তোফায়েল হোসেন জাকির: অচেনা জাতের এক প্রাণি। দেখতে শিয়ালের মতই। দিনের বেলায় মাঠ-ঘাটে মানুষকে একা পেলেই করছে আক্রমণ। কামড়ে ছিরে নিচ্ছে শরীরের বিভিন্ন অংশ। আর রাতের বেলা আক্রমণ করছে কুকুরের ওপর। এমন ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে একজনের। একই সঙ্গে বাড়ছে আহতদের সংখ্যা।
এই ঘটনাটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ও মনোহরপুর ইউনিয়ের বিভিন্ন গ্রামে ঘটেই চলেছে। এই প্রাণিটির ভয়ে শিক্ষার্থীরা বন্ধ করেছে স্কুল-কলেজ যাওয়া। লাঠিসোঁডা নিয়ে দলবেধে মাঠে কাজ করছে কৃষকরা। এমনকি লাঠি হাতে হাট-বাজারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ সাড়ছে চরম আতঙ্কে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার প্রথমে ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর বেলায় উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আফছার আলী তার গরুর খাবার যোগাতে মাঠে ঘাস কাটতে যায়। এসময় হঠাৎ করে শিয়াল আকৃতির একটি প্রাণি তাকে আক্রমণ করে। এসময় তার চোখের নিচে ও বুক-পিঠে কামড়ে ছিড়ে নেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন ঝোঁপ-জঙ্গলে অবস্থান করে একদল ওই প্রাণি। দিনের বেলায় কেউ একাকি মাঠে বের হলে শুরু আক্রমণ। এর দাপটে মুহূর্তে আহত হচ্ছে মানুষেরা। এমনকি শিশু-কিশোরাও রেহাই পাচ্ছে না। এ ঘটনা একমাস অতিবাহীত হলেও এলাকা ছাড়ছে না অচেনা প্রাণিগুলো। যার ফলে ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে আহত মানুষের সংখ্যা। ইতোমধ্যে ওই প্রাণির কামড়ে মসজিদের ইমাম উকু মুন্সী মারাও গেছেন। তিনি কামড়ের শিকার হয়ে ১৮ দিন পর মারা যায়। মারা গেছে আরও তিনটি কুকুরও। এছাড়া হরিনাথপুর গ্রামের তালুক কেয়াবাড়ি গ্রামের ময়নুল ইসলামের ছেলে রাব্বী মিয়া (১০), সুমি বেগম (৩০) মনোহরপুর ইউনিয়নের খামার বালুয়া গ্রামের হামিদ মিয়া (৪৫) সহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন মানুষ আহত হয়েছেন ওই প্রাণির কামড়ে। আহত ব্যক্তিরা গাইবান্ধা সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসেবা নিচ্ছে।
ওই প্রাণির শিকার সুমি বেগম জানান, সম্প্রতি বাড়ির পাশের মাঠে কাজ করতে যান তিনি। এসময় অচেনা এক প্রাণি শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়র দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রাণিটির কামড়ের পর ক্ষতস্থানে প্রচন্ড ব্যথা ও জ্বালা-পোড়া করে। এরপর বেড়ে যায় জ্বরের তীব্রতা। এ নিয়ে আতঙ্কে চলাফেরা করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, মানুষদের আক্রমণ করা প্রাণিগুলো দেখতে শিয়ালের মতো। ফাঁকা স্থানে মানুষকে একা পেলে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এ ঘটনার ভয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে লাঠিসোঁডা নিয়ে গ্রাম পাহারা দিতে হচ্ছে।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হরিনাথাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)সদস্য কুদ্দুস মিয়া জানান, ওই প্রাণির হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষকে নিরাপদে থাকতে বলা হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত একটি প্রাণিকে মেরে ফেলা হয়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান নয়ন জানান, কোন জাতের এই প্রাণি তা সঠিক বলা যাচ্ছে না। তবে দেখতে অনেকটাই শিয়ালের মতোই। এ প্রাণির আক্রমণের শিকার আর কেউ যেন না হয়, সেবিষয়ে মানুষদের সাবধানে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 


















