ব্যতিক্রম ধর্মী এক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সদালাপী ও অত্যন্ত সুমিষ্টভাষী মানুষ হাজী ফেরাজউদ্দিন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে একাধারে তিনি বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় নিজ খরচে পবিত্র কোরআন শরিফের গিলাফ এবং পায়খানায় ঢিলা-কুলুখ সরবরাহ করে আসছেন। বিনিময়ে তিনি কারও কাছ থেকে প্রতিদানস্বরূপ কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না। তিনি নীরবে নিজ খরচে এই সেবা করে যাচ্ছেন। মানুষের সেবা করাই হচ্ছে তাঁর ধর্ম। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮২ বছর। তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়েছে। স্ত্রীও বর্তমান রয়েছে। হাজী ফেরাজউদ্দিন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের চকমুশা গ্রামের মৃত নঈমউদ্দীনের বড় ছেলে। আগে হাজী ফেরাজউদ্দিন মাটির ঢিলা-কুলুপ নিজ হাতে তৈরি করে বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসায় পৌঁছে দিতেন। এখন তিনি দোকান থেকে কাপড় ক্রয় করে দর্জি দিয়ে পবিত্র কোরআন শরিফের গিলাফ তৈরি করে চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, বিরল, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর সদর, নীলফামারীর সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার মসজিদ-মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন। প্রচারবিমুখ এই সাদা মনের মানুষ হাজী ফেরাজউদ্দিন বিগত ২০০১, ২০০৫ এবং ২০১২ সালে হজ্ব পালন করেছেন। হাজী ফেরাজউদ্দিন জানান, নিজ হাতে গড়া এক একর জমিতে লিচুর বাগান। এই লিচু বাগানের আয় থেকে তিনি সংসারের নির্দিষ্ট চাহিদা মিটিয়ে বাকি অর্থ দিয়ে পবিত্র কোরআন শরিফের গিলাফ এবং পায়খানায় ঢিলা-কুলুপ সরবরাহ করে আসছেন। তিনি আরো জানান শরীর ও স্বাস্থ্য ভাল থাকলে আরেক বার পবিত্র হজ্বে যাবেন। এ জন্য তিনি সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন।
আমবাড়ী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আফছার আলী খান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, হাজী ফেরাজউদ্দিন একজন সদালাপী ও সুমিষ্টভাষী সাদা মনের মানুষ। তিনি জীবনে কোনদিন কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদ করেননি। কেউ বলতে পারবে না। এমনকি অত্র এলাকার কারো জানাও নেই।
স্থানীয়েইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নুর এ কামাল জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখে আসছি তাঁর এ মহৎ কাজগুলো। হাজী ফেরাজউদ্দিনের ইচ্ছা মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এসব কাজ করে যেতে পারেন।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 









