বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে নকল বিএডিসির আলু বীজে কৃষকের সর্বনাশ!

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বীজ ডিলারের কাছ থেকে নকল আলু বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন কৃষকরা। বিএডিসির বস্তায় নকল আলু বীজ প্যাকেটজাত করে বিক্রি করায় কৃষকরা সর্বশান্ত হয়েছে। এতে বীজ পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আলুর গাছ।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসির বীজ ডিলার সাধারণ আলু রিপ্যাক করে বীজ আলু হিসেবে বিক্রি করেন। এতে বিএডিসির বস্তায় নকল বীজ সরবরাহ করা হয়। ফলে নকল আলু বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অসংখ্য কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকেরা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বিএডিসির সিনিয়র সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

জানা গেছে, উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারের বিএডিসির অনুমোদিত বীজ ডিলার একরামুল হকের কাছ থেকে ২’শ বস্তা আলু বীজ কিনে রোপণ করেন সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় ও দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল গ্রামের প্রায় অর্ধশত কৃষক। এসব আলু বীজে অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে রোপন করা আলু গাছ পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। অধিকাংশ জমির আলু গাছ গজায়নি। এমনকি গজানো আলু গাছ ফেঁপে ও পাতা কুঁকড়ে মরে যাচ্ছে। রোগপ্রতিরোধে বালাইনাশক ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী কৃষক। এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রতিটি কৃষকের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ এসব কৃষক বিভিন্ন এনজিওতে ধার-দেনা করে আলুর বীজ রোপন করেছেন। কিন্তু তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে বিএডিসির নকল বীজ। ফসল নষ্ট হওয়ায় ধার-দেনার টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকের । কৃষকদের দাবি, সাধারণ খাবারের আলু বিএডিসির মোড়কে রিপ্যাক করে তাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তাই নকল বীজ সরবরাহ করায় অভিযুক্ত ডিলারের বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। সেই সাথে ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা।

একই গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আক্তারুজ্জামান ১২ বিঘা, উত্তর বামনজল গ্রামের মৃত ফরিজ উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম ২ বিঘা, গোলাম আলীর ৭ বিঘা, নয়া মিয়ার ছেলে আব্দুল মতিনের ৭ বিঘাসহ কম পক্ষে ৫০ বিঘা জমির আলুখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অধিকাংশ আলু চাষি ব্যাংক, এনজিও এমনকি উচ্চ সুদে দাদন নিয়ে আলু চাষ করে ডিলারের প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপুরুণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক শাহাদাৎ হোসেন সরদার বলেন, ‘ডিলার একরামুল হকের কাছ থেকে বিএডিসির আলু বীজ কিনে ৭ বিঘা জমিতে রোপণ করেছি। কিন্তু নিম্নমানের বীজ হওয়ায় গাছ গজানোর পর পাতা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে।’ একই গ্রামের আক্তারুজ্জামান বলেন, বিএডিসির বীজ ডিলার নকল আলু সরবরাহ করায় আমরা প্রতারিত হয়েছি। জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা যেহেতু ঋণ করে জমিতে আলু রোপন করেছি, তাই অভিযুক্ত ডিলারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।

এ বিষয়ে বিএডিসির বীজ ডিলার একরামুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলু বীজ রোপণের পর চারা গজানোর পরে শুকিয়ে যাওয়ার দায় আমার নয়। আমি যে পেয়েছি তাই বিক্রি করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুন্দরগঞ্জে নকল বিএডিসির আলু বীজে কৃষকের সর্বনাশ!

প্রকাশের সময়: ০৭:১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বীজ ডিলারের কাছ থেকে নকল আলু বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন কৃষকরা। বিএডিসির বস্তায় নকল আলু বীজ প্যাকেটজাত করে বিক্রি করায় কৃষকরা সর্বশান্ত হয়েছে। এতে বীজ পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আলুর গাছ।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসির বীজ ডিলার সাধারণ আলু রিপ্যাক করে বীজ আলু হিসেবে বিক্রি করেন। এতে বিএডিসির বস্তায় নকল বীজ সরবরাহ করা হয়। ফলে নকল আলু বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অসংখ্য কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকেরা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বিএডিসির সিনিয়র সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

জানা গেছে, উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারের বিএডিসির অনুমোদিত বীজ ডিলার একরামুল হকের কাছ থেকে ২’শ বস্তা আলু বীজ কিনে রোপণ করেন সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় ও দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল গ্রামের প্রায় অর্ধশত কৃষক। এসব আলু বীজে অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে রোপন করা আলু গাছ পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। অধিকাংশ জমির আলু গাছ গজায়নি। এমনকি গজানো আলু গাছ ফেঁপে ও পাতা কুঁকড়ে মরে যাচ্ছে। রোগপ্রতিরোধে বালাইনাশক ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী কৃষক। এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রতিটি কৃষকের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ এসব কৃষক বিভিন্ন এনজিওতে ধার-দেনা করে আলুর বীজ রোপন করেছেন। কিন্তু তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে বিএডিসির নকল বীজ। ফসল নষ্ট হওয়ায় ধার-দেনার টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকের । কৃষকদের দাবি, সাধারণ খাবারের আলু বিএডিসির মোড়কে রিপ্যাক করে তাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তাই নকল বীজ সরবরাহ করায় অভিযুক্ত ডিলারের বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। সেই সাথে ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা।

একই গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আক্তারুজ্জামান ১২ বিঘা, উত্তর বামনজল গ্রামের মৃত ফরিজ উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম ২ বিঘা, গোলাম আলীর ৭ বিঘা, নয়া মিয়ার ছেলে আব্দুল মতিনের ৭ বিঘাসহ কম পক্ষে ৫০ বিঘা জমির আলুখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অধিকাংশ আলু চাষি ব্যাংক, এনজিও এমনকি উচ্চ সুদে দাদন নিয়ে আলু চাষ করে ডিলারের প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপুরুণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক শাহাদাৎ হোসেন সরদার বলেন, ‘ডিলার একরামুল হকের কাছ থেকে বিএডিসির আলু বীজ কিনে ৭ বিঘা জমিতে রোপণ করেছি। কিন্তু নিম্নমানের বীজ হওয়ায় গাছ গজানোর পর পাতা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে।’ একই গ্রামের আক্তারুজ্জামান বলেন, বিএডিসির বীজ ডিলার নকল আলু সরবরাহ করায় আমরা প্রতারিত হয়েছি। জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা যেহেতু ঋণ করে জমিতে আলু রোপন করেছি, তাই অভিযুক্ত ডিলারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।

এ বিষয়ে বিএডিসির বীজ ডিলার একরামুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলু বীজ রোপণের পর চারা গজানোর পরে শুকিয়ে যাওয়ার দায় আমার নয়। আমি যে পেয়েছি তাই বিক্রি করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।