বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাঠের সাঁকোয় মানুষের দুর্ভোগ, নির্মাণ হয়নি ব্রিজ

সরকার আসে সরকার যায়। ভোট আসলে আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ব্রিজ নির্মাণের। কিন্ত আজও কথা রাখেনি কেউ। দেশ স্বাধীনের ৫১ বছরেও ঘাঘট নদীর ইব্রা মন্ডলের ঘাটে নির্মাণ হয়নি একটি ব্রিজ। ফলে সস্রাধিক মানুষের পারপারে একমাত্র নড়বড়ে কাঠের সাঁকো।

সরেজমিনে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর-রসুলপুর সীমান্তর্তী চান্দের বাজার এলাকার ঘাঘট নদীর ওপরে ওই ভাঙা সাঁকোতে দেখা যায় হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরার দৃশ্য। এসময় কেউ মোটরসাইকেল আবার কেউ কেউ বাইসাইকেল ও মালামাল নিয়ে হেঁটে পার হচ্ছিলেন নদের ওপারে।

স্থানীয়রা যায়, ওইস্থানের ইব্রা মন্ডলর ঘাটে প্রায় একদশক আগে ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে মানুষ চলাচলা করতো। এসময় নৌকাডুবির ঘটনাসহ মানুষ নানা দুর্ভোগের শিকার হয়। এরপর স্থানীয়দের আর্থিক ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় কাঠের সাঁকো। এটিও প্রত্যক বছরে পুণসংস্কার করতে হয়। সেখানে মেলেনা সরকারি বরাদ্দ। মাঝে মধ্যে কোন জনপ্রতিনিধিরা কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। সেটি চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নড়বরে ওই কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির সহস্রাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। ভোগান্তির যেন শেষ নেই। সময়ের ব্যবধানে উন্নয়নে সমাজ তথা দেশের পরিবর্তন ঘটলেও আজও উন্নয়নে পরিবর্তন হয়নি ইব্রা মন্ডলের ঘাটের এই অবস্থা। দেশ  স্বাধীনের ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সরকারের আমলেই নজরে আসেনি ওইস্থানে ব্রিজ নির্মাণে।

এই নদের উত্তরে রসুলপুর ও দক্ষিণে দামোরপুর ইউনিয়ন। দুই সীমানার মাঝামাঝি দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীর ইব্রা মন্ডলের ঘাট। এই ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত সাঁকো পারাপার হচ্ছে প্রায় ২০ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা অবহেলিত ওই ভাঙা কাঠের সাঁকো।

এই ঘাট দিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভের আশায় আলোকিত হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা পথচারীরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। আর পরিবার পরিজনরা থাকেন উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে। বর্ষা মৌসুম এলেই নদীর কানায় কানায় ভরে গেলে বেড়ে যায় আরও দুর্গতি। এছাড়াও হঠাৎ কোন রোগী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার জীবন নির্ভর করে সময়ের উপর। একটু দেরি হলেই রোগীর জীবন অসহ্য যন্ত্রণাসহ ওখানেই মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয় এই ঘাটে।  এতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক সময় বঞ্চিত হয় ক্লাস থেকে। এর আগে সাবেক এমপি মরহুম ডা. ইউনুস আলী সরকার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লবসহ দায়িত্বশীল আরও অনেকে ওইস্থানটি পরিদর্ষ করছিলেন। সেখানে তারা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

এমনই ভাবে ব্রিজের অভাবে যুগযুগ ধরে চলে আসছে মানুষের ভোগান্তি। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী এই গুরুত্বপুর্ণ স্থানে নদীর ওপরে দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এখানে ব্রিজটি নির্মাণ হলে অল্প সময়ে বিভিন্ন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে।

স্থানীয় ব্যক্তি আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন প্রয়োজনীয় কাজে কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়। এতে করে সময় নষ্টসহ ঝূঁকিতে থাকতে হয় জীবনের ভয়ে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার আবেদন করেও কাজ হয়নি।

দামোদরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি মিঠু রহমান জানান, ব্রিজটি নির্মাণ হলে লেখাপড়া, ব্যবসা বাণিজ্যসহ কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটবে। সেই সাথে দীর্ঘদিনের দাবী বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। তাই ব্রিজটি হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে দামোদরপুর ও রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লব বলেন, ইতোমধ্যে ওই কাঠের সাঁকোটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ খুবই জরুরি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।

 

