তোফায়েল হোসেন জাকিরঃ গাইবান্ধায় অব্যাহত রয়েছে হাড়কাঁপানো শীত। এ শীতেও গ্রামাঞ্চলে বসে নেই কেউ। শীতকে উপেক্ষা করে হাঁটুকাদায় নেমেছে কৃষক-শ্রমিকরা। এ কাদায় রোপন শুরু করেছে ইরি ধানের চারা। এসব চারা থেকে ফসল নিয়ে মৌলিক চাহিদা পুরণে স্বপ্নে দেখছেন তারা।
বুধবার (১২ জানুয়ারি) গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের মাঠে দেখা যায় কৃষক-শ্রমিকের ব্যস্ততা। এসময় জমি প্রস্তুতসহ কেউ কেউ তুলছিলেন ইরি-বোরো ধানচারা। আবার কেউ বা রোপন কাজে কোমর বেঁধে কাদা মাটিতে নেমেছিলেন।
জানা গেছে, শষ্য ভাণ্ডার জেলা হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা জেলা। এ জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ফসলের ওপর নির্ভশীল। এসবের মধ্যে তাদের প্রধান ফসল হচ্ছে ইরি-বোরো ধান। এ দিয়ে জীবিকা নির্বাহের স্বপ্ন দেখেন তারা। এবারও তা ব্যর্তয় ঘটেনি। এ স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিতে এরই মধ্যে বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে তা রোপন করতে শুরু করেছে।গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় এক লাখ ২৭ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে ধানচারা রোপন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৩ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত ধান থেকে প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯০৯ মেট্রিকটন চাল পাওয়া যেতে পারে।
কৃষক খাদেমুল ইসলাম বলেন, গেল আমন মৌসুমে ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পূষিয়ে নিতে এ বছর দুই একর জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে এক বিঘা জমিতে রোন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আরেক কৃষক এনামুল হক জানান, আবওহা অনুকুল ও সার-কীটনাশকের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবার আশানুরূপ ফলন ঘরে তোলা সম্ভব।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া জাগো২৪.নেট-কে জানান, চারা রোপনের কয়েক দিনের মধ্যে জমিতে পার্চিং বসানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে অধিক ফলনের কলা-কৌশলও শেখানো হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বেলাল উদ্দিন জাগো২৪.নেট-কে জানান, কৃষকরা যাতে করে ভালো ফলন পান, সে লক্ষ্যে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট: 









