শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

চলনবিলে বাউত উৎসবে মানুষের ঢল

মাসুদ রানা, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, পাবনা
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চলনবিল অংশের রুহুল বিলে তখন ভোররাত। মাছ ধরার নানা উপকরণ নিয়ে পাবনা, নাটোর সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার নানা বয়সী সৌখিন মৎস্য শিকারি নামেন বিলে।
শীত উপেক্ষা করে গতকাল সকালে দ্বিতীয় দফার এই বাউত উৎসবকে কেন্দ্র করে বিলপাড়ে নেমেছিল মানুষের ঢল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে মাছ শিকার। এর আগে এই বিলে গত শনিবার প্রথম দফা বাউত উৎসবে মেতে উঠে এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নির্ধারিত দিনে ঘোষণা দিয়ে নির্দিষ্ট বিলে মাছ শিকার করা এ অঞ্চলের মানুষের পুরোনো প্রথা। শুধু জেলেরা নয়, সৌখিন মৎস্য শিকারিরা পলো, বাদাই, খেওয়া জাল, কারেন্ট জাল, ঠেলাজাল প্রভৃতি মাছ ধরার উপকরণ ব্যবহার করে মাছ শিকার করে থাকে। আর এ মাছ শিকারকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘বাউত উৎসব’।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে জেলার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, আটঘরিয়া, নাটোরের বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, তারাশ, উল্লাপাড়াসহ আশপাশের উপজেলার হাজার হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারি বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোবোরাক, অটোরিকশা, বাস, ট্রাক, নছিমন-করিমন যোগে এসে জমায়েত হয় বিলপাড়ে। দুপুর পর্যন্ত চলে মৎস্য শিকার। এ সময় রুই, কাতলা, শোল, গজার, বোয়াল, বিভিন্ন জাতের কার্পসহ, টাকি মাছ শিকার করেন মৎস্য শিকারিরা। অনেকে আবার মাছ না পেয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফেরে।
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া গ্রামের রইস উদ্দিন এনটিভি অনলাইনকে জানান, তাঁরা ২৯ জন এসেছেন মাছ ধরতে। একটি বড় নছিমনে করে মাছ ধরার সব উপকরণ নিয়ে আসেন তারা। তবে আশানুরূপ মাছ পাননি তাঁরা। প্রথম দফা বাউতে অনেক মাছ ধরা পড়েছিল।
তারাশের আব্দুস সালামসহ ১১ জন এসেছেন। তারা খরাজাল দিয়ে রুই ও কাতল মাছ ধরেছেন। তবে আশানুরূপ মাছ ধরতে পারেননি বলে তিনিও জানান।
পাশের উল্লাপাড়া উপজেলার দত্তখারুয়া গ্রামের খলিল চেয়ারম্যান এনটিভি অনলাইনকে জানান, মাছ ধরতে পলো নিয়ে বাউত উৎসবে অংশ নেন তিনি। অনেকে মাছ না পেলেও তিনি চারটি শোল মাছ পেয়েছেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ গ্রমের শাহ আলম জানান, তাঁরা কয়েক বন্ধু খেয়াজাল নিয়ে রুহুলবিলে মাছ ধরতে এসেছিলেন। তারা রুই, কাতল ও বোয়াল মাছ পেয়েছেন।
ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী গ্রামের কাজী জমির হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, রুহুলবিলে মাছ ধরার খবর পেয়ে ভোরবেলায় পলো নিয়ে তারা বিলপাড়ে হাজির হন। কিন্তু মাছ না পেয়ে তাদের খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। তবে তাতে আক্ষেপ নেই। বাউত উৎসবে অংশগ্রহণই একটা নেশা।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ‘এভাবে মাছ শিকার করা মাছের বংশবিস্তারের জন্য ক্ষতিকর। তবে এলাকার মানুষ প্রতিবছর এভাবে মাছ শিকারের মাধ্যমে বাউত উৎসব করে থাকে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘বাউত উৎসব এই এলাকার পুরোনো ঐতিহ্য। প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে সৌখিন মানুষ এখানে এসে মাছ শিকার করেন। এভাবে মাছ শিকারের কারণে যেন মাছের বংশ বিস্তারে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়, সে দিক খেয়াল রেখেই এই চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন