বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাত জেগে রসুনক্ষেত পাহারা, শিয়ালের কামড়ে আহত ১০ 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় স্বপ্ন পুরণের আশায় রসুনক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকেরা। ক্ষেতেই চুরি আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে কৃষকের। রাতে রসুনক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১০ কৃষক শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। যা গত বছর ছিল দেড় হাজার হেক্টরে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ১২০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে।
উপজেলার গোয়ালডিহি, নলবাড়ি, হাশিমপুর ও কাচিনীয়া গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, রসুনক্ষেতের জমিতে প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে কৃষকেরা সেখানে নির্ঘুম রাত্রিযাপন করছেন। রাত জেগে টর্চলাইট জ্বালাচ্ছেন ক্ষেতের মধ্যে অপরিচিত কেউ আসছে নাকি। এভাবেই কৃষকেরা চুরি ঠেকাতে রসুনক্ষেতে নির্ঘুম রাত্রিযাপন করে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিয়ালের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উপজেলায় শিয়ালের কামড়ে ১০ কৃষক আহত হয়েছে। এতে কৃষকেরা শিয়ালের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। কৃষকেরা ঈদের পূর্বেই ক্ষেত থেকে রসুন উঠানো ও ঘরে তোলার কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন।
উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের রসুনচাষি আশরাফ আলী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রসুনচাষে খরচ ও শ্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। এত কষ্ট করে রসুন আবাদ করে চোর ও চুরির চিন্তায় ক্ষেতের মধ্যেই রাত কাটাতে হচ্ছে। কেননা রসুন মূল্যবান ফসল, তাই পাহারা দিচ্ছি।
ওই ইউনিয়নের শাহপাড়ার রসুনচাষি রিশাদ শাহ বলেন, ৫০ শতকের বিঘা জমিতে রসুন আবাদে জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক, পানি সেচ ও পরিচর্যায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এবার বীজের দাম বেশি হওয়ায় রসুন চাষে খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে ৫৫-৭০ মণ পর্যন্ত রসুনের ফলন হয়। প্রতিমণ রসুনের বর্তমান বাজারদর ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সে তুলনায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে রসুন চাষ লাভজনক।
এদিকে, মনির জীবন নামে এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমাদের গ্রামে তিনজনসহ আশপাশের গ্রামে ১০ জন কৃষককে শিয়ালে কামড়ানোর খবর শুনলাম। একদিকে রাতের আঁধারে জমির ফসল চুরি, অন্যদিকে দিন-দুপুরে শিয়ালের উৎপাত। কৃষক যেন কোনো কিছুতেই স্বস্তা পাচ্ছে না এখন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার বলেন, আবহাওয়া ভালো হওয়ায় চলতি মৌসুমে রসুনের ফলনও ভালো হয়েছে। এছাড়া বর্তমান বাজারে রসুনের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হবেন। স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে রসুন চুরির বিষয়টি জানতে পেরেছি। চুরি রোধে কৃষকরা রাত-দিন ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন বলে শুনেছি।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন-থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও রাত্রিকালীন পাহারাদারেরা চুরি রোধে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে জনগণের সচেতন ভূমিকা, চুরিরোধ ও অপরাধ কমাতে অনেক কার্যকর হবে।

রাত জেগে রসুনক্ষেত পাহারা, শিয়ালের কামড়ে আহত ১০ 

প্রকাশের সময়: ০৩:১৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় স্বপ্ন পুরণের আশায় রসুনক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকেরা। ক্ষেতেই চুরি আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে কৃষকের। রাতে রসুনক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১০ কৃষক শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। যা গত বছর ছিল দেড় হাজার হেক্টরে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ১২০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে।
উপজেলার গোয়ালডিহি, নলবাড়ি, হাশিমপুর ও কাচিনীয়া গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, রসুনক্ষেতের জমিতে প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে কৃষকেরা সেখানে নির্ঘুম রাত্রিযাপন করছেন। রাত জেগে টর্চলাইট জ্বালাচ্ছেন ক্ষেতের মধ্যে অপরিচিত কেউ আসছে নাকি। এভাবেই কৃষকেরা চুরি ঠেকাতে রসুনক্ষেতে নির্ঘুম রাত্রিযাপন করে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিয়ালের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উপজেলায় শিয়ালের কামড়ে ১০ কৃষক আহত হয়েছে। এতে কৃষকেরা শিয়ালের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। কৃষকেরা ঈদের পূর্বেই ক্ষেত থেকে রসুন উঠানো ও ঘরে তোলার কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন।
উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের রসুনচাষি আশরাফ আলী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রসুনচাষে খরচ ও শ্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। এত কষ্ট করে রসুন আবাদ করে চোর ও চুরির চিন্তায় ক্ষেতের মধ্যেই রাত কাটাতে হচ্ছে। কেননা রসুন মূল্যবান ফসল, তাই পাহারা দিচ্ছি।
ওই ইউনিয়নের শাহপাড়ার রসুনচাষি রিশাদ শাহ বলেন, ৫০ শতকের বিঘা জমিতে রসুন আবাদে জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক, পানি সেচ ও পরিচর্যায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এবার বীজের দাম বেশি হওয়ায় রসুন চাষে খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে ৫৫-৭০ মণ পর্যন্ত রসুনের ফলন হয়। প্রতিমণ রসুনের বর্তমান বাজারদর ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সে তুলনায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে রসুন চাষ লাভজনক।
এদিকে, মনির জীবন নামে এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমাদের গ্রামে তিনজনসহ আশপাশের গ্রামে ১০ জন কৃষককে শিয়ালে কামড়ানোর খবর শুনলাম। একদিকে রাতের আঁধারে জমির ফসল চুরি, অন্যদিকে দিন-দুপুরে শিয়ালের উৎপাত। কৃষক যেন কোনো কিছুতেই স্বস্তা পাচ্ছে না এখন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার বলেন, আবহাওয়া ভালো হওয়ায় চলতি মৌসুমে রসুনের ফলনও ভালো হয়েছে। এছাড়া বর্তমান বাজারে রসুনের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হবেন। স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে রসুন চুরির বিষয়টি জানতে পেরেছি। চুরি রোধে কৃষকরা রাত-দিন ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন বলে শুনেছি।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন-থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও রাত্রিকালীন পাহারাদারেরা চুরি রোধে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে জনগণের সচেতন ভূমিকা, চুরিরোধ ও অপরাধ কমাতে অনেক কার্যকর হবে।