গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা (দক্ষিণপাড়া) গ্রামে ভূমিদুস্যু মনির উদ্দিন গং কর্তৃক অসহায় রেজাউল গংদের ক্রয়কৃত জমি জোড়পৃর্বক জবর দখল নিতে নানা অপপ্রচার, মামলা ও হুমকী প্রদর্শন করার অভিযোগ উঠেছে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাফি সরকার তার সৎ ভাই ফয়েজ উদ্দিনের নিকট থেকে ৪০৪ নং এস,এ খতিয়ানের ৬৬৪ নং দাগ ১০ শতাংশ ও ৬৮৩ নং দাগে ৮ শতাংশসহ মোট ১৮ শতাংশ জমি গত ০২/০৫/১৯৭৮ইং সালে ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসাকালীন মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর ৩ ছেলে নজরুল, রেজাউল ও শাহিন উক্ত জমি পৈত্রিক সূত্রে ভোগ দখল করে আসছেন।
এমতাবস্থায় ভাগী শরীক মোজামা বেওয়া, মোসলেম, আঙ্গুর ও ফরিদুল গংরা উক্ত জমি ১৯৯০ইং সালে ভুমি জরিপের সময় অতি গোপনে তাদের নামে রেকর্ড করায় লোকজন মারফত দখল চাঁন।
এ ব্যাপারে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব কলহের সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষ বিষয়টি নিয়ে জামালপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজার স্বরনাপন্ন হলে তিনি গত ২৮/০২/২০২১ইং তারিখে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। উক্ত সালিশী সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিপক্ষ মনির উদ্দিন গংরা মৃতঃ আঃ কাফী সরকারের ছেলে রেজাউল গংদের নামীয় জমি অতি গোপনে সুকৌশলে রেকর্ড করেছেন বলে স্বীকার করেন এবং তা সংশোধনের জন্য অঙ্গীকার করেন। এরপর সংশোধন তো দুরের কথা বরং উক্ত জমিটি অবৈধ ভাবে দখলে নেয়ার নানা কৌসল অবলম্বন করেন।
এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ বাদশা- মনির গংরা জমি জবর দখল, ভয়ভীতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটালে রেজাউলসহ ৩ জন আহত হয়ে সাদুল্লাপুর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- জি,আর ৩৩৪/২১।

মামলা দায়েরের ফলে প্রতিপক্ষরা কয়েকজন জামিনে এসে বাদীকে ফাঁসাতে গত ১০ জানুয়ারি মনির উদ্দিন ও তার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে মর্মে ৯৯৯ লাইনে ফোন করে পুলিশকে অবগত করলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা না পেয়ে ফিরে যান। অবস্থার বেগতিক দেখে মনির উদ্দিন আবারও ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য ১৭/১/২২ইং হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে বাদী রেজাউল করিম জানান, তর্কিত জমিটি আমার পিতার ১৯৭৮ ইং সালে ক্রয়কৃত। আমরা ওয়ারিশ সুত্রে তখন থেকে ভোগ দখল করে আসছি। আসামীরা রের্কড সংশোধন না করায় বিষয়টি বিজ্ঞ সাদুল্লাপুর সহকারী জজ আদালত, গাইবান্ধায় একটি আইন ও ইকুইটির বিধান মোতাবেক ঘোষণা মূলক মামলা চলমান আছে। আসামী মনির-বাদশা গংরা মামলার রায়ে জমি পেলে আমরা ছেড়ে দিব। কিন্তু মামলা চলাকালিন প্রতিপক্ষ আতিকুর, খায়রুল, মোজামা বেওয়া, বাদশা, ইদ্রিস, আঙ্গুর, সাদেকুল ও খোকা গংরা বিভিন্ন অপপ্রচারসহ জোরপূর্বক জমি দখল, ভয়ভীতি ও খুন জখমের হুমকী প্রদর্শন করায় নিরুপায় হয়ে রেজাউল বাদী হয়ে গাইবান্ধা বিজ্ঞ আদালতে ১০৭/১১৭(সি) ধারা এবং ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৪৪/১৪৫ ধারায় ২টি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ৫৭৮ ও ৬১৮/২০২১ইং।
এ মামলা থেকে রেহাই পেতে আসামীরা একের পর এক ফন্দি-ফিকির করে জমি জবর দখলের পায়তারা করে আসছেন। বিষয়টি সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী রেজাউল ও তার পরিবার।
স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, জাগো২৪.নেট 


















