বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরিরবন্দরে জেঁকে বসেছে শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিপাকে পড়েছেন চিরিরবন্দরের খেটে খাওয়া মানুষ। কয়েক দিন ধরে কিছুক্ষণের জন্য রোদের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তাপ ছড়াতে পারছে না সূর্য। এ কারণে দিনভর শীতে জবুথবু থাকতে হচ্ছে। শেষ হয়েছে পৌষ মাস। পড়েছে মাঘ। শোনা যাচ্ছে মাঘ মাসের হাঁড়কাপানি শীতের পদধ্বনি। এরই মধ্যে শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে মাঝে মাঝে ঢাকা পড়ছে পুরো উপজেলা। কনকনে শীতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ কষ্ট পোহাচ্ছে। শীতের কারণে সন্ধ্যা হতে না হতেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে জনমুখর স্থানগুলো। দিনের বেলায় নিরুত্তাপ সূর্যের দেখা মিললেও বিকেল থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীতের খেটে-খাওয়া বিশেষ করে দিনমজুর, ভবঘুরে, গরীব, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। সময়মত কাজে যেতে পারছেন না তারা। কাজে যেতে না পারায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীত আর ঘন কুয়াশা সঙ্গে বইছে ঠান্ডা বাতাস। আর ক্রমেই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে কমছে তাপমাত্রা। অপরদিকে প্রচন্ড শীতে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। এখন পর্যন্ত শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কোন শিশু বা বৃদ্ধের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি।

অটোভ্যান চালক মতিউর রহমান বলেন, ‘ঠান্ডার চোটত হাত-পা ক্যান-ক্যান করছে। জীবন শেষ হলো কি করম। বাচ্চাগুলা কি খাবে। মনে হচ্ছে হাত-পার রগ জড়ো হয়ে যাওছে। ঠান্ডার জন্য হাত দিয়ে হ্যান্ডেল ঠিক মতোন ধরতে পারওছি না। রিকশা চালানাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এভাবে চললে কি আর হবে। টানাটানির সংসারের কারণে বাধ্য হয়ে দুপুরে অটোভ্যান নিয়ে কাজের জন্য বের হইছি।’

উপজেলার নান্দেড়াই গ্রামের কৃষক শওকত আলী জানান, ‘বোরো চাষাবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন তারা। কিন্তু কনকনে শীত ও বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির কারণে তাদের সেই বীজতলা প্রায় নষ্ট হতে বসেছে। বীজতলার উপরে পলিথিন দিয়ে শীতের হাত থেকে বীজতলা রক্ষা করা হচ্ছে।’

একরামুল হক নামে এক দিনমজুর জানান, ‘ঠান্ডার কারণে হারা কাজে যেতে পারছি না। ফলে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করওছি।’

উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ কবির হোসেন বলেন, ‘এই শিতে খুব কষ্ট পাওচি বারে। আর বুজি বাচা যায় না। দরকার ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাওচে না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আজমল হক বলেন, ‘তীব্র শীতের ফলে ফুসফুসের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এসব রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও আমাশয়জনিত রোগীর সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাঝে ৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

চিরিরবন্দরে জেঁকে বসেছে শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশের সময়: ১০:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১

ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিপাকে পড়েছেন চিরিরবন্দরের খেটে খাওয়া মানুষ। কয়েক দিন ধরে কিছুক্ষণের জন্য রোদের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তাপ ছড়াতে পারছে না সূর্য। এ কারণে দিনভর শীতে জবুথবু থাকতে হচ্ছে। শেষ হয়েছে পৌষ মাস। পড়েছে মাঘ। শোনা যাচ্ছে মাঘ মাসের হাঁড়কাপানি শীতের পদধ্বনি। এরই মধ্যে শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে মাঝে মাঝে ঢাকা পড়ছে পুরো উপজেলা। কনকনে শীতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ কষ্ট পোহাচ্ছে। শীতের কারণে সন্ধ্যা হতে না হতেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে জনমুখর স্থানগুলো। দিনের বেলায় নিরুত্তাপ সূর্যের দেখা মিললেও বিকেল থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীতের খেটে-খাওয়া বিশেষ করে দিনমজুর, ভবঘুরে, গরীব, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। সময়মত কাজে যেতে পারছেন না তারা। কাজে যেতে না পারায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীত আর ঘন কুয়াশা সঙ্গে বইছে ঠান্ডা বাতাস। আর ক্রমেই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে কমছে তাপমাত্রা। অপরদিকে প্রচন্ড শীতে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। এখন পর্যন্ত শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কোন শিশু বা বৃদ্ধের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি।

অটোভ্যান চালক মতিউর রহমান বলেন, ‘ঠান্ডার চোটত হাত-পা ক্যান-ক্যান করছে। জীবন শেষ হলো কি করম। বাচ্চাগুলা কি খাবে। মনে হচ্ছে হাত-পার রগ জড়ো হয়ে যাওছে। ঠান্ডার জন্য হাত দিয়ে হ্যান্ডেল ঠিক মতোন ধরতে পারওছি না। রিকশা চালানাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এভাবে চললে কি আর হবে। টানাটানির সংসারের কারণে বাধ্য হয়ে দুপুরে অটোভ্যান নিয়ে কাজের জন্য বের হইছি।’

উপজেলার নান্দেড়াই গ্রামের কৃষক শওকত আলী জানান, ‘বোরো চাষাবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন তারা। কিন্তু কনকনে শীত ও বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির কারণে তাদের সেই বীজতলা প্রায় নষ্ট হতে বসেছে। বীজতলার উপরে পলিথিন দিয়ে শীতের হাত থেকে বীজতলা রক্ষা করা হচ্ছে।’

একরামুল হক নামে এক দিনমজুর জানান, ‘ঠান্ডার কারণে হারা কাজে যেতে পারছি না। ফলে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করওছি।’

উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ কবির হোসেন বলেন, ‘এই শিতে খুব কষ্ট পাওচি বারে। আর বুজি বাচা যায় না। দরকার ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাওচে না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আজমল হক বলেন, ‘তীব্র শীতের ফলে ফুসফুসের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এসব রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও আমাশয়জনিত রোগীর সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাঝে ৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।