রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবুজে ছেয়ে গেছে বোরো ক্ষেত, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

Exif_JPEG_420

নাজমুল হুদা: বগুড়া জেলার শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নন্দীগ্রাম উপজেলা। এই উপজেলার মাটিতে উর্বরশক্তি বেশি থাকায় কৃষকরা ধান ও রবিশস্য উৎপাদনে অনেকটা পারদর্শী। তাই বছরে ৩বার ধান চাষাবাদের পাশাপাশি রবি মৌসুমে রবিশস্যরও চাষাবাদ করে আসছে কৃষকরা। এবারো এর ব্যত্যয় হয়নি। বোরো ধান চাষাবাদে সবমিলিয়ে ১২-১৩ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ২০-২৫ হাজার টাকার ধান পাওয়া যায়।

এ কারণে এই উপজেলার কৃষকরা বোরো ধানের চাষাবাদ লাভজনক হিসেবে গণ্য করে থাকে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টির ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেও মন দিয়ে বোরো ধানের চাষাবাদ করে আসছে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালোভাবেই ধানের চাষাবাদ ও কাটা-মাড়াই করতে পারে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে এই উপজেলায় ১৯ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন হতে পারে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন। এই উপজেলায় বোরো ধানের চাষাবাদ চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ এর কোনো সমস্যা হয় না। যে কারণে কৃষকদের পানি সেচে তেমন কোনো সমস্যা নেই। কৃষকরা অতি গুরুত্ব ও যতেœর সাথে সবধরনের চাষাবাদ করে। এ কারণে ফলন বেশি পায়। বোরো ফসলি জমিতে আগাছা দমনসহ পোকামাকড় দমনে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। এখন ধানক্ষেত থোড়, ফুল, দুধ ও দানা গঠন পর্যায়ে রয়েছে। এরপর দানা পরিপক্ষ হলেই ধান পাকা শুরু হবে। এই উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায় সবুজে ছেয়ে গেছে বোরো ধানের মাঠ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক জানান, সরকার সবধরনের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই আমরাও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে কাজ করে আসছি। আমরা কৃযকদের পরামর্শসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করি। বোরো ধানের ফসলি জমির অবস্থা অনেক ভালো। তাই আশা করি এবারো বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।

উপজেলার দলগাছা গ্রামের আদর্শ কৃষক মুনিরুজ্জামান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আমাদের উপজেলায় মিনিকেট ও কাটারিভোগসহ বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ হয়। আমি নিজেও ৩৫ বিঘা জমিতে মিনিকেট ও কাটারিভোগ জাতের ধানের আবাদ করেছি। ফসলি জমির অবস্থা খুব ভালো রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বোরো ধানের ফলন ভালো হবে ইনশাআল্লাহ। অন্যান্য কৃষকদের সাথে কথা বললে তারাও বলেন মাঠের ফসলি জমির অবস্থা খুব ভালো রয়েছে। ধান ভালোভাবে কাটা-মাড়াই করতে পারলেই আরো ভালো হবে।

জনপ্রিয়

সবুজে ছেয়ে গেছে বোরো ক্ষেত, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রকাশের সময়: ০৩:২০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

নাজমুল হুদা: বগুড়া জেলার শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নন্দীগ্রাম উপজেলা। এই উপজেলার মাটিতে উর্বরশক্তি বেশি থাকায় কৃষকরা ধান ও রবিশস্য উৎপাদনে অনেকটা পারদর্শী। তাই বছরে ৩বার ধান চাষাবাদের পাশাপাশি রবি মৌসুমে রবিশস্যরও চাষাবাদ করে আসছে কৃষকরা। এবারো এর ব্যত্যয় হয়নি। বোরো ধান চাষাবাদে সবমিলিয়ে ১২-১৩ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ২০-২৫ হাজার টাকার ধান পাওয়া যায়।

এ কারণে এই উপজেলার কৃষকরা বোরো ধানের চাষাবাদ লাভজনক হিসেবে গণ্য করে থাকে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টির ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেও মন দিয়ে বোরো ধানের চাষাবাদ করে আসছে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালোভাবেই ধানের চাষাবাদ ও কাটা-মাড়াই করতে পারে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে এই উপজেলায় ১৯ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন হতে পারে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন। এই উপজেলায় বোরো ধানের চাষাবাদ চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ এর কোনো সমস্যা হয় না। যে কারণে কৃষকদের পানি সেচে তেমন কোনো সমস্যা নেই। কৃষকরা অতি গুরুত্ব ও যতেœর সাথে সবধরনের চাষাবাদ করে। এ কারণে ফলন বেশি পায়। বোরো ফসলি জমিতে আগাছা দমনসহ পোকামাকড় দমনে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। এখন ধানক্ষেত থোড়, ফুল, দুধ ও দানা গঠন পর্যায়ে রয়েছে। এরপর দানা পরিপক্ষ হলেই ধান পাকা শুরু হবে। এই উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায় সবুজে ছেয়ে গেছে বোরো ধানের মাঠ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক জানান, সরকার সবধরনের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই আমরাও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে কাজ করে আসছি। আমরা কৃযকদের পরামর্শসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করি। বোরো ধানের ফসলি জমির অবস্থা অনেক ভালো। তাই আশা করি এবারো বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।

উপজেলার দলগাছা গ্রামের আদর্শ কৃষক মুনিরুজ্জামান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আমাদের উপজেলায় মিনিকেট ও কাটারিভোগসহ বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ হয়। আমি নিজেও ৩৫ বিঘা জমিতে মিনিকেট ও কাটারিভোগ জাতের ধানের আবাদ করেছি। ফসলি জমির অবস্থা খুব ভালো রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বোরো ধানের ফলন ভালো হবে ইনশাআল্লাহ। অন্যান্য কৃষকদের সাথে কথা বললে তারাও বলেন মাঠের ফসলি জমির অবস্থা খুব ভালো রয়েছে। ধান ভালোভাবে কাটা-মাড়াই করতে পারলেই আরো ভালো হবে।