শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য হুইলচেয়ারের আকুতি বাবার

শিশু মো. মনিরুজ্জামান মনির। বয়স চৌদ্দ বছর। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার ক্ষমতা আল্লাহ দেয়নি তাকে। সবসময় পড়ে থাকে। দেখলে মনে হয় শিশু মনির যেনো শুয়ে আছে। অর্থাভাবে ছেলের জন্য একটি হুইল চেয়ার কেনারও সামর্থ্য নেই রিক্সা চালক বাবা মো. আলতাব হোসেনের। সরকার এবং বিত্তবানদের নিকট একটি হুইল চেয়ারের আকুতি জানিয়েছেন তিনি। মো. আলতাব হোসেনের বাড়ি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম কাজী গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিবন্ধী শিশুটি শোয়ার ঘরের মাটিতে বস্তা দিয়ে বানানো একখানা বিছানায় শুয়ে আছে। ছোট্ট ঘরটির চাল ও বেড়া টিনের হওয়ায় প্রচন্ড গরম পড়ছে সেখানে। অসুস্থ মা মোছাঃ মল্লিকা বেগম শিশুটিকে একাই ঘরের বাহিরে নিতে পারেননি। ঘরের বাহিরে বাসাতে নিতে অপেক্ষা করছেন কারো জন্য। প্রতিবন্ধী শিশুটি না পারে উঠতে, না পারে বসতে। বলতে পারে না কথাও। প্রসাব-পায়খানা কখন হয় তাও সে বুঝতে পারে না। এমনকি সে নড়াচড়াও করতে পারে না। খাওয়াতে হয় তুলে।

মো. আলতাব হোসেন জানান, ‘জন্মে পর অনেক ডাক্তারকেই দেখাইছি। কেউ আমার ছেলেকে ভালো করতে পারেনি। সবাই বলেছেন ওর নাকি পুষ্টির অভাব ছিলো। গরীব মানুষ আমি। রিক্সা টানি খাই। আমি পুষ্টির কি বুঝি।

আলতাব হোসেন বলেন, এখনো ওকে প্রত্যেকদিন ঔষধ খাওয়াতে হয়। দুধ এবং ঔষধ মিলে প্রত্যেক মাসে ৩ হাজার টাকা লাগে ওর পিছনে। ঔষধ বন্ধ করলেই ঝাঁকুনি ও কান্না শুরু হয় এবং হাত-পা শিক লাগি আসে। আরও একটা ২ বছরের একটা ছেলে আছে। বাড়ী ভিটা ৭ শতাংশ ছাড়া আর কোনো জমি নেই আমার। প্রায় ৩০ বছর ধরে ঢাকায় থেকে ভাড়ায় রিক্সা চালাই। ছেলের ঔষধ এবং বাড়ি খরচ দিতেই হিমশিম খেতে হয়। আগের মতো আর মানুষও টানতে পারি না।

একটা হুইল চেয়ারের আকুতি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মেম্বার, চেয়ারম্যান এবং সমাজের সবাইকে অনেকবার বলেছি। অনেকে জানেও আমার ছেলেটি সেরিব্রালপালসি রোগে আক্রান্ত। কিন্তু কেউ সহযোগীতা করেনি আমাকে। যতদিন যাচ্ছে ততই ওর ওজন বাড়ছে। টানাটানি করতে খুব কষ্ট হয় ওর মায়ের।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাহাবুবুর রহমান ইজারাদার বলেন, এ ধরনের সুযোগ আমাদের নেই। এরপরও খোঁজ নিয়ে দেখছি কোনো ব্যাবস্থা করা যায় কি না।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার জানান, পরিষদ থেকে হুইল চেয়ার দেয়ার সুযোগ নেই। সমাজসেবা অফিসে আবেদন দিয়ে আমাকে একটা কপি দিতে বলেন। সহযোগিতা করবো।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান খানের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘একটা আবেদন দিতে বলেন। দেয়ার ব্যাবস্থা করবো।’

