তোফায়েল হোসেন জাকির: গত বছরের ২২ মার্চ গাইবান্ধা জেলায় প্রথম দুইজন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর জেলাটিতে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণের সংখ্যা। সেটি কয়েক মাস আগে কমতে থাকলেও, তা আবারও বাড়তে শুরু করছে।
শুক্রবার (২ জুলাই) রাতে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২৫ ও মারা গেছে ২ জন রোগি। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৩৫ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন এক হাজার ৮৫১ জন। মৃত্যুবরণ করেছে ২৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে ৩৬১ জন রোগি চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ পর্যন্ত উপজেলা ভিত্তিক পরিস্থিতি–
গাইবান্ধা সদর উপজেলা: আক্রান্ত ৯৩৪ জন, সুস্থ ৭৫৯ জন, মু্ত্যু ৮ জন ও চিকিৎসাধীন ১৬৭ জন রোগি।
সাদুল্লাপুর উপজেলা: আক্রান্ত ১৯৭ জন, সুস্থ ১৩৯ জন, মু্ত্যু ৩ জন ও চিকিৎসাধীন ৫৫ জন রোগি।
পলাশবাড়ী উপজেলা: আক্রান্ত ১৯৮ জন, সুস্থ ১৪৯ জন, মু্ত্যু ৫ জন ও চিকিৎসাধীন ৪৪ জন রোগি।
সাঘাটা উপজেলা: আক্রান্ত ১৪২ জন, সুস্থ ১৩২ জন, মু্ত্যু নেই ও চিকিৎসাধীন ১০ জন রোগি।
ফুলছড়ি উপজেলা: আক্রান্ত ১৩৭ জন, সুস্থ ১২০ জন, মু্ত্যু ১ জন ও চিকিৎসাধীন ১৬ জন রোগি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা: আক্রান্ত ১৪৯ জন, সুস্থ ১২৪ জন, মু্ত্যু ২ জন ও চিকিৎসাধীন ২৩ জন রোগি।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা: আক্রান্ত ৪৭৮ জন, সুস্থ ৪২৮ জন, মু্ত্যু ৪ জন ও চিকিৎসাধীন ৪৬ জন রোগি।
এদিকে, গাইবান্ধা জেলায় করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ২৫ টি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে রোগিদের জন্য বেড রয়েছে ৬৭১ টি। চিকিৎসাসেবায় ১৫৪ জন ডাক্তার ও নার্স রয়েছেন ২০৯ জন। তারা শুধু মাত্র করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত রোগিদের জরুরি চিকিৎসায় স্থানান্তরের নিমিত্তে পৃথকভাবে ২ টি এ্যাম্বুলেন্স ও ২ টি মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ১০০ বেডের আইসোলেসনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।
গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য সকল সামগ্রীসহ ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষার সামগ্রীও মজুদ রাখা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে কোভিডের বর্জ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। আগের তুলনায় সম্প্রতি সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোথে মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী মাঠে কাজ করছেন।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 









