বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজের কেজি ৫ টাকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এবার হালি বা মূল পদ্ধতির পেঁয়াজ আবাদ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। বস্তুত, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না তাঁরা। পেঁয়াজ আবাদের মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় ও পেঁয়াজ বীজে ত্রুটি থাকায় অনেকের গাছে এবার ফুল ধরেছে।

এসব পেঁয়াজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না বলে কৃষকেরা পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। সে কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, বাজারে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তাতে ন্যায্যমূল্য তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠছে না। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এ বছর সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে দিগুণ। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে হাটে বিক্রি করতে এনেছেন চাষিরা। হাটের চারদিকে পেঁয়াজের ছড়াছড়ি।

পাইকারদের হাঁকডাকে বাজার সরগরম। সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা। পেঁয়াজচাষিরা জানান, সবচেয়ে ভালো পেঁয়াজ প্রতি মণ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না। গুনতে হচ্ছে লোকসান। কৃষকদের দাবি, তাদের প্রতি মণ পেঁয়াজে লোকসান যাচ্ছে ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। পেঁয়াজ উৎপাদন করতে তাদের যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, তাতে করে পেঁয়াজের মূল্য বাজারে কম হওয়ায় লাভের চেয়ে লোকসান হচ্ছে বেশি। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা না হলে লোকসান আরও বাড়বে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুরের চর অঞ্চলের পেঁয়াজচাষি হবি মিয়া জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আমি ৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বেলকা ইউনিয়নের কৃষক নাজু মিয়া বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। গড়ে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত আবাদ হয়নি। এছাড়া পেঁয়াজের বাজার মূল্য কম থাকায় আমাদের লাভ হবে না। মীরগঞ্জ হাটের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কায়ছার আলম বাপ্পী বলেন, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। সে কারণে পেঁয়াজের দাম কম। মানভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল কবির জাগো২৪.নেট-কে  বলেন, এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদনে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট হলেও আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভরা মৌসুম বলে এখন একটু পেঁয়াজের দাম কম। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে। এ বছর উপজেলা চরঞ্চলে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পেঁয়াজের কেজি ৫ টাকা

প্রকাশের সময়: ০৬:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০২২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এবার হালি বা মূল পদ্ধতির পেঁয়াজ আবাদ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। বস্তুত, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না তাঁরা। পেঁয়াজ আবাদের মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় ও পেঁয়াজ বীজে ত্রুটি থাকায় অনেকের গাছে এবার ফুল ধরেছে।

এসব পেঁয়াজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না বলে কৃষকেরা পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। সে কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, বাজারে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তাতে ন্যায্যমূল্য তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠছে না। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এ বছর সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে দিগুণ। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে হাটে বিক্রি করতে এনেছেন চাষিরা। হাটের চারদিকে পেঁয়াজের ছড়াছড়ি।

পাইকারদের হাঁকডাকে বাজার সরগরম। সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা। পেঁয়াজচাষিরা জানান, সবচেয়ে ভালো পেঁয়াজ প্রতি মণ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না। গুনতে হচ্ছে লোকসান। কৃষকদের দাবি, তাদের প্রতি মণ পেঁয়াজে লোকসান যাচ্ছে ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। পেঁয়াজ উৎপাদন করতে তাদের যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, তাতে করে পেঁয়াজের মূল্য বাজারে কম হওয়ায় লাভের চেয়ে লোকসান হচ্ছে বেশি। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা না হলে লোকসান আরও বাড়বে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুরের চর অঞ্চলের পেঁয়াজচাষি হবি মিয়া জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আমি ৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বেলকা ইউনিয়নের কৃষক নাজু মিয়া বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। গড়ে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত আবাদ হয়নি। এছাড়া পেঁয়াজের বাজার মূল্য কম থাকায় আমাদের লাভ হবে না। মীরগঞ্জ হাটের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কায়ছার আলম বাপ্পী বলেন, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। সে কারণে পেঁয়াজের দাম কম। মানভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল কবির জাগো২৪.নেট-কে  বলেন, এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদনে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট হলেও আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভরা মৌসুম বলে এখন একটু পেঁয়াজের দাম কম। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে। এ বছর উপজেলা চরঞ্চলে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।