সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক কসাইখানা 

লালমনিরহাট পৌরসভায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। পশু জবাই বাদে বাকি সকল কাজ হবে হাতের স্পর্শ ছাড়াই। মেশিন দিয়ে কাটা হবে পশুর দেহের বিভিন্ন অংশ। এমনকি আধুনিক এই কসাইখানায় থাকবে না কোনো দুর্গন্ধ। এছাড়াও পশুর বর্জ্য থেকে তৈরি করা হবে জৈর সার, যা ফসলি জমিতে ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকেরা। পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য জবাই করা পশুর মাংস কাটতেও এই কসাইখানা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলা শহরের বিডিআর হাট এলাকায় লালমনিরহাট পৌরসভায় একটি কসাইখানা রয়েছে। যেখানে আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও খোলা জায়গায় পশু জবাই করাসহ মাংস কাটার যাবতীয় কার্যক্রম করা হয়। এমনকি গরু-ছাগলের বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে রাখার কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায়। পাশাপাশি এই কসাইখানার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে এলাকাবাসীসহ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেখানেই নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই কসাইখানা।
তাই দ্রুত সময়ে ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু, ছাগলের মাংস প্রসেসিং করতে লালমনিরহাটে নির্মাণ হচ্ছে স্লাটারিং হাউজ। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে লালমনিরহাট পৌরসভার বিডিআর হাট এলাকায় এই স্লাটারিং হাউজ নির্মানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে স্লাটারিং হাউজের মাধ্যমে গবাদিপশুর মাংস প্রসেসিং করলে গ্রাহকের অর্থ ব্যয় কমে আসার পাশাপাশি সময় ও শ্রম বাচবে। এছাড়া জবাই পরবর্তী বর্জকে পরিশোধন করবে এই স্লাটারিং হাউজ। স্লাটারিং হাউজে এক ঘন্টায় ১৫ টি গরু ও ২৯টি ছাগলের মাংস প্রসেসিং করা সম্ভব। সম্পূর্ণ হালাল পদ্ধতি অবলম্বনে ও স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে এবং দক্ষতার সাথে কাজ করবে স্লাটারিং হাউজ।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রাণিসম্পদ পরিষেবা বিভাগ। ৮কোটি ৮৯লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ কসাইখানা কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ । এ-সময় লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ও লালমনিরহাট পৌরসভার হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্লাটারিং হাউজের ভিত্তিস্থাপন শেষে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন বলেন, গরু, ছাগল জবাই করার পর যে বর্জগুলো থাকে সেগুলো পরিবেশের ক্ষতি করে। কিন্তু স্লাটারিং হাউজে গরু, ছাগলের মাংস প্রসেসিং করা হলে জবাই পরবর্তী বর্জ্য পরিশোধন হবে। এতে পরিবেশে খারাপ প্রভাব পড়বে না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ নির্মানের ধারাবাহিকতায় প্রতিটি জেলায় সরকার স্লাটারিং হাউজ নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে ১৮ টি জেলায় এই হাউজ নির্মান হচ্ছে এর মধ্যে লালমনিরহাট একটি। এই হাউজ নির্মান হলে আগামীদিনে জেলার মানুষ স্বাস্থ্য সম্মতভাবে প্রসেসিং হওয়া হালাল গবাদিপশুর মাংস পাবে। এছাড়া এখানে জবাই হওয়া গবাদিপশুর চামড়ার কোনো ক্ষতি হবে না এবং সংরক্ষিত থাকবে, ফলে উন্নতমানের চামড়া পাওয়া যাবে যা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সহজ হবে।

লালমনিরহাটে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক কসাইখানা 

প্রকাশের সময়: ০৬:১৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০২৩
লালমনিরহাট পৌরসভায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। পশু জবাই বাদে বাকি সকল কাজ হবে হাতের স্পর্শ ছাড়াই। মেশিন দিয়ে কাটা হবে পশুর দেহের বিভিন্ন অংশ। এমনকি আধুনিক এই কসাইখানায় থাকবে না কোনো দুর্গন্ধ। এছাড়াও পশুর বর্জ্য থেকে তৈরি করা হবে জৈর সার, যা ফসলি জমিতে ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকেরা। পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য জবাই করা পশুর মাংস কাটতেও এই কসাইখানা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলা শহরের বিডিআর হাট এলাকায় লালমনিরহাট পৌরসভায় একটি কসাইখানা রয়েছে। যেখানে আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও খোলা জায়গায় পশু জবাই করাসহ মাংস কাটার যাবতীয় কার্যক্রম করা হয়। এমনকি গরু-ছাগলের বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে রাখার কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায়। পাশাপাশি এই কসাইখানার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে এলাকাবাসীসহ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেখানেই নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই কসাইখানা।
তাই দ্রুত সময়ে ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু, ছাগলের মাংস প্রসেসিং করতে লালমনিরহাটে নির্মাণ হচ্ছে স্লাটারিং হাউজ। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে লালমনিরহাট পৌরসভার বিডিআর হাট এলাকায় এই স্লাটারিং হাউজ নির্মানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে স্লাটারিং হাউজের মাধ্যমে গবাদিপশুর মাংস প্রসেসিং করলে গ্রাহকের অর্থ ব্যয় কমে আসার পাশাপাশি সময় ও শ্রম বাচবে। এছাড়া জবাই পরবর্তী বর্জকে পরিশোধন করবে এই স্লাটারিং হাউজ। স্লাটারিং হাউজে এক ঘন্টায় ১৫ টি গরু ও ২৯টি ছাগলের মাংস প্রসেসিং করা সম্ভব। সম্পূর্ণ হালাল পদ্ধতি অবলম্বনে ও স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে এবং দক্ষতার সাথে কাজ করবে স্লাটারিং হাউজ।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রাণিসম্পদ পরিষেবা বিভাগ। ৮কোটি ৮৯লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ কসাইখানা কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ । এ-সময় লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ও লালমনিরহাট পৌরসভার হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্লাটারিং হাউজের ভিত্তিস্থাপন শেষে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন বলেন, গরু, ছাগল জবাই করার পর যে বর্জগুলো থাকে সেগুলো পরিবেশের ক্ষতি করে। কিন্তু স্লাটারিং হাউজে গরু, ছাগলের মাংস প্রসেসিং করা হলে জবাই পরবর্তী বর্জ্য পরিশোধন হবে। এতে পরিবেশে খারাপ প্রভাব পড়বে না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ নির্মানের ধারাবাহিকতায় প্রতিটি জেলায় সরকার স্লাটারিং হাউজ নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে ১৮ টি জেলায় এই হাউজ নির্মান হচ্ছে এর মধ্যে লালমনিরহাট একটি। এই হাউজ নির্মান হলে আগামীদিনে জেলার মানুষ স্বাস্থ্য সম্মতভাবে প্রসেসিং হওয়া হালাল গবাদিপশুর মাংস পাবে। এছাড়া এখানে জবাই হওয়া গবাদিপশুর চামড়ার কোনো ক্ষতি হবে না এবং সংরক্ষিত থাকবে, ফলে উন্নতমানের চামড়া পাওয়া যাবে যা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সহজ হবে।