শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে আক্রান্ত গরুর গোশত কেটে-খেয়ে অসুস্থ অনেকে

অসুস্থ গরুর গোশত কেটে অজানা রোগে আক্রান্ত আবদুল গফুর মিয়া।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত গরুর গোশত কেটে এবং খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু থাকতে পারে এ ধরনের গরুর মাংসে বলে ধারণা সচেতন মহলের।
গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গত ১৫ দিনে অজানা রোগে এ উপজেলায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক গরু-ছাগল মারা গেছে। জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে সমপরিমাণ গরুর। কম দাম মাংস পেয়ে ক্রয় করছেন অনেকে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষজন। আর এ সকল গরুর মাংস কেটে এবং খেয়ে অসুস্থ হচ্ছেন অনেকে। এ সকল গরুর মাংস থেকে এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে বলে ধারণা সচেতন মহলের। প্রাণঘাতি এ রোগের জীবাণু থেকে গরু-ছাগল এবং মানুষদের বাঁচাতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছেন তারা।
বুধবার সকাল ৯ টার দিকে কথা হয় মো. আবদুর রহমানের ছেলে মো. আবদুল মতিন মিয়ার (৩৩) পরিবারের সদস্যদের সাথে। তাঁদের বাড়ি সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের আলুটারী মহল্লায়। আবদুল মতিন মিয়া বাড়িতে না থাকায় কথা হয় তার বাবার সাথে।
তিনি বলেন,  ‘ছেলের খামারে ৬ টি গরু । গত রোববার প্রথমে ১ টি অসুস্থ হয়। পশু হাসপাতাল থেকে ডাক্তার আনা হয়েিছিলো। চিকিৎসাও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাচাতে পারেনি গরুটিকে। ওই দিনেই সেটি মারা যায়। বকনা গরু ছিলো। দাম ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা হতো।’
‘এ-র পরদিন গত সোমবার আবার ১ টা গাই গরু অসুস্থ হয়। পশু হাসপাতাল থেকে এ দিনেও ডাক্তার আনা হয়েছিলো। তারা এসে চিকিৎসাও দিয়েছিলেন। কিন্তু ঔষুধ খাওয়ানোর পরে আর বেশি অসুস্থ হয় গরুটি। পরে নিরুপায় হয়ে প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে অসুস্থ গরুটি জবাই করা হয়। বাজার মূল্যের থেকে অনেক কমদামে বিক্রি করা হয়েছে মাংসগুলো। এ গরুটির দাম লাখ টাকার বেশি হতো বলেও জানান তিনি।’
মো. আবদুল মতিন মিয়ার প্রতিবেশী মো. আবদুল গফুর মিয়া (৫৮) জানান, ভালো ছিলাম। ঘটনার দিন আবদুল মতিন মিয়ার অসুস্থ গরু জবাই এবং মাংস কাটাকাটির কাজে সহযোগিতা করি। এরপর দিনেই হাতের বিভিন্ন স্থানে ফোড়া উঠতে শুরু করেছে। শরীরে জ্বর ও প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছি। তিনি আরও বলেন, মাংস কাটার কাজে সহযোগিতা করায় আমার মতো আরও অনেকে অসুস্থ হয়েছেন।’
একই কথা বলেন ওই গরুর মাংস কেটে অসুস্থ হওয়া মো. খতু মিয়া ও মো. নুর আলমসহ অনেকে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দে বলেন, ‘অসুস্থ ও মরা গরুর মাংসে এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে এ পর্যন্ত ২ টি নমুনা পাঠানো হয়েছে। এলেই নিশ্চিত হতে পারবো। তবে এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে গ্রামে গ্রামে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গ্রামে গ্রামে অসুস্থ গরুগুলো জবাই করে খাওয়াটা ঠিক হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রচারণা চলছে।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাসের সাথে। এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু থেকে বাঁচতে হলে সচেতন হতে হবে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়া ঠিক না। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক তৎপর রয়েছে। সে কারণে সবধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে প্রাণি সম্পদ বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সচেতনতা আরও বাড়াতে প্রয়োজনে প্রত্যেক ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে মাইকিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

