সরিষার মাঠে মধু উৎপাদনে ব্যস্ত দিনাজপুরের তরুণ মৌ-খামারিরা। জেলাকে বেকারত্বমুক্ত করতে মৌ-খামার স্থাপন করে তরুণদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মোসাদ্দেক হোসেন। পাশাপাশি দিনাজপুরকে মধুর জেলা হিসেবে গড়ে তুলতেও কাজ করছেন তিনি। মোসাদ্দেক হোসেনের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রথম পর্যায়ে পাঁচ তরুণকে মৌ-খামারি হিসেবে গড়তে মৌবাক্স প্রদান করেছে দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসন। আর এসব তরুণকে নিয়ে সরিষার মাঠে হাতে-কলমে শিখিয়ে গড়ে তুলছেন মোসাদ্দেক হোসেন।
সরিষা, কালিজিরা, লিচু, ধনিয়া, খেসারি, মিষ্টিকুমড়া থেকে নভেম্বর-এপ্রিল পর্যন্ত টানা মধু উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌ-চাষিরা মধু সংগ্রহ করে লাভবান হন। অন্যদিকে, মৌমাছির মাধ্যমে মুকুলের পরাগায়ন ঘটায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক। এতে বেকারত্ব যেমন দূর হচ্ছে, তেমনি সরিষার ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৌ-খামারি মোসাদ্দেক হোসেন কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ এবং বিসিক থেকে নিয়েছেন প্রশিক্ষণ। সম্ভাবনাময় মৌখামারে বদলেছে তার ভাগ্য। হয়েছেন স্বাবলম্বী।
এ বছর ১০০ মৌবাক্স নিয়ে ৪ টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরিষার মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে মৌ-খামার গড়ে মধু উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন আলোর পথে জাগো যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন। অল্প সময়ে মৌ-চাষেই তিনি হয়েছেন স্বাবলম্বী। মোসাদ্দেক জানান, কাঠের বাক্সে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে মৌচাকে। রানী, পুরুষ আর শ্রমিক মাছি। কাঠের বাক্সে ৮-১০টি মৌচাক থাকে। প্রতিটি চাকে রানীর সংখ্যা মাত্র একটি। প্রতি সপ্তাহে বাক্স থেকে মধু আহরণ করা যায়। একটি বাক্সে খরচ হয় ৩ হাজার টাকা। সরকারি সহযোগিতা নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী বেকারত্ব দূরীকরণসহ সবার কাছে শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করার আশা করছি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মর্তুজা আল মুঈদ জাগো২৪.নেট-কে জানান, দিনাজপুরে ব্যাপক সরিষা ও লিচু উৎপাদন হয়। সরিষা ও লিচুর ফুল থেকে মধু উৎপাদন করতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন মৌ-খামারিরা। তরুণ উদ্যোক্তাদের আত্মনির্ভরশীল করতে স্থানীয় উদ্যোগকে প্রসারিত করতে মোসাদ্দেকসহ তরুণদের সহযোগিতা করছি। লিচুর খ্যাতির পাশাপাশি মধুর খ্যাতি দিনাজপুরের তরুণদের সাফল্য অর্জনেও সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















