সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে ভাঙন রক্ষা কাজে নদী থেকেই বালু উত্তোলন, ফের ভাঙনের শঙ্কা

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ফেব্রিক্সের জিওব্যাগ ও ভাঙন স্থানে মেশিন বসিয়ে নদী থেকেই বালু উত্তোলন করায় ফের ভাঙন শঙ্কায় ভুগছেন ভুক্তভোগী মানুষেরা। তাদের দাবি, এ স্থানের নদী থেকে বালু না তুলে অন্যত্র থেকে বালু বহন করে এনে জিওব্যাগ ভর্তি করা অবশ্যক।

সোমবার (১৫ জুন) সরেজমিনে সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে দেখা গেছে- নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্প কাজের ওইসব অনিয়মের দৃশ্য।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এতে নদী তীরের মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি বিলীন হয়েছে। আর ভাঙন ঝুঁকিতে ভুগছিলেন আরও বেশ কিছু পরিবার। এসব ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় ভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজ। এ কাজের বালু যোগান দেওয়ার দায়িত্ব পান স্থানীয় হাসেন আলী হাসান নামের এক ব্যক্তি। এরপর জিওব্যাগের জন্য বালু অন্যত্র থেকে বহন না করে তিনি ভাঙন স্থানের নদীতে বসিয়েছেন শ্যালো মেশিন। এখানে রাতভর মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলণ অব্যাহত রয়েছে। এতে করে আবারও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। সেইসঙ্গে মিশনের বিকট শব্দে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষদের। একইসঙ্গে নিম্নমানের জিওব্যাগ আর ভাঙন স্থান থেকে বালু তোলার কারণে আবারও নদীভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নামপ্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় একাধিক ভূক্তভোগী বলেন, কথিত হাসেন আলী হাসান দীর্ঘ দিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য করে আসছেন। সেইসঙ্গে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় ব্যক্তির সঙ্গে আতাঁত করে নদীভাঙন রক্ষা কাজের বালু যোগানের দায়িত পান এই বালুখেকো হাসেন আলী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভাঙন রক্ষা স্থানে নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু সরবরাহ করছেন তিনি। এতে করে সাময়িক ভাঙন রোধ হলেও তা টিকসই হচ্ছে না। কিছুদিন পর আবারও জিওব্যাগ ফেটে ও ধ্বসে পড়ে ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে শুরু হওয়া ভাঙন রোধ কাজটির বালু অন্যত্র থেকে বহন করে এনে জিওব্যাগ ভরাট করা হোক।  তা না হলে যে লাউ সেই কদু হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসেন আলী হাসান বলেন, ইতোপূর্বেও ভাঙন স্থানের নদী থেকেই বালু তুলে ভাঙন রক্ষা কাজ করা হয়েছে। এভাবেই মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়ায় ভাঙন রক্ষায় নদী থেকেই বালু তোলা হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, ভাঙন রক্ষায় নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার না। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কথা বলেন। তারপরও আমিও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনটি বন্ধ ছিল তার।

আষাঢ়ের অপরূপ শোভা কদমফুল

সাদুল্লাপুরে ভাঙন রক্ষা কাজে নদী থেকেই বালু উত্তোলন, ফের ভাঙনের শঙ্কা

প্রকাশের সময়: ০৬:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ফেব্রিক্সের জিওব্যাগ ও ভাঙন স্থানে মেশিন বসিয়ে নদী থেকেই বালু উত্তোলন করায় ফের ভাঙন শঙ্কায় ভুগছেন ভুক্তভোগী মানুষেরা। তাদের দাবি, এ স্থানের নদী থেকে বালু না তুলে অন্যত্র থেকে বালু বহন করে এনে জিওব্যাগ ভর্তি করা অবশ্যক।

সোমবার (১৫ জুন) সরেজমিনে সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে দেখা গেছে- নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্প কাজের ওইসব অনিয়মের দৃশ্য।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এতে নদী তীরের মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি বিলীন হয়েছে। আর ভাঙন ঝুঁকিতে ভুগছিলেন আরও বেশ কিছু পরিবার। এসব ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় ভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজ। এ কাজের বালু যোগান দেওয়ার দায়িত্ব পান স্থানীয় হাসেন আলী হাসান নামের এক ব্যক্তি। এরপর জিওব্যাগের জন্য বালু অন্যত্র থেকে বহন না করে তিনি ভাঙন স্থানের নদীতে বসিয়েছেন শ্যালো মেশিন। এখানে রাতভর মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলণ অব্যাহত রয়েছে। এতে করে আবারও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। সেইসঙ্গে মিশনের বিকট শব্দে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষদের। একইসঙ্গে নিম্নমানের জিওব্যাগ আর ভাঙন স্থান থেকে বালু তোলার কারণে আবারও নদীভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নামপ্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় একাধিক ভূক্তভোগী বলেন, কথিত হাসেন আলী হাসান দীর্ঘ দিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য করে আসছেন। সেইসঙ্গে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় ব্যক্তির সঙ্গে আতাঁত করে নদীভাঙন রক্ষা কাজের বালু যোগানের দায়িত পান এই বালুখেকো হাসেন আলী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভাঙন রক্ষা স্থানে নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু সরবরাহ করছেন তিনি। এতে করে সাময়িক ভাঙন রোধ হলেও তা টিকসই হচ্ছে না। কিছুদিন পর আবারও জিওব্যাগ ফেটে ও ধ্বসে পড়ে ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে শুরু হওয়া ভাঙন রোধ কাজটির বালু অন্যত্র থেকে বহন করে এনে জিওব্যাগ ভরাট করা হোক।  তা না হলে যে লাউ সেই কদু হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসেন আলী হাসান বলেন, ইতোপূর্বেও ভাঙন স্থানের নদী থেকেই বালু তুলে ভাঙন রক্ষা কাজ করা হয়েছে। এভাবেই মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়ায় ভাঙন রক্ষায় নদী থেকেই বালু তোলা হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, ভাঙন রক্ষায় নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার না। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কথা বলেন। তারপরও আমিও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনটি বন্ধ ছিল তার।