বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু

দিনাজপুরের খানসামার পাকেরহাটে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের দাবি ক্লিনিকে সিজারের পর রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসক না থাকায় সঠিক চিকিৎসাসেবা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন রোগীর চিকিৎসায় আমাদের কোন ধরনের গাফিলতি ছিল না।

জানা গেছে, শনিবার বিকেলে উপজেলার টংগুয়া গ্রামের ধরপাড়ার আবু সায়েমের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৫) এর প্রসব ব্যাথা শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে পাকেরহাট লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে আসে। পরে ওই ক্লিনিকের দায়িত্বরত নার্সরা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করার পর রোগীর স্বজনদের আগ্রহে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম সিজার করে চলে যান। এরপর প্রসূতির রক্তক্ষরণ শুরু হলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে প্রসূতি ও নবজাতককে নার্স ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এরপরও তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে প্রথমে নবজাতক ও পরে ভোর ৪টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এ্যাম্বুুলেন্স ম্যানেজ করে দিয়ে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতির মৃত্যু হয় এবং তার কিছু সময় পর নবজাতকেরও মৃত্যু হয়। এর আগেও কিছুদিন আগে পাকেরহাটের ইনফিনিটি ক্লিনিকে এক প্রসূতি ও মমতাজ ক্লিনিকে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

প্রসূতির পরিবার জানান, চিকিৎসকের ভুলে সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের নাড় কেটে ফেলে। পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে পাঠান। সেখানে ভর্তির পরপরই প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসাসেবায় আমাদের কোন ধরনের ঘাটতি ছিল না। সিজারের পর নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে প্রসূতির রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে আমরাই এ্যাম্বুুলেন্স ম্যানেজ করে তাকে নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেলে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা গেছেন। এর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

অপারেশনকারী সার্জন ডা. রবিউল ইসলামের মুঠোফোন ও খুদে বার্তায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এধরনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু কারো কাম্য নয়। বিষয়টি জানার পর তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খানসামায় লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু

প্রকাশের সময়: ০৫:৪১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

দিনাজপুরের খানসামার পাকেরহাটে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের দাবি ক্লিনিকে সিজারের পর রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসক না থাকায় সঠিক চিকিৎসাসেবা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন রোগীর চিকিৎসায় আমাদের কোন ধরনের গাফিলতি ছিল না।

জানা গেছে, শনিবার বিকেলে উপজেলার টংগুয়া গ্রামের ধরপাড়ার আবু সায়েমের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৫) এর প্রসব ব্যাথা শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে পাকেরহাট লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে আসে। পরে ওই ক্লিনিকের দায়িত্বরত নার্সরা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করার পর রোগীর স্বজনদের আগ্রহে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম সিজার করে চলে যান। এরপর প্রসূতির রক্তক্ষরণ শুরু হলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে প্রসূতি ও নবজাতককে নার্স ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এরপরও তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে প্রথমে নবজাতক ও পরে ভোর ৪টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এ্যাম্বুুলেন্স ম্যানেজ করে দিয়ে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতির মৃত্যু হয় এবং তার কিছু সময় পর নবজাতকেরও মৃত্যু হয়। এর আগেও কিছুদিন আগে পাকেরহাটের ইনফিনিটি ক্লিনিকে এক প্রসূতি ও মমতাজ ক্লিনিকে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

প্রসূতির পরিবার জানান, চিকিৎসকের ভুলে সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের নাড় কেটে ফেলে। পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে পাঠান। সেখানে ভর্তির পরপরই প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসাসেবায় আমাদের কোন ধরনের ঘাটতি ছিল না। সিজারের পর নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে প্রসূতির রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে আমরাই এ্যাম্বুুলেন্স ম্যানেজ করে তাকে নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেলে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা গেছেন। এর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

অপারেশনকারী সার্জন ডা. রবিউল ইসলামের মুঠোফোন ও খুদে বার্তায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এধরনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু কারো কাম্য নয়। বিষয়টি জানার পর তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।