বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পানির তলে কৃষকের স্বপ্ন

তোফায়েল হোসেন জাকিরঃ সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলা দিয়ে বয়ে গেছে  টানা তিনদিনের বৃষ্টি। এতে নিচু ভূমির রবিশস্য ও  ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এতে ক্ষতি হয়েছে ফসলি জমি এবং আরও নষ্টের আশঙ্কায় তাদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

সরেজমিনে (৭ ফেব্রুয়ারি) গাইবান্ধা জেলার মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে কৃষি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। এ অঞ্চলের ইরি ধানের ও আলুসহ বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজির ক্ষেতগুলো বাঁচানোর চেষ্টায় নানা কৌশল অবলম্বন করছে।

জানা যায়, কৃষি নির্ভশীল জেলা গাইবান্ধা। এ জেলার অধিকাংশ মানুষের কৃষি ফসলের ওপর ভরসা। এরই মধ্যে জীবিকা নির্বাহের স্বপ্নে মাঠে বুনেছে ইরি ধানের চারা। একই সঙ্গে আবাদ করা হয়েছে ভূট্রা, কলা, আলু , বেগুন, কপি, ক্ষিরা, টমোটো, গাজোরসহ প্রভৃতি জাতের রবিশস্য। এসব রবিশস্য ক্ষেত থেকে ইতোমধ্যে ফসল ঘরে তুলতে শুরু করছিলেন কৃষকরা। সঠিক দাম ও অধিক ফলন পাওয়ার সম্ভাবনায় তাদের মুখে ফুটেছিল হাসির ঝিলিক। কিন্তু বিধিবাম! যেন আষাঢ়ের বাদল নেমেছে মাঘের শেষে। এ মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতে কপাল পুড়লো তাদের। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তছনছ করেছে ফসলি জমি। পানিতে ডুবে রয়েছে ওইসব ইরি ধানসহ  রবিশস্যের ক্ষেত। এ কারণে অনেকের আলুসহ বিভিন্ন ধরণের ফসলহানী হয়েছে। আরও রয়েছে ক্ষতির আশঙ্কা। অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষকের অপুরণীয় ক্ষতি হলেও, এমন ক্ষতির তথ্য নেই কৃষি বিভাগে। কৃষকরা কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নিবে তা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।

জেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১ লাখ ২২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ইরি ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। এ ছাড়ার মাঠে রয়েছে ৮ হাজার ৬০০ হেক্টর আলু ও অন্যান্য শাক-সবজি রয়েছে ১০ হাজার ৩১৮ হেক্টর জমিতে।

এদিকে, ওইসব ফসলের মধ্যে অসময়ের বৃষ্টিতে প্রায় সহস্রাধিক হেক্টর ইরি ধানের ক্ষেত ও আলুসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এছাড়া পানিতে নিমজ্জিত থাকা ফসল ক্ষেতগুলো আরও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে কৃষকদের দাবি। তবে কৃষকের এমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষক মকুল চন্দ্র জানান, আলুসহ এক একর জমিতে রবিশস্য আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে এসব ফসল বিক্রিও শুরু করছিলেন। সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ৪০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে। আরও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক কৃষক খয়বর রহমান বলেন, দুই বিঘা জমিতে ইরি ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে এক বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন দ্রুত পানি সরে না গেলে সম্পন্ন চারা নষ্ট হতে পারে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক বেলাল উদ্দিন জাগো২৪.নেট-কে জানান, সম্প্রতি বৃষ্টিতে কোন ফসলের ক্ষতি হয়নি। পানিতে ডুবে থাকা ফসলগুলোর যাতে করে ক্ষতি না হয় সেবিষয়ে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পানির তলে কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশের সময়: ০৮:০৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

তোফায়েল হোসেন জাকিরঃ সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলা দিয়ে বয়ে গেছে  টানা তিনদিনের বৃষ্টি। এতে নিচু ভূমির রবিশস্য ও  ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এতে ক্ষতি হয়েছে ফসলি জমি এবং আরও নষ্টের আশঙ্কায় তাদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

সরেজমিনে (৭ ফেব্রুয়ারি) গাইবান্ধা জেলার মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে কৃষি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। এ অঞ্চলের ইরি ধানের ও আলুসহ বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজির ক্ষেতগুলো বাঁচানোর চেষ্টায় নানা কৌশল অবলম্বন করছে।

জানা যায়, কৃষি নির্ভশীল জেলা গাইবান্ধা। এ জেলার অধিকাংশ মানুষের কৃষি ফসলের ওপর ভরসা। এরই মধ্যে জীবিকা নির্বাহের স্বপ্নে মাঠে বুনেছে ইরি ধানের চারা। একই সঙ্গে আবাদ করা হয়েছে ভূট্রা, কলা, আলু , বেগুন, কপি, ক্ষিরা, টমোটো, গাজোরসহ প্রভৃতি জাতের রবিশস্য। এসব রবিশস্য ক্ষেত থেকে ইতোমধ্যে ফসল ঘরে তুলতে শুরু করছিলেন কৃষকরা। সঠিক দাম ও অধিক ফলন পাওয়ার সম্ভাবনায় তাদের মুখে ফুটেছিল হাসির ঝিলিক। কিন্তু বিধিবাম! যেন আষাঢ়ের বাদল নেমেছে মাঘের শেষে। এ মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতে কপাল পুড়লো তাদের। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তছনছ করেছে ফসলি জমি। পানিতে ডুবে রয়েছে ওইসব ইরি ধানসহ  রবিশস্যের ক্ষেত। এ কারণে অনেকের আলুসহ বিভিন্ন ধরণের ফসলহানী হয়েছে। আরও রয়েছে ক্ষতির আশঙ্কা। অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষকের অপুরণীয় ক্ষতি হলেও, এমন ক্ষতির তথ্য নেই কৃষি বিভাগে। কৃষকরা কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নিবে তা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।

জেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১ লাখ ২২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ইরি ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। এ ছাড়ার মাঠে রয়েছে ৮ হাজার ৬০০ হেক্টর আলু ও অন্যান্য শাক-সবজি রয়েছে ১০ হাজার ৩১৮ হেক্টর জমিতে।

এদিকে, ওইসব ফসলের মধ্যে অসময়ের বৃষ্টিতে প্রায় সহস্রাধিক হেক্টর ইরি ধানের ক্ষেত ও আলুসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এছাড়া পানিতে নিমজ্জিত থাকা ফসল ক্ষেতগুলো আরও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে কৃষকদের দাবি। তবে কৃষকের এমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষক মকুল চন্দ্র জানান, আলুসহ এক একর জমিতে রবিশস্য আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে এসব ফসল বিক্রিও শুরু করছিলেন। সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ৪০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে। আরও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক কৃষক খয়বর রহমান বলেন, দুই বিঘা জমিতে ইরি ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে এক বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন দ্রুত পানি সরে না গেলে সম্পন্ন চারা নষ্ট হতে পারে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক বেলাল উদ্দিন জাগো২৪.নেট-কে জানান, সম্প্রতি বৃষ্টিতে কোন ফসলের ক্ষতি হয়নি। পানিতে ডুবে থাকা ফসলগুলোর যাতে করে ক্ষতি না হয় সেবিষয়ে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।