গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বেশ কিছু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ি ও ফসলী জমি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে দুই শতাধিক পরিবার।
সম্প্রতি দেখা গেছে উপজেলার বড় শিমুলতলা, দিঘকান্দি, নেকটগাড়ী, চেরেঙ্গা, শিশুদহ এলাকাসহ একাধিক স্থানে নদী ভাঙন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মোট আয়তন ১৮৫.৩৩ বর্গ কিলোমিটার। এখানে আখিরা নদী স্থানীয়ভাবে যার নাম দুটিতে পরিচিত। এর একস্থানে নাম মর্চ নদী অন্যস্থানে নামটি হলো নলেয়া নদী। ইতোমধ্যে এসব নদীর নব্যতার কারণে নিজের গতি হারিয়ে ফেলেছে। নদী হতে আবাদী জমি গ্রাস করে বিলে রুপ নিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এলাকাবাসী জানায়, এ অঞ্চলের বেশীর ভাগ আবাদী জমি গুলো সেচ নির্ভর হয়ে পড়েছে। পলাশবাড়ী উপজেলার এ নদীটি দ্রুত খনন করে নব্যতা দুর করণে প্রয়োজনী ব্যবস্থাগ্রহণ করা প্রয়োজন। এছাড়াও করতোয়া নদী উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত ১ নং কিশোরগাড়ী ও ২ নং হোসেনপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ দুইটি ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোতে ছোট বড় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওইসব নদী ও নদীপারের জমি থেকে মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টর, ট্রলি, ভেকু ও ড্রামট্রাক চলাচলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৷ এসব বাঁধ দ্রুত সময়ে সংস্কার করা না হলে বর্ষাকালে বন্যায় ফসলি জমি ও বসতবাড়িসহ উপজেলার পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশংঙ্কা রয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক ব্যস্ত থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে রংপুর বিভাগের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মাহবুবর রহমান জানান, করতোয়া নদী ও আখিড়া নদ নিয়ে স্ট্যাডি চলছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, করতোয়া নদীর ভাঙন ও নব্যতা রোধে খনন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার বিষয়ে জেলা সমন্বয় সভায় এ উত্থাপন করা হয়। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ হতে দ্রুত নদী ভাঙনরোধ ও বাঁধ সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েছেন ।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 









