বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাঝ নদীতে নিঃসঙ্গ সেতু

নদীর মাঝে নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে আছে সেতু। সেতুটি নির্মাণের প্রায় ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কেউ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারেনি। অযোগ্য ও অব্যবহৃত এ সেতু মানুষের দুর্দশা লাঘবে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিমে বালাডাঙ্গির ডাঙ্গা নামকস্থানে বেলান নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় আজও কেউ সেতুটি ব্যবহার করতে পারেননি। বর্ষা মৌসুমে নদীটিতে পানি টইটুম্বুর থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। তখন নদীর বুকে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। সারাবছর পানি ধরে রাখতে গতমাসে নদীটির খনন কাজ শুরু হয়েছে।
এ সেতুর পশ্চিম দিকে অন্তত অর্ধ-কিলোমিটার দূরে এক সময় একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। ওই সাঁকোর ওপর দিয়েই যুগ যুগ ধরে এলাকার লোকজন চলাচল করতো। সাঁকোটি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায় আর তৈরি করা হয়নি। সাঁকোর বদলে নির্মাণ করা হয় সেতুটি। এলজিএসপি-২ এর আওতায় ২০১৩-২০১৪ এবং ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সেতুটি। তবে সেতুটি জনস্বার্থে নির্মাণ করা হলেও তৈরি করা হয়নি চলাচলের রাস্তা। ফলে অব্যবহৃতই পড়ে আছে সেতুটি। এলাকার লোকজনের চলাচলের অনুপযোগী সেতুটি পড়ে থাকায় মানুষজন হারিয়ে ফেলেছেন তাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটিও।এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণেই রাস্তাটির মাটি ভরাট করা হচ্ছে না। ফলে যাতায়াতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লোকজন।
পশ্চিম হাসিমপুর গ্রামের মো. ফজর আলী বলেন, সেতুটির সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না করায় এ পথ দিয়ে আমরা চলাচল করতে পারছি না। তারা অন্তত ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার পথ ঘুরে প্রয়োজনীয় কাজে বিভিন্ন দিকে যাতায়াত করেন। এলাকার শত শত মানুষকে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। এখানে রাস্তা তৈরি করে মাটি ভরাট করা হলে মানুষের কষ্ট অনেকাংশেই লাঘব হবে।
শিক্ষার্থী খাদেমুল ইসলাম বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ কী শেষ হয়েছে? সেতুটির দুই দিকের মাথায় সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা সাধারণ মানুষজনও যাতায়াত করতে পারেন না। বর্ষার সময় আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। পশ্চিম হাসিমপুর গ্রামের শিক্ষার্থীদের ২-৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদ ও বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এখানে সেতু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী সেতুর কোন সুফলভোগ করতে পারছে না।
উত্তমপাড়া গ্রামের দ্বিজেন্দ্র নাথ রায়সহ পশ্চিম হাসিমপুর গ্রামের মিন্টু বলেন, আমরা নদীর ওপারে কৃষি জমির আবাদী ফসল অনেক কষ্ট করে নিয়ে আসি। সেতু নির্মাণ হলেও রাস্তা না থাকায় সেতুটি আমাদের গ্রামবাসীদের কোনো উপকারে আসছে না। সরকার যদি সেতুর দুই পাশে সংযোগ রাস্তা করে দিতো তবে আমাদের অনেক উপকার হতো।

মাঝ নদীতে নিঃসঙ্গ সেতু

প্রকাশের সময়: ০৬:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৩
নদীর মাঝে নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে আছে সেতু। সেতুটি নির্মাণের প্রায় ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কেউ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারেনি। অযোগ্য ও অব্যবহৃত এ সেতু মানুষের দুর্দশা লাঘবে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিমে বালাডাঙ্গির ডাঙ্গা নামকস্থানে বেলান নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় আজও কেউ সেতুটি ব্যবহার করতে পারেননি। বর্ষা মৌসুমে নদীটিতে পানি টইটুম্বুর থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। তখন নদীর বুকে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। সারাবছর পানি ধরে রাখতে গতমাসে নদীটির খনন কাজ শুরু হয়েছে।
এ সেতুর পশ্চিম দিকে অন্তত অর্ধ-কিলোমিটার দূরে এক সময় একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। ওই সাঁকোর ওপর দিয়েই যুগ যুগ ধরে এলাকার লোকজন চলাচল করতো। সাঁকোটি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায় আর তৈরি করা হয়নি। সাঁকোর বদলে নির্মাণ করা হয় সেতুটি। এলজিএসপি-২ এর আওতায় ২০১৩-২০১৪ এবং ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সেতুটি। তবে সেতুটি জনস্বার্থে নির্মাণ করা হলেও তৈরি করা হয়নি চলাচলের রাস্তা। ফলে অব্যবহৃতই পড়ে আছে সেতুটি। এলাকার লোকজনের চলাচলের অনুপযোগী সেতুটি পড়ে থাকায় মানুষজন হারিয়ে ফেলেছেন তাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটিও।এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণেই রাস্তাটির মাটি ভরাট করা হচ্ছে না। ফলে যাতায়াতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লোকজন।
পশ্চিম হাসিমপুর গ্রামের মো. ফজর আলী বলেন, সেতুটির সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না করায় এ পথ দিয়ে আমরা চলাচল করতে পারছি না। তারা অন্তত ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার পথ ঘুরে প্রয়োজনীয় কাজে বিভিন্ন দিকে যাতায়াত করেন। এলাকার শত শত মানুষকে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। এখানে রাস্তা তৈরি করে মাটি ভরাট করা হলে মানুষের কষ্ট অনেকাংশেই লাঘব হবে।
শিক্ষার্থী খাদেমুল ইসলাম বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ কী শেষ হয়েছে? সেতুটির দুই দিকের মাথায় সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা সাধারণ মানুষজনও যাতায়াত করতে পারেন না। বর্ষার সময় আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। পশ্চিম হাসিমপুর গ্রামের শিক্ষার্থীদের ২-৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদ ও বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এখানে সেতু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী সেতুর কোন সুফলভোগ করতে পারছে না।
উত্তমপাড়া গ্রামের দ্বিজেন্দ্র নাথ রায়সহ পশ্চিম হাসিমপুর গ্রামের মিন্টু বলেন, আমরা নদীর ওপারে কৃষি জমির আবাদী ফসল অনেক কষ্ট করে নিয়ে আসি। সেতু নির্মাণ হলেও রাস্তা না থাকায় সেতুটি আমাদের গ্রামবাসীদের কোনো উপকারে আসছে না। সরকার যদি সেতুর দুই পাশে সংযোগ রাস্তা করে দিতো তবে আমাদের অনেক উপকার হতো।