গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় জোরপূর্বক বিয়ে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় নিকাহ রেজিস্টার কাজী ও ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ মিয়াকে (৬০) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত, সাদুল্লাপুর) পাপড়ি বড়ুয়া এ আদেশ দেন।
আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর করা হয়।
কারাগারে যাওয়া আসামি মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩ নং দামোদরপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী। পাশাপাশি তিনি পার্শ্ববর্তী নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কাজীর দায়িত্বও পালন করছিলেন।
উপজেলার পশ্চিম দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দামোদরপুর ইউনিয়নের সভাপতি এবং উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি পশ্চিম দামোদরপুর দাখিল মাদরাসার সুপার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাদুল্লাপুর থানায় দায়ের হওয়া জিআর মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ও কোর্ট জিআরও মামলার আরজির বরাত দিয়ে জানান, সম্প্রতি নলডাঙ্গা এলাকায় এক তরুণকে আটক রেখে জোরপূর্বক একটি বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মেয়ের পরিবার ওই তরুণকে জোরপূর্বক বিয়ে দেয় এবং উক্ত বিয়ে রেজিস্ট্রির কাজ সম্পন্ন করেন কাজী আব্দুল হামিদ। এ ঘটনার পর ছেলের পরিবার সাদুল্লাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মেয়ের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কাজীকেও আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষানবীশ আইনজীবী রওশন আলম জানান, অভিযুক্ত কাজী আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাদুল্লাপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ দামোদরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








