বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে যৌতুকের দায়ে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় লিমা খাতুন (২৭) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে তার স্বামী। আহত লিমা খাতুন গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় থানা একটি মামলা দায়ের হয়।

সোমবার দুপুরে মামলার বিবরণে ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কিশামত বাগচি গ্রামের আব্দুল মান্নান আকন্দের মেয়ে লিমা খাতুনের সঙ্গে কেশালীডাঙ্গা গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার বিয়ে হয়। প্রায় ৯ বছর আগে এ বিয়ের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় ২ সন্তান। এরই মধ্যে স্বামী আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বিভিন্ন সময়ে লিমা খাতুনের কাছে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করছিলেন। এ দাবি পুরণ করতে না পারায় লিমার উপর নেমে আসে শারীরিক ও অমানসিক নির্যাতন। অব্যাহত এ নির্যাতন নিরবে সহ্য করে ঘর সংসার চলাকালে গত ১৭ জানুয়ারি দুপুরের দিকে মধ্য হাটবামুনি গ্রামের রুবেল মিয়া ও তার স্ত্রী নুরহাজান বেগমের শলাপরামর্শে আব্দুর রাজ্জাক মিয়া আবারও লিমা খাতুনের কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এতে অপরাগতা জানালে রাজ্জাক মিয়া উত্তেজিত হয়ে লিমা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করতে থাকে। এসময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে লিমাকে প্রাণে রক্ষা করে। এরপর আহত লিমার শারীরিক অবস্থার অবনতির খরব পেয়ে বাবার বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে ১৯ জানুয়ারি গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে এ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে লিমা খাতুন। এ ঘটনায় ২১ জানুয়ারি লিমার বাবা আব্দুল মান্নান আকন্দ বাদি হয়ে সাদুল্লাপুর থানা একটি মামলা দায়ের করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লিমার বাবা আব্দুল মান্নান মিয়া এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে রাজ্জাক মিয়া গ্রেফতার হয়। তবে অন্যান্য আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আমাকে মামলা তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাকিবুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে  বলেন, মামলার অন্যতম আসামি আব্দুর রাজ্জাক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সাদুল্লাপুরে যৌতুকের দায়ে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

প্রকাশের সময়: ০১:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় লিমা খাতুন (২৭) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে তার স্বামী। আহত লিমা খাতুন গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় থানা একটি মামলা দায়ের হয়।

সোমবার দুপুরে মামলার বিবরণে ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কিশামত বাগচি গ্রামের আব্দুল মান্নান আকন্দের মেয়ে লিমা খাতুনের সঙ্গে কেশালীডাঙ্গা গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার বিয়ে হয়। প্রায় ৯ বছর আগে এ বিয়ের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় ২ সন্তান। এরই মধ্যে স্বামী আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বিভিন্ন সময়ে লিমা খাতুনের কাছে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করছিলেন। এ দাবি পুরণ করতে না পারায় লিমার উপর নেমে আসে শারীরিক ও অমানসিক নির্যাতন। অব্যাহত এ নির্যাতন নিরবে সহ্য করে ঘর সংসার চলাকালে গত ১৭ জানুয়ারি দুপুরের দিকে মধ্য হাটবামুনি গ্রামের রুবেল মিয়া ও তার স্ত্রী নুরহাজান বেগমের শলাপরামর্শে আব্দুর রাজ্জাক মিয়া আবারও লিমা খাতুনের কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এতে অপরাগতা জানালে রাজ্জাক মিয়া উত্তেজিত হয়ে লিমা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করতে থাকে। এসময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে লিমাকে প্রাণে রক্ষা করে। এরপর আহত লিমার শারীরিক অবস্থার অবনতির খরব পেয়ে বাবার বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে ১৯ জানুয়ারি গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে এ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে লিমা খাতুন। এ ঘটনায় ২১ জানুয়ারি লিমার বাবা আব্দুল মান্নান আকন্দ বাদি হয়ে সাদুল্লাপুর থানা একটি মামলা দায়ের করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লিমার বাবা আব্দুল মান্নান মিয়া এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে রাজ্জাক মিয়া গ্রেফতার হয়। তবে অন্যান্য আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আমাকে মামলা তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাকিবুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে  বলেন, মামলার অন্যতম আসামি আব্দুর রাজ্জাক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।