শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিধবার জমি দখলে নিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আদালতের রায়কে অমান্য করে জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী মো. ইউনুস আলী (৪৫) ও তার বড়ভাই মো. নুরুল ইসলােেমর (৬৮) বিরুদ্ধে।

বিধবা নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগমের (৪৭) জমি নিজেদের দখলে নিতেই আইনভঙ্গের এ মহা উৎসবে মেতেছেন তারা। নিজেদের করা মামলার রায় তারা এখন নিজেই মানছেন না।

ঘটনাটি উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে ঘটেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বিধবা ওই নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম (৪৭)। তিনি আইনি সহয়তা পেতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মো. ইউনুস আলী ওই ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে ও বিধবা নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম একই ইউনিয়নের রামজীবন কুঠিপাড়া গ্রামের মৃত শফিউল আলমের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ওই নারীর সাথে মো. ইউনুস আলী (৪৫) ও তার বড়ভাই মো. নুরুল ইসলাম (৬৮) গংদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে মো. ইউনুস আলী গংরা বিধবা নারী মোছাঃ শামছুন্নাহার বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বর্তমানে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারিসহ গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এতে (পিটিশন মামলা নং-৬৬/২০২৬, এমআর মামলা নং-৬৬/২০২৬, ধারা-১৪৪/১৪৫ ফৌজদারি কার্যবিধি)।
এরপরও গত ১১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ইউনুস আলী ও মো. নুরুল ইসলাম গংরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে ১৪৪ ভেঙ্গে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করেন।
এতে বাধা দিলে শামছুন্নাহার বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই জমিতে বাঁশের খুঁটি দেয়া হয়েছে। খুঁটি গুলোর উপরে বাঁশ দিয়ে বানানো চালা নটকানো হয়েছে। জমিতে থাকা একটি কাঁঠাল গাছ ঘেঁষে চুলা বানানো হয়েছে। সেই চুলায় চায়ের কেতলি বসানো আছে। সেখানে গদগদ করে আগুন জ্বলছে। এভাবে আগুন জ্বালানো হলে ফলের গাছটি মারা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যারা মামলা করেছেন তারাই আবার তাদের করা মামলার রায়ই মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বিধবা নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগমের সাথে। তিনি বলেন, “১৯৯১ সালে ওই জমি ক্রয় করি। সেই থেকে ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ করে তারা এই জমির মালিকানা দাবি করেন। পরে তারা এ বিষয়ে আদালতে মামলাও করেন। সে মামলায় আমিসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারিসহ আদালতে চলমান আছে। সে কারণে আমরা জমিতে যাইনি। কিন্তু তারাই আবার আইন ভেঙ্গে ওই জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন। আমি বিধবা মানুষ। হয়রানি করা হচ্ছে আমাকে। সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন বিধবা নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম।

এ বিষয়ে মো. ইউনুস আলীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন ওসি।”

বিধবার জমি দখলে নিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৭:৫৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আদালতের রায়কে অমান্য করে জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী মো. ইউনুস আলী (৪৫) ও তার বড়ভাই মো. নুরুল ইসলােেমর (৬৮) বিরুদ্ধে।

বিধবা নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগমের (৪৭) জমি নিজেদের দখলে নিতেই আইনভঙ্গের এ মহা উৎসবে মেতেছেন তারা। নিজেদের করা মামলার রায় তারা এখন নিজেই মানছেন না।

ঘটনাটি উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে ঘটেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বিধবা ওই নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম (৪৭)। তিনি আইনি সহয়তা পেতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মো. ইউনুস আলী ওই ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে ও বিধবা নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম একই ইউনিয়নের রামজীবন কুঠিপাড়া গ্রামের মৃত শফিউল আলমের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ওই নারীর সাথে মো. ইউনুস আলী (৪৫) ও তার বড়ভাই মো. নুরুল ইসলাম (৬৮) গংদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে মো. ইউনুস আলী গংরা বিধবা নারী মোছাঃ শামছুন্নাহার বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বর্তমানে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারিসহ গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এতে (পিটিশন মামলা নং-৬৬/২০২৬, এমআর মামলা নং-৬৬/২০২৬, ধারা-১৪৪/১৪৫ ফৌজদারি কার্যবিধি)।
এরপরও গত ১১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ইউনুস আলী ও মো. নুরুল ইসলাম গংরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে ১৪৪ ভেঙ্গে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করেন।
এতে বাধা দিলে শামছুন্নাহার বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই জমিতে বাঁশের খুঁটি দেয়া হয়েছে। খুঁটি গুলোর উপরে বাঁশ দিয়ে বানানো চালা নটকানো হয়েছে। জমিতে থাকা একটি কাঁঠাল গাছ ঘেঁষে চুলা বানানো হয়েছে। সেই চুলায় চায়ের কেতলি বসানো আছে। সেখানে গদগদ করে আগুন জ্বলছে। এভাবে আগুন জ্বালানো হলে ফলের গাছটি মারা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যারা মামলা করেছেন তারাই আবার তাদের করা মামলার রায়ই মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বিধবা নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগমের সাথে। তিনি বলেন, “১৯৯১ সালে ওই জমি ক্রয় করি। সেই থেকে ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ করে তারা এই জমির মালিকানা দাবি করেন। পরে তারা এ বিষয়ে আদালতে মামলাও করেন। সে মামলায় আমিসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারিসহ আদালতে চলমান আছে। সে কারণে আমরা জমিতে যাইনি। কিন্তু তারাই আবার আইন ভেঙ্গে ওই জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন। আমি বিধবা মানুষ। হয়রানি করা হচ্ছে আমাকে। সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন বিধবা নারী মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম।

এ বিষয়ে মো. ইউনুস আলীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন ওসি।”