বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তেলের দাম বৃদ্ধিতে হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে সরিষার চাষ

দেশি বাজারে সোয়াবিন, সরিষা, পামেল, ডিজেল সহ বিভিন্ন প্রকার তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে সরিষার চাষ। গত বছর হিলিতে ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হলেও এবছর সেই সরিষার চাষ হয়েছে ১৪৪০ হেক্টর জমি। আবার জেলাতেও ১৯ শতাংশ বেশি চাষ হয়েছে সরিষার। মৌমাছিরা মেতে উঠেছে মধু সংগ্রহে।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) হিলির বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান কাটা-মাড়াই করে ঐজমিতে ধানচাষিরা সরিষার চাষ করেছে। মাঠে মাঠে হলুদের সমাহার, প্রকৃতি সেজেছে হলুদ সাজে, প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি প্রেমিদের। মাঠে-ঘাটে, গ্রাম-গঞ্জে আর রাস্তায় সরিষার ফুলের সুভাষ ছড়াচ্ছে, মুগ্ধ হচ্ছে পথচারীরা। আবার মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌমাছিরা।
দেশে ভৈষজ তেলের চাহিদা তুলোনায় উৎপাদন কম। এসব ভৈষজ তেলে আমদানি করতে হয় বাহির দেশের থেকে। বাহির থেকে আমদানিকৃত তেলের মুল্য বৃদ্ধি দিন দিন বেড়ে চলছে। তেলের দাম স্বাভাবিক রাখতে এবং চাহিদা মেটাতে সরিষার চাষ বৃদ্ধি করেছে সরিষার চাষিরা।
আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের পর ঐজমিতে গোবর, ডেব ও ফসফেট সার দিয়ে মাটি তৈরি করে সরিষার বীজ রোপন করেছেন কৃষকেরা।
ডিজেল তেলের দাম বাড়ায় সরিষার আবাদ বেশি করছেন তারা। কারণ সরিষা চাষ করতে পানির প্রয়োজন হয় না। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে কৃষকের খচর হয় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় কৃষকরা সরিষা উৎপাদন করে থাকে ৫ থেকে ৬ মণ।
হিলির জালালপুর গ্রামের সরিষা চাষি তপন কুমার বলেন, দেশে তেলের দাম বেড়েয় চলছে, তাই দেশের চাহিদা মেটাতে আমি সরিষার চাষ করছি। আমি প্রতি বছর বাড়ির জন্য ১৫ শতক সরিষা চাষ করতাম। কিন্তু মানুষের চাহিদা পুরন করতে আরও ১৫ শতক বেশি সরিষার চাষ করেছি।
ডাঙ্গাপাড়ার রেজাউল করিম বলেন, প্রতিবছর আমি এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে আসছি। এবছর দুই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। তেলের দাম বেশি এবং তেলের চাহিদা মেটাতে আমি বেশি করে সরিষার চাষ করছি।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষকেরা। তবে গত বছর এই উপজেলায় সরিষার চাষ হয়েছিলো ৮৩০ হেক্টর জমিতে। আমরা মোট ৯৬০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার প্রদান করেছি।
এবিষয়ে দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহো জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এবছর জেলায় সরিষার চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৩ হাজার হেক্টর জমি। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষকেরা। গত সরিষা মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২০ হাজার মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হয়েছিলো। আশা করছি এবছর ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিকটন সরিষার ফলন হবে।

তেলের দাম বৃদ্ধিতে হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে সরিষার চাষ

প্রকাশের সময়: ০৪:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১
দেশি বাজারে সোয়াবিন, সরিষা, পামেল, ডিজেল সহ বিভিন্ন প্রকার তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে সরিষার চাষ। গত বছর হিলিতে ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হলেও এবছর সেই সরিষার চাষ হয়েছে ১৪৪০ হেক্টর জমি। আবার জেলাতেও ১৯ শতাংশ বেশি চাষ হয়েছে সরিষার। মৌমাছিরা মেতে উঠেছে মধু সংগ্রহে।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) হিলির বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান কাটা-মাড়াই করে ঐজমিতে ধানচাষিরা সরিষার চাষ করেছে। মাঠে মাঠে হলুদের সমাহার, প্রকৃতি সেজেছে হলুদ সাজে, প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি প্রেমিদের। মাঠে-ঘাটে, গ্রাম-গঞ্জে আর রাস্তায় সরিষার ফুলের সুভাষ ছড়াচ্ছে, মুগ্ধ হচ্ছে পথচারীরা। আবার মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌমাছিরা।
দেশে ভৈষজ তেলের চাহিদা তুলোনায় উৎপাদন কম। এসব ভৈষজ তেলে আমদানি করতে হয় বাহির দেশের থেকে। বাহির থেকে আমদানিকৃত তেলের মুল্য বৃদ্ধি দিন দিন বেড়ে চলছে। তেলের দাম স্বাভাবিক রাখতে এবং চাহিদা মেটাতে সরিষার চাষ বৃদ্ধি করেছে সরিষার চাষিরা।
আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের পর ঐজমিতে গোবর, ডেব ও ফসফেট সার দিয়ে মাটি তৈরি করে সরিষার বীজ রোপন করেছেন কৃষকেরা।
ডিজেল তেলের দাম বাড়ায় সরিষার আবাদ বেশি করছেন তারা। কারণ সরিষা চাষ করতে পানির প্রয়োজন হয় না। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে কৃষকের খচর হয় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় কৃষকরা সরিষা উৎপাদন করে থাকে ৫ থেকে ৬ মণ।
হিলির জালালপুর গ্রামের সরিষা চাষি তপন কুমার বলেন, দেশে তেলের দাম বেড়েয় চলছে, তাই দেশের চাহিদা মেটাতে আমি সরিষার চাষ করছি। আমি প্রতি বছর বাড়ির জন্য ১৫ শতক সরিষা চাষ করতাম। কিন্তু মানুষের চাহিদা পুরন করতে আরও ১৫ শতক বেশি সরিষার চাষ করেছি।
ডাঙ্গাপাড়ার রেজাউল করিম বলেন, প্রতিবছর আমি এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে আসছি। এবছর দুই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। তেলের দাম বেশি এবং তেলের চাহিদা মেটাতে আমি বেশি করে সরিষার চাষ করছি।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষকেরা। তবে গত বছর এই উপজেলায় সরিষার চাষ হয়েছিলো ৮৩০ হেক্টর জমিতে। আমরা মোট ৯৬০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার প্রদান করেছি।
এবিষয়ে দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহো জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এবছর জেলায় সরিষার চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৩ হাজার হেক্টর জমি। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষকেরা। গত সরিষা মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২০ হাজার মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হয়েছিলো। আশা করছি এবছর ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিকটন সরিষার ফলন হবে।