সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে কোরবানিযোগ্য গবাদীপশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খামারিরা। তারা প্রাকৃতিক উপায়ে দেশীয় খাবার খাইয়ে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এরপরও বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে লাভের আশা করছেন এখানকার খামারিরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে- উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারগুলোতে এখন চলছে গরু পরিচর্যার ব্যস্ততা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মালিক-শ্রমিকেরা গরুর গোসল-খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার কাজে ব্যস্ত আছেন। ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল, চিটাগুড়সহ দেশীয় উপায়ে তৈরি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে কোরবানিযোগ্য গবাদীপশুকে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৩৪টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ৫ হাজার ৭১০টি, বলদ ৬৪৫টি, গাভী ২ হাজার ৭২৬, ছাগল ৭ হাজার ৩৯২টি, ভেরা ঙ হাজার ৪৬১টি ও দুম্বা রয়েছে ৪টি। এসব পশু অনলাইনসহ উপজেলার নলডাঙ্গা, ভাতগ্রাম, সাদুল্লাপুর, ইদ্রাকপুর ও ধাপেরহাটে বিক্রি করা হয়ে। এছাড়া সরাসরি খামার থেকেও গবাদীপশু কিনতে পারবেন ক্রেতারা। আর কয়েকদিন পরই পুরোদমে জমে ওঠবে বলে হাট ইজারাদার সুত্রে জানা গেছে।

তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রত্যোকটি পশুরহাটে দালাল ও ফড়িয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তারা ঠকবার শঙ্কায় ভুগছেন। হাটে আসা দালালরা মালিকদের সঙ্গে রফাদফা করে পশু হাতে নেন। ওই দামের চেয়ে বেশী বিক্রিত টাকা দালালদের পকেটে ঢুকছে বলে একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ। এ থেকে পরিত্রাণ চান তারা।

খামারি সাজ্জাদ রহমান রাসেল বলেন, আসন্ন ঈদে আমার খামারে কোরবানিযোগ্য ৭ গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে গরুগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তবে এবার হাটে দাম ভালো থাকলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহিরুল ইসলাম জাহিদ নামের আরেক খামারি জানান, তার খামারে কোরবোনিযোগ্য ৪টি দুম্বা প্রস্তুত রয়েছে। এগুলো বিক্রির জন্য এখন পর্যন্ত গ্রাহক পাওয়া যায়নি। যারাও আসছেন তারা আশানুরূপ দাম হাকাচ্ছেন না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন এই উদ্যোক্তা।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, খামারিদের লাভবান করতে আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি। তবে তাদের পশুগুলো বাজারজাত করতে একটু বেগ পেতে হয়। সে ব্যাপারে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেরে বিক্রির জন্য পরামর্শ প্রদান করছি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, আসন্ন ইদুল আজহা উপলক্ষ্যে এ উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৩৪টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে চাহিদা ১৬ হাজার ৬৩টি। অবশিষ্ঠ পশু এলাকার বাহিরে বিক্রিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সাদুল্লাপুরে কোরবানিযোগ্য গবাদীপশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

সাদুল্লাপুরে কোরবানিযোগ্য গবাদীপশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

প্রকাশের সময়: ০৪:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খামারিরা। তারা প্রাকৃতিক উপায়ে দেশীয় খাবার খাইয়ে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এরপরও বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে লাভের আশা করছেন এখানকার খামারিরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে- উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারগুলোতে এখন চলছে গরু পরিচর্যার ব্যস্ততা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মালিক-শ্রমিকেরা গরুর গোসল-খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার কাজে ব্যস্ত আছেন। ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল, চিটাগুড়সহ দেশীয় উপায়ে তৈরি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে কোরবানিযোগ্য গবাদীপশুকে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৩৪টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ৫ হাজার ৭১০টি, বলদ ৬৪৫টি, গাভী ২ হাজার ৭২৬, ছাগল ৭ হাজার ৩৯২টি, ভেরা ঙ হাজার ৪৬১টি ও দুম্বা রয়েছে ৪টি। এসব পশু অনলাইনসহ উপজেলার নলডাঙ্গা, ভাতগ্রাম, সাদুল্লাপুর, ইদ্রাকপুর ও ধাপেরহাটে বিক্রি করা হয়ে। এছাড়া সরাসরি খামার থেকেও গবাদীপশু কিনতে পারবেন ক্রেতারা। আর কয়েকদিন পরই পুরোদমে জমে ওঠবে বলে হাট ইজারাদার সুত্রে জানা গেছে।

তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রত্যোকটি পশুরহাটে দালাল ও ফড়িয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তারা ঠকবার শঙ্কায় ভুগছেন। হাটে আসা দালালরা মালিকদের সঙ্গে রফাদফা করে পশু হাতে নেন। ওই দামের চেয়ে বেশী বিক্রিত টাকা দালালদের পকেটে ঢুকছে বলে একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ। এ থেকে পরিত্রাণ চান তারা।

খামারি সাজ্জাদ রহমান রাসেল বলেন, আসন্ন ঈদে আমার খামারে কোরবানিযোগ্য ৭ গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে গরুগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তবে এবার হাটে দাম ভালো থাকলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহিরুল ইসলাম জাহিদ নামের আরেক খামারি জানান, তার খামারে কোরবোনিযোগ্য ৪টি দুম্বা প্রস্তুত রয়েছে। এগুলো বিক্রির জন্য এখন পর্যন্ত গ্রাহক পাওয়া যায়নি। যারাও আসছেন তারা আশানুরূপ দাম হাকাচ্ছেন না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন এই উদ্যোক্তা।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, খামারিদের লাভবান করতে আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি। তবে তাদের পশুগুলো বাজারজাত করতে একটু বেগ পেতে হয়। সে ব্যাপারে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেরে বিক্রির জন্য পরামর্শ প্রদান করছি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, আসন্ন ইদুল আজহা উপলক্ষ্যে এ উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৩৪টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে চাহিদা ১৬ হাজার ৬৩টি। অবশিষ্ঠ পশু এলাকার বাহিরে বিক্রিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।