শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভাবের সংসারে স্বপ্ন থেমেনি আলমগীরের 

মো. রফিকুল ইসলাম: অভাবের সংসারে লেখাপড়া থেমে গেলেও স্বপ্ন পূরণে থেমে থাকেনি আলমগীর ইসলাম (২৩)। স্বপ্ন থেকেই আজ বিমান উদ্ভাবন করে সে। সেই বিমান  আকাশে উড্ডয়ন করে এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই বিভিন্ন ইলেকট্রোনিক্স পণ্য তৈরির কাজে সময় ও অর্থ ব্যয় করছেন আলমগীর ইসলাম। তাঁর স্বপ্ন ছিল প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছলতা ও অভাবের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেই থেমে যায় আলমগীরের পড়াশোনা। এরপরও থেমে থাকেননি। নিজের সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চলেছেন আলমগীর।
ইতোমধ্যে তিনি ছোট আকারের একটি বিমান উদ্ভাবন করে ফেলেছেন। তাঁর এ উদ্ভাবিত বিমান অনন্ত  আধাঘন্টা সময় ধরে এক কিলোমিটার দূরত্বে উড়তে পারে। এ বিমান দেখতে এলাকার কয়েক গ্রামের অনেক মানুষ প্রতিদিন আলমগীরের বাড়িতে ভিড় করেন।
আলমগীর দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভান্ডারদহ গ্রামের নুরল মেম্বারপাড়ার আব্দুল মজিদ ও জাহানারা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। গত ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে থেমে যায় আলমগীরের পড়াশোনা। এরপর সে লেগে যায় পারিবারিক কাজকর্মে। এছাড়াও তিনি চুক্তিভিত্তিতে শ্যালোমেশিন দিয়ে অন্যের জমির ক্ষেতে পানি দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট এ যুবক। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই বিভিন্ন ইলেকট্রোনিক্স পণ্য তৈরির কাজে সময় ও অর্থ ব্যয় করছেন। অনলাইন ও ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে সময়ের সঙ্গে তাঁর এ উদ্ভাবনী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভান্ডারদহ গ্রামে স্থানীয় খেলার মাঠে ছোট বিমান উড়াচ্ছেন আলমগীর। এ বিমান উড়ানো প্রত্যক্ষ করতে উৎসুক মানুষের উঁপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তাঁর এ উদ্ভাবিত বিমানটি অনন্ত আধাঘন্টা সময় ধরে এক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। গত ৩-৪ বছর ধরে বিভিন্ন মডেলের বিমান তৈরি করে আকাশে উড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এতে সফল হয়েছেন গত বছর।
আলমগীর জানান, পূর্বে অনেক বিমান তৈরি করে ভেঙে ফেলেছেন। আবার নতুন করে তৈরি করেছেন। সর্বশেষ তৈরি করেছেন ছেচনা মডেলের একটি বিমান। এটি গত ডিসেম্বর মাস থেকে চূড়ান্তভাবে তৈরির কাজ করে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে শেষ হয়। এরপর বাড়ির পাশে খেলার মাঠে পরীক্ষামূলক  বিমানটি আকাশে উড়াই। এতে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। ছোট এ বিমানটি তৈরিতে তার অনন্ত ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিমানটির মূল বডি কর্কশিট দিয়ে তৈরি। এছাড়াও বিমানটিতে ট্রান্সমিটার, রিসিভার, লিপো ব্যাটারি, শক্তির জন্য ব্রাশলেন্স মোটর, ছোট ফ্যান ও চাকা রয়েছে। একটা রিমোটের সাহায্যে বিমানটি আকাশে উড্ডয়ন করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
আলমগীর ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেি স্বপ্ন ছিল বিমান তৈরির। সে আশা আজ পূরণ হয়েছে। তবে আমার একটি ল্যাপটপ ও আর্থিকভাবে সক্ষমতা থাকলে এ ছোট বিমানটি আরো উন্নত করট যেতো। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে আমার শৈশবের লালিত এ স্বপ্ন পূরণ আরো এগিয়ে যেত।
আলমগীরের পিতামাতা বলেন, ছোটবেলা থেকেই সে বিভিন্ন যন্ত্র তৈরির কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর উপার্জিত অর্থ দিয়েই সে এসব তৈরি করে। এখন বিমান তৈরি করায় এলাকার লোকজন সবাই দেখতে আসতেছে। সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি ও সহযোগিতা পেলে আমাদের ছেলের শৈশবের স্বপ্ন অনেকটাই পূরণ হবে।
বিমান উড্ডয়ন দেখতে আসা স্থানীয় শামসুল ইসলাম  জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আলমগীরের বিমান আবিষ্কার করার কাজে আমরা এলাকাবাসী গর্বিত। পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারণে সে তার প্রতিভা বিকশিত করতে পারছে না। তাই তার প্রতি সবার সু-দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন উদ্ভাবনী এ কাজের ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন, এমন উদ্ভাবনী কার্যক্রম স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এ প্রযুক্তি বিকশিত করতে প্রশাসন তাঁর পাশে থাকবে।

