নিভৃত গ্রামাঞ্চলের কিশোরী (১৭)। সৌরভ সরকার (১৯) নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয় সৌরভ। এর ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে মোফেলা । এমন বিষয়টি জেনে সঁটকে পড়ে প্রেমিক সৌরভ।
এমতাবস্থায় কিশোরীর গর্ভে জন্ম হয় একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। এখন এই সন্তানের পিতৃ পরিচয়ে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পায়নি কোনো সমাধা। এঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর (কৃষ্ণপুর) গ্রামে সদ্য ভূমিষ্ট সন্তানকে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় কিশোরীকে। এসময় চোখেমুখে হতাশা ও কলঙ্কের গ্লানি নিয়ে অঝড়ে কাঁদছিল সে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মহেশপুর (কৃষ্ণপুর) গ্রামের বাদল সরকারের ছেলে সৌরভ সরকার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একই গ্রামের মৃত জনৈকের মেয়ের প্রেম-ভালোবাসা গড়ে ওঠে। এরপর প্রেমিক সৌরভ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোফেলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়। ধারাবাহিকতায় কিশোরীকে বিয়ে করবে মর্মে ঢাকাসহ বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিয়ে প্রায় এক মাস দৈহিক মিলন করে সৌরভ।
এরপর নানা কৌশলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মোফেলাকে। এরই মধ্যে মাথাঘোরা ও বমি বমি ভাব হলে গত ৫ সেপ্টেম্বর কিশোরীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩১ সপ্তাহ ধরে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে জানান কর্তবরত চিকিৎসক। এ অবস্থায় প্রেমিক সৌরভকে বিয়ের কথা বলা হলে অস্বীকৃতি জানায় সে। বাধ্য হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ গাইবান্ধায় মামলা করেছে কিশোরী। মামলাটি বিচারাধীন চলা অবস্থায় ৫ নভেম্বর পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় কিশোরী।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে ওই কিশোরী জানায়, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার যৌন মিলনে লিপ্ত হয় সৌরভ সরকার। কিন্তু বিয়ের কথা বলা হলেও সেটি মেনে নিচ্ছে না তার পরিবার। এমনকি সৌরভও গা-ঢাকা দিয়েছে।
কিশোরী আরও বলে, আমার দিনমজুর বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। মাকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছি। নবজাতকের খাদ্যের যোগান দিতে পারছি না। এখন কে হবে এই সন্তানের পিতা? সেটির বিচার চাই।
এ দিকে, নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় অনেকে জানান, কিশোরীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সত্য। কিন্তু সৌরভের পরিবার প্রভাবশালী হওয়া মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না কেউ।
তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করে সৌরভের পিতা বাদল সরকার বলেন, আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মামলা করেছে। মোফেলার চরিত্র অনেকটাই খারাপ। বিভিন্ন ছেলেকে দেহ দিয়ে থাকে। সেটি এখন আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সুজন সরকার জানান, এ ঘটনাটি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি সমাধা করা সম্ভব হয়নি। এখন আদালতের রায় কিংবা ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে জানা যাবে কে এই সন্তানের পিতা।
স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, বার্তা২৪.নেট 
















