প্রতিবন্ধীর ভাগ্যে জুটেনি হুইল চেয়ার। শীর্ষক সংবাদটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘জাগো২৪.নেট’ এ প্রকাশ হয়। এরপর এ সংবাদটি নজরে পড়ে এক ব্যক্তির। অবশেষে তাকে দেওয়া হল একটি হুইল চেয়ার।
শনিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ ব্যাপারীর মেয়ে প্রতিবন্ধী কোহিনুরকে হুইল চেয়ার প্রদান করে ওই ব্যক্তি।
নাম প্রকাশ না করা না শর্তে ওই ব্যক্তি জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এখনও সমাজে অনেক অসহায় মানুষ সুবিধাবঞ্চিত রয়েছে। তাদের পাশে বিত্তশীল মানুষদের পাশে দাঁড়ানো দরকার। কোহিনুর সংবাদটি পড়ে অনেকটাই মর্মাহত। তাই সাধ্যমতে চেষ্টা করছি তাকে সহযোগিতা করতে।
প্রতিবন্ধী কোহিনুর বেগম বলেন, আমার দুটি পা অচল। হাতের ওপর ভর দিয়ে ভিক্ষবৃত্তি করতে হয়। একটি হুইল চেয়ারের জন্য বিভিন্ন জায়গা ঘুরেও তা পায়নি। অবশেষে এ চেয়ারটি পেয়ে অনেকটাই ভালো লাগছে। এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
উল্লেখ্য, ভিক্ষুক কোহিনুর বেগম (৫৫)। দুই পা বিকলাঙ্গ। চলাফেরায় দুই হাতই ভরসা। হাতের ওপর ভর করে পেটের দায়ে ছুটতে হয় এদিক-সেদিক। এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে হুইল চেয়ারের স্বপ্ন দীর্ঘ দিনের। কিন্তু সেটি কেনার সামর্থ নেই । এটির জন্য ঘুরেছেন বিভিন্ন জিও-এনজিও সংস্থায়। এছাড়াও দ্বারে দ্বারে পৌঁছেছেন বিত্ত্ববান ও জনপ্রতিনিধিদের নিকট। কিন্তু তার ভাগ্যে আজও জুটেনি একটি হুইল চেয়ার।
কোহিনুরের বয়স যখন ৭, তখন মারা যায় পিতা ইউসুফ ব্যাপারী। জীবদ্দশায় এই পিতা ছিলেন একজন দিনমজুর। সহায় সম্পদ হিসেবে ৩ শতক জমিতে রয়েছে বসতবাড়ি। পিতার মৃত্যুর পর মাতা আমেনা বেগমের সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। জীবিকার তাগিদে আমেনা বেগম বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তি। এরই মধ্যে বড় হয়ে উঠে কোহিনুর। প্রায় ৩৫ বছর আগে দিনাজপুর জেলায় বিয়ে হয় কোহিনুরের। সেখানে কয়েক বছর ঘর সংসার করাকালে স্বামী মুংলু মিয়া তালাক দেয়। এরপর বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় মায়ের সঙ্গে। দুমঠো অন্ন যোগাতে ঘুরতে হচ্ছে অন্যের দুয়ারে দুয়ারে। সারাদিন ঘুরে মাসহ দুজন মিলে যেটুকু পান এ দিয়ে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ তাদের।
ধারাবাহিকতায় গত ৪ বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে কোহিনুর। এসময় সঠিক চিকিৎসার অভাবে তার দুটি পা বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। তখন থেকে প্রতিবন্ধী জীবনে দুই হাতে ভর করে এবং ঘোস পেরে চলাচল করতে হচ্ছে কোহিনুরকে। এভাবেই পেটের দায়ে ছুটতে হচ্ছে মানুষের বাড়িতে। সম্প্রতি মা আমেনা বেওয়াও বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে। বর্তমানে মা-মেয়ের শরীরে নানা রোগের বাসা বেঁধেছে। ওষুধ কিনে খেয়ে সুস্থ হবেন, এমন টাকাও নেই তাদের। নুন আন্তে পান্থা ফুরায় অবস্থা। যেন মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁ। একেবারই থমকে গেছে তাদের জীবন-জীবিকা। বিদ্যমান পরিস্থিতে একটি হুইল চেয়ারের প্রয়োজন কোহিনুরের। কিন্তু এই চেয়ার কেনার সামর্থও নেই। এটি পেতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তার ভাগ্যে জুটেনি একই হুইল চেয়ার। অবশেষে জাগো২৪.নেট-এ সংবাদ প্রকাশে কোহিনুর পেলেন হুইল চেয়ার।
স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, বার্তা২৪.নেট 