সুন্দরগঞ্জে আক্রান্ত গরুর গোশত কেটে-খেয়ে অসুস্থ অনেকে

প্রকাশের সময়: ০৭:০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত গরুর গোশত কেটে এবং খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু থাকতে পারে এ ধরনের গরুর মাংসে বলে ধারণা সচেতন মহলের।
গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গত ১৫ দিনে অজানা রোগে এ উপজেলায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক গরু-ছাগল মারা গেছে। জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে সমপরিমাণ গরুর। কম দাম মাংস পেয়ে ক্রয় করছেন অনেকে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষজন। আর এ সকল গরুর মাংস কেটে এবং খেয়ে অসুস্থ হচ্ছেন অনেকে। এ সকল গরুর মাংস থেকে এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে বলে ধারণা সচেতন মহলের। প্রাণঘাতি এ রোগের জীবাণু থেকে গরু-ছাগল এবং মানুষদের বাঁচাতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছেন তারা।
বুধবার সকাল ৯ টার দিকে কথা হয় মো. আবদুর রহমানের ছেলে মো. আবদুল মতিন মিয়ার (৩৩) পরিবারের সদস্যদের সাথে। তাঁদের বাড়ি সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের আলুটারী মহল্লায়। আবদুল মতিন মিয়া বাড়িতে না থাকায় কথা হয় তার বাবার সাথে।
তিনি বলেন,  ‘ছেলের খামারে ৬ টি গরু । গত রোববার প্রথমে ১ টি অসুস্থ হয়। পশু হাসপাতাল থেকে ডাক্তার আনা হয়েিছিলো। চিকিৎসাও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাচাতে পারেনি গরুটিকে। ওই দিনেই সেটি মারা যায়। বকনা গরু ছিলো। দাম ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা হতো।’
‘এ-র পরদিন গত সোমবার আবার ১ টা গাই গরু অসুস্থ হয়। পশু হাসপাতাল থেকে এ দিনেও ডাক্তার আনা হয়েছিলো। তারা এসে চিকিৎসাও দিয়েছিলেন। কিন্তু ঔষুধ খাওয়ানোর পরে আর বেশি অসুস্থ হয় গরুটি। পরে নিরুপায় হয়ে প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে অসুস্থ গরুটি জবাই করা হয়। বাজার মূল্যের থেকে অনেক কমদামে বিক্রি করা হয়েছে মাংসগুলো। এ গরুটির দাম লাখ টাকার বেশি হতো বলেও জানান তিনি।’
মো. আবদুল মতিন মিয়ার প্রতিবেশী মো. আবদুল গফুর মিয়া (৫৮) জানান, ভালো ছিলাম। ঘটনার দিন আবদুল মতিন মিয়ার অসুস্থ গরু জবাই এবং মাংস কাটাকাটির কাজে সহযোগিতা করি। এরপর দিনেই হাতের বিভিন্ন স্থানে ফোড়া উঠতে শুরু করেছে। শরীরে জ্বর ও প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছি। তিনি আরও বলেন, মাংস কাটার কাজে সহযোগিতা করায় আমার মতো আরও অনেকে অসুস্থ হয়েছেন।’
একই কথা বলেন ওই গরুর মাংস কেটে অসুস্থ হওয়া মো. খতু মিয়া ও মো. নুর আলমসহ অনেকে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দে বলেন, ‘অসুস্থ ও মরা গরুর মাংসে এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে এ পর্যন্ত ২ টি নমুনা পাঠানো হয়েছে। এলেই নিশ্চিত হতে পারবো। তবে এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে গ্রামে গ্রামে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গ্রামে গ্রামে অসুস্থ গরুগুলো জবাই করে খাওয়াটা ঠিক হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রচারণা চলছে।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাসের সাথে। এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু থেকে বাঁচতে হলে সচেতন হতে হবে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়া ঠিক না। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক তৎপর রয়েছে। সে কারণে সবধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে প্রাণি সম্পদ বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সচেতনতা আরও বাড়াতে প্রয়োজনে প্রত্যেক ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে মাইকিং করা হবে বলেও জানান তিনি।