অভাবের সংসারে স্বপ্ন থেমেনি আলমগীরের 

প্রকাশের সময়: ০৬:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
মো. রফিকুল ইসলাম: অভাবের সংসারে লেখাপড়া থেমে গেলেও স্বপ্ন পূরণে থেমে থাকেনি আলমগীর ইসলাম (২৩)। স্বপ্ন থেকেই আজ বিমান উদ্ভাবন করে সে। সেই বিমান  আকাশে উড্ডয়ন করে এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই বিভিন্ন ইলেকট্রোনিক্স পণ্য তৈরির কাজে সময় ও অর্থ ব্যয় করছেন আলমগীর ইসলাম। তাঁর স্বপ্ন ছিল প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছলতা ও অভাবের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেই থেমে যায় আলমগীরের পড়াশোনা। এরপরও থেমে থাকেননি। নিজের সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চলেছেন আলমগীর।
ইতোমধ্যে তিনি ছোট আকারের একটি বিমান উদ্ভাবন করে ফেলেছেন। তাঁর এ উদ্ভাবিত বিমান অনন্ত  আধাঘন্টা সময় ধরে এক কিলোমিটার দূরত্বে উড়তে পারে। এ বিমান দেখতে এলাকার কয়েক গ্রামের অনেক মানুষ প্রতিদিন আলমগীরের বাড়িতে ভিড় করেন।
আলমগীর দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভান্ডারদহ গ্রামের নুরল মেম্বারপাড়ার আব্দুল মজিদ ও জাহানারা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। গত ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে থেমে যায় আলমগীরের পড়াশোনা। এরপর সে লেগে যায় পারিবারিক কাজকর্মে। এছাড়াও তিনি চুক্তিভিত্তিতে শ্যালোমেশিন দিয়ে অন্যের জমির ক্ষেতে পানি দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট এ যুবক। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই বিভিন্ন ইলেকট্রোনিক্স পণ্য তৈরির কাজে সময় ও অর্থ ব্যয় করছেন। অনলাইন ও ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে সময়ের সঙ্গে তাঁর এ উদ্ভাবনী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভান্ডারদহ গ্রামে স্থানীয় খেলার মাঠে ছোট বিমান উড়াচ্ছেন আলমগীর। এ বিমান উড়ানো প্রত্যক্ষ করতে উৎসুক মানুষের উঁপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তাঁর এ উদ্ভাবিত বিমানটি অনন্ত আধাঘন্টা সময় ধরে এক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। গত ৩-৪ বছর ধরে বিভিন্ন মডেলের বিমান তৈরি করে আকাশে উড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এতে সফল হয়েছেন গত বছর।
আলমগীর জানান, পূর্বে অনেক বিমান তৈরি করে ভেঙে ফেলেছেন। আবার নতুন করে তৈরি করেছেন। সর্বশেষ তৈরি করেছেন ছেচনা মডেলের একটি বিমান। এটি গত ডিসেম্বর মাস থেকে চূড়ান্তভাবে তৈরির কাজ করে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে শেষ হয়। এরপর বাড়ির পাশে খেলার মাঠে পরীক্ষামূলক  বিমানটি আকাশে উড়াই। এতে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। ছোট এ বিমানটি তৈরিতে তার অনন্ত ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিমানটির মূল বডি কর্কশিট দিয়ে তৈরি। এছাড়াও বিমানটিতে ট্রান্সমিটার, রিসিভার, লিপো ব্যাটারি, শক্তির জন্য ব্রাশলেন্স মোটর, ছোট ফ্যান ও চাকা রয়েছে। একটা রিমোটের সাহায্যে বিমানটি আকাশে উড্ডয়ন করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
আলমগীর ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেি স্বপ্ন ছিল বিমান তৈরির। সে আশা আজ পূরণ হয়েছে। তবে আমার একটি ল্যাপটপ ও আর্থিকভাবে সক্ষমতা থাকলে এ ছোট বিমানটি আরো উন্নত করট যেতো। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে আমার শৈশবের লালিত এ স্বপ্ন পূরণ আরো এগিয়ে যেত।
আলমগীরের পিতামাতা বলেন, ছোটবেলা থেকেই সে বিভিন্ন যন্ত্র তৈরির কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর উপার্জিত অর্থ দিয়েই সে এসব তৈরি করে। এখন বিমান তৈরি করায় এলাকার লোকজন সবাই দেখতে আসতেছে। সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি ও সহযোগিতা পেলে আমাদের ছেলের শৈশবের স্বপ্ন অনেকটাই পূরণ হবে।
বিমান উড্ডয়ন দেখতে আসা স্থানীয় শামসুল ইসলাম  জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আলমগীরের বিমান আবিষ্কার করার কাজে আমরা এলাকাবাসী গর্বিত। পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারণে সে তার প্রতিভা বিকশিত করতে পারছে না। তাই তার প্রতি সবার সু-দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন উদ্ভাবনী এ কাজের ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন, এমন উদ্ভাবনী কার্যক্রম স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এ প্রযুক্তি বিকশিত করতে প্রশাসন তাঁর পাশে থাকবে।