গত কয়েক দিনের অব্যাহত কালবৈশাখী ঝড়ে উঠতি বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় সহস্রাধিক হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকদের দাবি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে- নানা ধরনের ফসল ক্ষতির চিত্র। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আহাজারি করছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষি ফসলের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা জেলা। এ জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ফসলের উপর নির্ভশীল। ধানসহ বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে তারা পরিবারের যাবতীয় চাহিদা পূরণের স্বপ্ন দেখেন। এমন স্বপ্ন নিয়ে এবছরেও নানা ধরণের আবাদ করেন। এরই মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড়ে বেশ কিছু কৃষকের সেই স্বপ্ন নিমিষেই নষ্ট করে দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কয়েক দিনের বৈরীআবহাওয়া বিভিন্ন ক্ষেতে সহস্রাধিক হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। এসবের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহরম, মহিমাগঞ্জ, সাপমাড়া, কামরদহ এলাকায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
গাইবান্ধা কৃষি বিভাগ থেকে বলছেন- গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর ঝড়ে এ পর্যন্ত ৩৬০ হেক্টর ফসল ক্ষতি হয়েছে। এসবের মধ্যে বোরো ধান ২১২ হেক্টর, ৫৪ হেক্টর ভূট্টা, শাক-সবজি ৮১ হেক্টর, কলা ৫ হেক্টর ও ৮ হেক্টর আউশ বীজতলা।
কামারজানির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আল আমিন মিয়া বলেন, আমাদের চরাঞ্চলের মানুষ ভুট্রা ফসলের ওপর নির্ভশীল। প্রতি বছরের ন্যায় এ মৌসুমে অধিক লাভের আশায় উন্নত জাতের ভুট্রা আবাদ করা হয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিমিষে নষ্ট করছে কালবৈশাখী ঝড়ে। এখন কিভাবে ঘুরে দাঁড়াব এই চিন্তায় আছি।
গোবিন্দগঞ্জের আরেক কৃষক জানান, ধারদনা করে এ বছর দেড় একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেন। ইতোমধ্যে ঝড়ের তাণ্ডপে প্রায় একবিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এ ক্ষতি পূষিয়ে নেওয়ার মতো না।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন- সম্প্রতি ঝড়ে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি নিরূপনে মাঠে কাজ করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















