তোফায়েল হোসেন জাকির: উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র-ঘাটসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে বহ্মপুত্র নদের পানি। এ নদে পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর প্রাবাহিত হচ্ছে।গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত হচ্ছে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এ তথ্য জানানো হয়। তাদের কন্ট্রোলরুম থেকে বলা হয়- ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ও ঘাঘটের পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়া ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি এসব নদ-নদীর পানি হুহু করে বেড়েই চলেছে। পানির তাণ্ডবে ইতোমধ্যে সদর উপজেলার কামারজনির রায়দাসবাড়ী, খামারজানিসহ আরো বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার বাঁশহাটা, চিনিরপটল, পবনতাইড়, হলদিয়া, পালপাড়া, চকপাড়া, থৈকরপাড়া, মুন্সিরহাট এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়েছে পড়েছে। সেই সঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলার খাটিয়ামারী, গজারিয়া ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর, বেলকা, কাপাসিয়া, চণ্ডিপুর এবং তারাপুরে নিস্নাঞ্চল পানির নিচে রয়েছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরের ভেতর জমেছে হাঁটুপানি। নিমজ্জিত হয়েছে কৃষি ফসল। সহ্স্রাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও গবাদীপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। অনেকে আশ্রয় নিচ্ছে অন্যত্র। ফলে বন্যার্ত মানুষগুলো বিশুদ্ধপনিসহ খাদ্যা সংকটে পড়েছে। সবমিলে বন্যা কবলিত পরিবারে দুর্ভোগ বেড়েছে অনেকটাই। পানির তাণ্ডপে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। হুমকির মুখে বিভিন্ন বাঁধসহ ফুলছড়ি উপজেলা নীলকুঠি আশ্রয়ন প্রকল্পটি।
ঘাঘট নদের তীরের বাসিন্দা আলফাজ উদ্দিন জাগো২৪.নেট-কে জানান, তার ঘরে হাঁটু পানি জমেছে। অন্যত্র আশ্রয় নিতে না পারায় বাঁশ দিয়ে খাট উঁচু করে বসবাস করেছেন পানির উপরেই। এতে করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তার।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়া মানুষদের সহায়তা করা হবে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 