কাঠের সাঁকোয় মানুষের দুর্ভোগ, নির্মাণ হয়নি ব্রিজ

প্রকাশের সময়: ০৭:১২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

সরকার আসে সরকার যায়। ভোট আসলে আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ব্রিজ নির্মাণের। কিন্ত আজও কথা রাখেনি কেউ। দেশ স্বাধীনের ৫১ বছরেও ঘাঘট নদীর ইব্রা মন্ডলের ঘাটে নির্মাণ হয়নি একটি ব্রিজ। ফলে সস্রাধিক মানুষের পারপারে একমাত্র নড়বড়ে কাঠের সাঁকো।

সরেজমিনে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর-রসুলপুর সীমান্তর্তী চান্দের বাজার এলাকার ঘাঘট নদীর ওপরে ওই ভাঙা সাঁকোতে দেখা যায় হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরার দৃশ্য। এসময় কেউ মোটরসাইকেল আবার কেউ কেউ বাইসাইকেল ও মালামাল নিয়ে হেঁটে পার হচ্ছিলেন নদের ওপারে।

স্থানীয়রা যায়, ওইস্থানের ইব্রা মন্ডলর ঘাটে প্রায় একদশক আগে ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে মানুষ চলাচলা করতো। এসময় নৌকাডুবির ঘটনাসহ মানুষ নানা দুর্ভোগের শিকার হয়। এরপর স্থানীয়দের আর্থিক ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় কাঠের সাঁকো। এটিও প্রত্যক বছরে পুণসংস্কার করতে হয়। সেখানে মেলেনা সরকারি বরাদ্দ। মাঝে মধ্যে কোন জনপ্রতিনিধিরা কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। সেটি চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নড়বরে ওই কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির সহস্রাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। ভোগান্তির যেন শেষ নেই। সময়ের ব্যবধানে উন্নয়নে সমাজ তথা দেশের পরিবর্তন ঘটলেও আজও উন্নয়নে পরিবর্তন হয়নি ইব্রা মন্ডলের ঘাটের এই অবস্থা। দেশ  স্বাধীনের ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সরকারের আমলেই নজরে আসেনি ওইস্থানে ব্রিজ নির্মাণে।

এই নদের উত্তরে রসুলপুর ও দক্ষিণে দামোরপুর ইউনিয়ন। দুই সীমানার মাঝামাঝি দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীর ইব্রা মন্ডলের ঘাট। এই ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত সাঁকো পারাপার হচ্ছে প্রায় ২০ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা অবহেলিত ওই ভাঙা কাঠের সাঁকো।

এই ঘাট দিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভের আশায় আলোকিত হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা পথচারীরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। আর পরিবার পরিজনরা থাকেন উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে। বর্ষা মৌসুম এলেই নদীর কানায় কানায় ভরে গেলে বেড়ে যায় আরও দুর্গতি। এছাড়াও হঠাৎ কোন রোগী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার জীবন নির্ভর করে সময়ের উপর। একটু দেরি হলেই রোগীর জীবন অসহ্য যন্ত্রণাসহ ওখানেই মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয় এই ঘাটে।  এতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক সময় বঞ্চিত হয় ক্লাস থেকে। এর আগে সাবেক এমপি মরহুম ডা. ইউনুস আলী সরকার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লবসহ দায়িত্বশীল আরও অনেকে ওইস্থানটি পরিদর্ষ করছিলেন। সেখানে তারা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

এমনই ভাবে ব্রিজের অভাবে যুগযুগ ধরে চলে আসছে মানুষের ভোগান্তি। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী এই গুরুত্বপুর্ণ স্থানে নদীর ওপরে দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এখানে ব্রিজটি নির্মাণ হলে অল্প সময়ে বিভিন্ন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে।

স্থানীয় ব্যক্তি আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন প্রয়োজনীয় কাজে কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়। এতে করে সময় নষ্টসহ ঝূঁকিতে থাকতে হয় জীবনের ভয়ে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার আবেদন করেও কাজ হয়নি।

দামোদরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি মিঠু রহমান জানান, ব্রিজটি নির্মাণ হলে লেখাপড়া, ব্যবসা বাণিজ্যসহ কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটবে। সেই সাথে দীর্ঘদিনের দাবী বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। তাই ব্রিজটি হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে দামোদরপুর ও রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লব বলেন, ইতোমধ্যে ওই কাঠের সাঁকোটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ খুবই জরুরি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।