শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

ডালের বড়ায় সংসার চলে তাদের

করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২

হৃদয় চন্দ্র, কৃষ্ণাবালা ও তপন চন্দ্র। আরও রয়েছে অর্ধশত নারী-পুরুষ। সবাই ডালের বড়া তৈরী কারিগর। মাষকালাইয়ের গুড়োর সাথে আতব চালের গুড়ো মিশিয়ে তৈরী করেন মুখরোচক বড়া। খুচরা-পাইকারীতে এসব বড়া বিক্রি করে যেটুকু লাভ হয়, এ দিয়েই চলে তাদের সংসার।

রোববার  (২০ নভেম্বর) গাইবান্ধা সদর উপজেলার খামার বোয়ালী গ্রামে দেখা যায় রাস্তার দুই ধার দিয়ে সারি সারি বড়া শুকানোর চালি। এ গ্রামের প্রায় ৫০ পরিবারের মানুষ এই বড়া তৈরী পেশায় ভরসা।

দৈনন্দিন সকাল হলেই কেউ মেশিনে ভেজানো ডাল তুলে দিচ্ছেন। কেউবা বড়া গুটি গুটি করছেন। আবার কেউ কেউ চাল-ডালের গুড়ো দিয়ে তৈরি বড়া শুকানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বড়াগুলো বাড়ি থেকে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করা হয়। সাড়া বছর এ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। তবে শীতকালে বড়া চাহিদা বেশি থাকে। তাই এই সময় ব্যাস্ততাও বেশি তাদের।

প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে সন্ধ্যারানী সাহা বলেন, খোসা ছাড়ানো মাষকলাইয়ের ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়। ডালগুলো আগে পাটায় বেটে নেওয়া হলেও এখন বিদ্যুৎ চালিত মেশিনে করা হয়। আধা ঘণ্টা ধরে ব্লেন্ড করতে হয়। একটি বাঁশের ডালায় বা নেটে ছোট ছোট করে সাজিয়ে কড়া রোদে বড়িগুলো শুকাতে হয়।

তপন চন্দ্র মহন্ত নামের এক কারিগর বলেন, শীতের কয়েক মাস খুব ভালো চলে। বছরের বাকি সয়ম অন্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করলে এ পেশাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো।

আরেক কারিগর হৃদয় চন্দ্র মহন্ত বলেন, বংশ পরস্পরায় পেশাকে টিকিয়ে রেখেছেন তারা। বাপ-দাদাদের দেখে আসছি বড়া তৈরি করতে। ছোট বেলা থেকে আমরাও কাজে নেমে পড়তাম। এখন আমাদের কাজ দেখে নাতি-পুতিরা লেগে পড়ে বড়া তৈরির কাজে। তবে জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ কম হয়।

কৃষ্ণারানী সাহার জানান, প্রতিদিন ৩০ কেজি থেকে একমণ বড়া তৈরি করেন তিনি। আগের দিনে চাল বাটতে হতো, ডাল বাটতে হতো। এবার মেশিন কেনায় সেটা দিয়ে অনেকটা সুবিধা হয়েছে। বেশি পরিমানে কম সময়ে তৈরি করা যায় বড়া।

নিকিল  চন্দ্র সাহা বলেন, এখন খোসা ছাড়ানো মাষকলাই ডাল কিনতে হয় ৭০০ টাকা ধরা। তবে বড়া তৈরির করে তা কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি করি। তবে লাভ যা হয় তা কোনমতে সংসার চলে।

বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু বলেন, ওই গ্রামের প্রায় অধশত পরিবার বড়া তৈরী কাজটি যুগযুগ ধরে করে আসছে। পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করা হয়।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা বিসিকের সহকারি মহাব্যবস্থাপক রবীন চন্দ্র রায় বলেন, যদি কেউ আগ্রহী থাকে তাহলে গাইবান্ধা বিসিক তার পাশে থাকবে এবং এই শিল্পকে ছড়িয়ে দিতে সার্বিক সহযোগীতাও করা হবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন