচিব মোরশেদ হাসান দীপন, সদর উপজেলা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, আদিবাসী নেতা র‌্যাফেল হাসদা, সুফল হেমব্রম, প্রিসিলা মুরমু, সুচিত্রা মুরমু, প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ইপিজেডের নামে সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের ভেতরে তিন ফসলি জমি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। শহীদ শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মারডির রক্তে ভেজা জমিতে ইপিজেড করা চলবে না। গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের ১ হাজার ৮৪২.৩০ একর রিকুইজিশনকৃত জমি আদিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে হবে, সাঁওতালদের উপরে আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘরে লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, পুলিশের গুলিতে নিহত ও আহত সাঁওতাল পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী এবং বাঙালীদের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

বক্তরা আরো বলেন যে, সাঁওতালসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উপর নির্যাতন ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া অব্যহত থাকলে তারা দেশান্তরে বাধ্য হবে। যা ভাষা, সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।