বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান সেভ দ্য রোড-এর

একই দিনে দুটি সংগঠনের বিশাল পার্থক্যসহ প্রতিবেদনের ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়েছে সেভ দ্য রোড।

আকাশ-সড়ক-রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত রাখার লক্ষ্যে একমাত্র স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী ও মহাসচিব শান্তা ফারজানা ৯ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন- বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে- একই দিনে দুটি সংগঠনের প্রতিবেদনে দুই রকম তথ্য দেয়া হয়েছে এবং সেই তথ্যের পার্থক্যও বিশাল। একটি সংগঠন বলছে- ৪ হাজার ২৮৯ এবং অন্য আরেকটি সংগঠন বলছে- ৬ হাজার ২৮৪ জন নিহত হয়েছে সড়কপথ দুর্ঘটনায়। আমরা মনে করি- যদি গবেষণা সেল-এর মাধ্যমে এ কাজটি করা হয়; তাহলে সেভ দ্য রোড ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর যে তথ্য দিয়েছিলো, তা-ই সত্য প্রমাণিত হবে। কেননা, সেভ দ্য রোড প্রতিদিনের তথ্য, প্রতিদিন লিপিবদ্ধ করে। আর তাই গত ১৪ বছর যাবৎ সেভ দ্য রোড, সঠিক তথ্যই গণমাধ্যমকে দিয়ে আসতে পেরেছে। সেভ দ্য রোড-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছিলো- ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সড়কপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৫১২ আর ক্ষতি হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। চলতি সড়কপথ দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৩৭০ জন নিহত হন। তাতে গড়ে আহত হন প্রতিদিন ১৯৬ জন। ২০১৭ সালে নৌ দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতর সংখ্যা বস থাকলেও ২০২১ সালে এসে ৭১২ টি নৌপথ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৬৬ জন। রেলপথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৮ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৩৮ জন।

সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালে এসে সড়কপথে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ৮ দিনে ২০ টি জাতীয় দৈনিক, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সারাদেশে সেভ দ্য রোড-এর স্বেচ্ছাসেবিদের তথ্যানুযায়ী- ৪ শ ৭৭ টি সড়কপথ দুর্ঘটনায় ১১৮ জন মৃত্যুবরণ করেছে; আহত হয়েছে ২ শ ৮৮ জন। ১১ টি নৌপথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৭ জন এবং ১২ টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। তবে সড়কপথে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে মোটর সাইকেলে; যা প্রতিহত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদেরকে হতে হবে আরো সচেতন-সক্রিয় ও নীতিবান এবং চালক-যাত্রীদেরকে অবশ্যই আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক পথ চলতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, গত ১৪ বছর ধরে ৪ পথ দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে গবেষণা-সচেতনতা তৈরি এবং রাজপথে গণমূখি কর্মসূচি ভিত্তিক পথচলায় আমরা বারবার যে ৭ দফা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, সেই ৭ দফা বাস্তবায়ন হলেই ৪ পথই দুর্ঘটনামুক্ত হবে বলে আমরা বিশ^াস করি। সেই ৭ দফা হলো- ১. বঙ্গবন্ধু ফুটবল লীগের খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কপথ দুর্ঘটনায় নিহত অর্ধশত শিশু-কিশোর-এর স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সচেতনতা তৈরিতে রাষ্ট্রিয় ভূমিকা পালন। ২. ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে। ৩. সড়কপথ পথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেস বিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতিত চালক-সহযোগি নিয়োগ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. স্থল-নৌ-রেল ও আকাশ পথ দুর্ঘটনায় নিহতদের কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ সরকারীভাবে দিতে হবে।  ৫. ‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. পথ দুর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিত করণের মধ্য দিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের পূর্ব পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সকল পথের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ৭. ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতু সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ে দূর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে ভাঙা পথ, ভাঙা সেতু আর ভাঙা কালভার্টের কারণে নতুন করে কাউকে প্রাণ দিতে না হয়।

ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান সেভ দ্য রোড-এর

প্রকাশের সময়: ০১:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২২

একই দিনে দুটি সংগঠনের বিশাল পার্থক্যসহ প্রতিবেদনের ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়েছে সেভ দ্য রোড।

আকাশ-সড়ক-রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত রাখার লক্ষ্যে একমাত্র স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী ও মহাসচিব শান্তা ফারজানা ৯ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন- বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে- একই দিনে দুটি সংগঠনের প্রতিবেদনে দুই রকম তথ্য দেয়া হয়েছে এবং সেই তথ্যের পার্থক্যও বিশাল। একটি সংগঠন বলছে- ৪ হাজার ২৮৯ এবং অন্য আরেকটি সংগঠন বলছে- ৬ হাজার ২৮৪ জন নিহত হয়েছে সড়কপথ দুর্ঘটনায়। আমরা মনে করি- যদি গবেষণা সেল-এর মাধ্যমে এ কাজটি করা হয়; তাহলে সেভ দ্য রোড ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর যে তথ্য দিয়েছিলো, তা-ই সত্য প্রমাণিত হবে। কেননা, সেভ দ্য রোড প্রতিদিনের তথ্য, প্রতিদিন লিপিবদ্ধ করে। আর তাই গত ১৪ বছর যাবৎ সেভ দ্য রোড, সঠিক তথ্যই গণমাধ্যমকে দিয়ে আসতে পেরেছে। সেভ দ্য রোড-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছিলো- ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সড়কপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৫১২ আর ক্ষতি হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। চলতি সড়কপথ দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৩৭০ জন নিহত হন। তাতে গড়ে আহত হন প্রতিদিন ১৯৬ জন। ২০১৭ সালে নৌ দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতর সংখ্যা বস থাকলেও ২০২১ সালে এসে ৭১২ টি নৌপথ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৬৬ জন। রেলপথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৮ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৩৮ জন।

সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালে এসে সড়কপথে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ৮ দিনে ২০ টি জাতীয় দৈনিক, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সারাদেশে সেভ দ্য রোড-এর স্বেচ্ছাসেবিদের তথ্যানুযায়ী- ৪ শ ৭৭ টি সড়কপথ দুর্ঘটনায় ১১৮ জন মৃত্যুবরণ করেছে; আহত হয়েছে ২ শ ৮৮ জন। ১১ টি নৌপথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৭ জন এবং ১২ টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। তবে সড়কপথে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে মোটর সাইকেলে; যা প্রতিহত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদেরকে হতে হবে আরো সচেতন-সক্রিয় ও নীতিবান এবং চালক-যাত্রীদেরকে অবশ্যই আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক পথ চলতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, গত ১৪ বছর ধরে ৪ পথ দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে গবেষণা-সচেতনতা তৈরি এবং রাজপথে গণমূখি কর্মসূচি ভিত্তিক পথচলায় আমরা বারবার যে ৭ দফা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, সেই ৭ দফা বাস্তবায়ন হলেই ৪ পথই দুর্ঘটনামুক্ত হবে বলে আমরা বিশ^াস করি। সেই ৭ দফা হলো- ১. বঙ্গবন্ধু ফুটবল লীগের খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কপথ দুর্ঘটনায় নিহত অর্ধশত শিশু-কিশোর-এর স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সচেতনতা তৈরিতে রাষ্ট্রিয় ভূমিকা পালন। ২. ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে। ৩. সড়কপথ পথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেস বিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতিত চালক-সহযোগি নিয়োগ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. স্থল-নৌ-রেল ও আকাশ পথ দুর্ঘটনায় নিহতদের কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ সরকারীভাবে দিতে হবে।  ৫. ‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. পথ দুর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিত করণের মধ্য দিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের পূর্ব পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সকল পথের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ৭. ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতু সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ে দূর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে ভাঙা পথ, ভাঙা সেতু আর ভাঙা কালভার্টের কারণে নতুন করে কাউকে প্রাণ দিতে না হয়।