দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে প্রতিবেশীর প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে ৩টি পরিবারের সদস্যরা ২৪দিন যাবৎ পানিবন্দী হয়ে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। এছাড়াও ওই ৩টি অসহায় পরিবারের নামে মামলা দিয়ে পুরুষদের ঘর ছাড়া করেছে প্রতিপক্ষরা। এ সুযোগে গাছ কর্তন করে পৈত্রিক জমি দখল করে বাড়ির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে বাড়ির ভিতরে জলবদ্ধতার সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে ওই ৩টি পরিবার জলাবদ্ধতায় ২৪ দিন যাবত মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সুকদেবপুর গ্রামের পালপাড়ায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দেয়া অভিযোগে জানা গেছে, স্থানীয় প্রদীপ মহন্ত, কৃষ্ণ মহন্ত ও তাদের পিতা কৃপা মহন্ত অবৈধভাবে সুবাস মহান্তর জমি দখল করার চেষ্টা করে এবং বেশ কয়েকটি মুল্যবান গাছ কর্তন করে। শুধু তাই নয়-তারা বসত বাড়ির পানি নিষ্কাশনের রাস্তাও বন্ধ করে দেয়। ফলে বাড়ির ভিতরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সুবাস ও তার দুই ছেলের পরিরবারের সদস্যরা।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী সুবাস চন্দ্র মোহন্ত বলেন, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও চিরিরবন্দর থানা মারফতে সালিশে বসলেও প্রদীপ মহন্তের কাগজ ঠিক না থাকায় তাদের পক্ষে রায় হয়। কিন্তু প্রদীপ মহন্ত সালিশের রায় উপেক্ষা করে গাছ কাটাসহ পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে করে গত ২৪দিন যাবত বাড়িতে পানি বন্দী হয়ে নিদারুন কষ্টে বসবাস করছি। তিনি আরো বলেন, উক্ত সম্পত্তির দলিল, নামজারি ও বাংলাদেশ রেকর্ডে তার নিজ নামে আছে। প্রতিপক্ষ প্রদীপ মোহন্ত এখন পর্যন্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতেছি।
অপরদিকে, প্রদীপ মোহন্তের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তার স্ত্রী পুর্ণিমা রানী সাংবাদিকদের সাখে দূর্ব্যবহারসহ অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ ছাড়াও সংবাদ প্রকাশ করলে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকী প্রদান করেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী ও আওয়ামী লীগ নেতা উত্তম কুমার বর্মণ বলেন, প্রদীপের স্ত্রীর অশালীণ ও উগ্র আচরণের কারণেই থানাসহ কোথাও সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
থানার এস আই তাজুল ইসলাম জানান, ওই ব্যাপারে বেশ কয়েকবার থানায় বৈঠক করেও কোন সমাধান করা যায়নি। প্রদীপ মোহন্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। যেহেতু জমিজমা বিষয়, সেহেতু থানা থেকে কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র আইনশৃংখলা স্বাভাবিক রাখার জন্য উভয়পক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আব্দুলপুর ইউনিয়নে পরিষদের চেয়ারম্যান ময়েনউদ্দীন শাহ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি যত দ্রæত সম্ভব উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে মিমাংসার জন্য চেষ্টা করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে জলাবদ্ধতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 


















