গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরকে পৌরসভা গঠন কল্পে পিছিয়ে ছিলো তিনটি ইউপির ভোটগ্রহণ। এ নিয়ে নানা জল্পানা-কল্পনার সৃষ্টি হয়। অবশেষে সোমবার (২৫ এপ্রিল) তফসিল ঘোষণা হওয়া আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারেরা।
সোমবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সাদুল্লাপুর শহরের চৌমাথা মোড়ে পটকা ফুটিয়ে আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হোটেল-পান-চা’র দোকানেও ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী গল্পে মুখরিত হয়ে উঠছিল। আবার কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়।
জানা যায়, সাদুল্লাপুরকে পৌরসভা বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার জামালপুর, বনগ্রাম ও কামারপাড়া ইউনিয়নের ১৬টি মৌজা নিয়ে প্রাথমিক গেজেট প্রকাশিত হয়। ইতিমধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউপির ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় জামালপুর, বনগ্রাম ও কামারপাড়া ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হয়নি। এই জটিলতার কারণে তিনটি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে উপজেলার ওই তিনটি ইউনিয়নসহ আগামী ১৫ জুন ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), ৬টি পৌরসভা ও একটি উপজেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের লক্ষে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন-ইসি’র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিলে বলা হয় পূর্বের সীমানায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সবগুলোতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সরকারের এসব নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ মে, বাছাই ১৯ মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে, প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ জুন।
এদিকে এই তফসিল ঘোষণার পর থেকে সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর, বনগ্রাম ও কামারপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পটকা ফুটানোসহ মিষ্টি বিতরণের চিত্র দেখা গেছে। সেই সঙ্গে চলছে ভোটার ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নানা হিসাব-নিকাশ। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তফসিলের স্ট্যটাস পোষ্ট দিয়েছেন। সবমিলে সরব হয়ে উঠেছে জামালপুর, বনগ্রাম ও কামারপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
জামালপুর ইউনিয়নের ভোটার হাসান আলী বলেন, এই তফসিল ঘোষণায় একজন সম্ভাব্য প্রার্থী আমাকে মিষ্টি খাওয়াছেন। এটিই হচ্ছে নির্বাচনী আমেজ।
বনগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হোসনে আরা চাম্পা জাগো২৪.নেট-কে জানান, প্রায় দেড় বছর আগে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরই মধ্যে পৌরসভা গঠন প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে যায় ভোটগ্রহণ। অবশেষে তফসিল ঘোষণা হওয়ায় অনেকটাই ভালো লাগছে তার। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন করেবন তিনি। জয়ী হতে পারলে সমাজের অবহেলীত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করবেন।
সদস্য পদে আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী শাহ আলম মিয়া জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আাগামী ১৫ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণায় আমি অনেকটাই আনন্দিত। শুধু আমিই নই, সাধারণ ভোটারদের মাঝেও স্বস্তি ফিরেছে।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম রেজা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে। এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের মিষ্টি খাওয়ানো হয়েছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, জাগো২৪.নেট 












