কৃষকের বাড়ির উঠানে পলিথিন শিদ বিছিয়ে চলছে ব্যতিক্রমধর্মী পাঠদান। কৃষক-কৃষাণীরা মনযোগ দিয়ে অংশগ্রহণ করছেন পার্টনার মাঠ স্কুলের ক্লাসে। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় মৌসুম ভিত্তিক এই স্কুলে নির্দিষ্ট ফসলের আধুনিক চাষাবাদ ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে হাতে-কলমে। এতে আধুনিক কৃষিতে দক্ষ হচ্ছেন কৃষক-কৃষাণীরা।
সরজমিন উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাটে পার্টনার ফিল্ড স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, রোপা আমন ধান বিষয়ে পলিথিন শিটে বসে হাতে-কলমে আধুনিক কৃষি বিষয়ে শিখছেন কৃষকেরা। পাঠদান করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। ক্লাসের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নাসিব আহমেদ খান ও মো. আল আমিন এবং উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম ও মমিনুল বিন আমিন। জানা গেছে, প্রোগ্রাম অন এগ্রিকাচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) গ্রোগ্রামের আওতায়রউপজেলার ৬টি ইউনিয়নে গত রবি মোসুমে ধান, গম, সরিষা, ডাল, নিরাপদ সবজি ও ফল চাষ এবং উত্তম কৃষি চর্চা বিষয়ে মোট ২৭টি স্কুলে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। চলতি মৌসুমে চলছে একটি স্কুল কার্যক্রম। প্রতিটি মাঠে স্কুলে ১০টি পাঠে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রতি সপ্তাহে একদিন তিন ঘন্টা করে চলে এসব ক্লাস। শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠে বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে কৃষকদের রোগ-পোকামাকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং তা দমনে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। ক্লাসে নির্বিচারে বালাইনাশক ব্যবহার না করে কীভাবে নিরাপদ ও টেকসই চাষাবাদ সম্ভব তা দেখানো হচ্ছে।
পাকেরহাট এলাকার কৃষক আতিয়ার রহমান, হাফিজুল ইসলাম, বিলকিস বেগম ও চৈতি রায় জানান, সময়ের সঙ্গে চাষাবাদ পদ্ধতিতে আমুল পরিবর্তন এসেছে। তাই কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় পার্টনার স্কুলে ক্লাস করে আমরা আধুনিক ও নতুন পদ্ধতি শিখছি। যা বর্তমানে চাষাবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা যদুনাথ রায় জানান, পার্টনার প্রকল্পের আওতায় মাঠ স্কুলগুলোতে ফসলের আধুনিক জাত নির্বাচন থেকে শুরু করে নিরাপদ উপায়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করার কারিগরি জ্ঞান দেয়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করছে ও উৎসাহিত হচ্ছেন।
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, কৃষকদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে প্রতিনিয়ত একজন করে কৃষককে দলনেতা করে পাঠদান পরিচালিত হয়। ক্লাসগুলো প্রাণবন্ত করতে নাট্যভঙ্গি, দলীয় কার্যক্রম ও অংশগ্রহণমূলক কৌশল অনুসরণ করা হয়। ফলে কৃষকরা ক্লাসে নিজেরাই নিয়মিত উৎসাহিত হচ্ছেন।
মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 