প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য হুইলচেয়ারের আকুতি বাবার

প্রকাশের সময়: ০৭:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শিশু মো. মনিরুজ্জামান মনির। বয়স চৌদ্দ বছর। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার ক্ষমতা আল্লাহ দেয়নি তাকে। সবসময় পড়ে থাকে। দেখলে মনে হয় শিশু মনির যেনো শুয়ে আছে। অর্থাভাবে ছেলের জন্য একটি হুইল চেয়ার কেনারও সামর্থ্য নেই রিক্সা চালক বাবা মো. আলতাব হোসেনের। সরকার এবং বিত্তবানদের নিকট একটি হুইল চেয়ারের আকুতি জানিয়েছেন তিনি। মো. আলতাব হোসেনের বাড়ি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম কাজী গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিবন্ধী শিশুটি শোয়ার ঘরের মাটিতে বস্তা দিয়ে বানানো একখানা বিছানায় শুয়ে আছে। ছোট্ট ঘরটির চাল ও বেড়া টিনের হওয়ায় প্রচন্ড গরম পড়ছে সেখানে। অসুস্থ মা মোছাঃ মল্লিকা বেগম শিশুটিকে একাই ঘরের বাহিরে নিতে পারেননি। ঘরের বাহিরে বাসাতে নিতে অপেক্ষা করছেন কারো জন্য। প্রতিবন্ধী শিশুটি না পারে উঠতে, না পারে বসতে। বলতে পারে না কথাও। প্রসাব-পায়খানা কখন হয় তাও সে বুঝতে পারে না। এমনকি সে নড়াচড়াও করতে পারে না। খাওয়াতে হয় তুলে।

মো. আলতাব হোসেন জানান, ‘জন্মে পর অনেক ডাক্তারকেই দেখাইছি। কেউ আমার ছেলেকে ভালো করতে পারেনি। সবাই বলেছেন ওর নাকি পুষ্টির অভাব ছিলো। গরীব মানুষ আমি। রিক্সা টানি খাই। আমি পুষ্টির কি বুঝি।

আলতাব হোসেন বলেন, এখনো ওকে প্রত্যেকদিন ঔষধ খাওয়াতে হয়। দুধ এবং ঔষধ মিলে প্রত্যেক মাসে ৩ হাজার টাকা লাগে ওর পিছনে। ঔষধ বন্ধ করলেই ঝাঁকুনি ও কান্না শুরু হয় এবং হাত-পা শিক লাগি আসে। আরও একটা ২ বছরের একটা ছেলে আছে। বাড়ী ভিটা ৭ শতাংশ ছাড়া আর কোনো জমি নেই আমার। প্রায় ৩০ বছর ধরে ঢাকায় থেকে ভাড়ায় রিক্সা চালাই। ছেলের ঔষধ এবং বাড়ি খরচ দিতেই হিমশিম খেতে হয়। আগের মতো আর মানুষও টানতে পারি না।

একটা হুইল চেয়ারের আকুতি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মেম্বার, চেয়ারম্যান এবং সমাজের সবাইকে অনেকবার বলেছি। অনেকে জানেও আমার ছেলেটি সেরিব্রালপালসি রোগে আক্রান্ত। কিন্তু কেউ সহযোগীতা করেনি আমাকে। যতদিন যাচ্ছে ততই ওর ওজন বাড়ছে। টানাটানি করতে খুব কষ্ট হয় ওর মায়ের।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাহাবুবুর রহমান ইজারাদার বলেন, এ ধরনের সুযোগ আমাদের নেই। এরপরও খোঁজ নিয়ে দেখছি কোনো ব্যাবস্থা করা যায় কি না।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার জানান, পরিষদ থেকে হুইল চেয়ার দেয়ার সুযোগ নেই। সমাজসেবা অফিসে আবেদন দিয়ে আমাকে একটা কপি দিতে বলেন। সহযোগিতা করবো।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান খানের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘একটা আবেদন দিতে বলেন। দেয়ার ব্যাবস্থা করবো।’