বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে হাডুডু খেলায় চ্যাম্পিয়ন ‘সিংহ’ দল

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ড. এম আই পাটোয়ারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৮ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম বাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা।

শুক্রবার সন্ধার দিকে এ খেলার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ খেলার আয়োজন করেছিলেন ফলগাছা বাজার যুব সমাজ ক্লাব। ফাইনাল খেলায় অংশ নেন টাইগার বনাম সিংহ দল। এতে সিংহ দল ২৪ পয়েন্ট এবং টাইগার দল ১৭ পয়েন্ট অর্জন করে। পরে বিজয়ী দল সিংহকে গরু এবং টাইগার দলকে খাসি ছাগল পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক সাংসদ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর এ খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এ বিদ্যালয় মাঠে। ৮ দিনে মোট ১৬ টি দল অংশ নিয়েছিলো এ খেলায়।

এদিকে দীর্ঘদিন পরে এ ধরনের আয়োজনে খুশি দর্শনার্থীরা। তারা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উপভোগ করেছেন খেলাগুলো। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকেও আসতে দেখা গেছে দর্শকদের। আগত হাজার হাজার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীর দেখে আনন্দিত এ খেলার আয়োজকরাও।

দর্শনার্থী মো. শিপন মিয়া (২৫) বলেন, এ খেলা একটা মজার খেলা। যেটা আমরা কখনো দেখি নাই। কি ভাবে খেলে, কতজন খেলোয়ার, কিভাবে গেম হয়। আমার মনে হয় এ যুগের ৮০% ছেলেমেয়ে বলতে পারবে না। কারণ জাস্ট বইয়ে পড়েছি এটা আমাদের একটা জাতীয় খেলা।

বিজয়ী সিংহ দলের অধিনায়ক মো. আলমগীর হোসাইন বিদেশি বলেন, এ বিজয়ের আনন্দ আমার একার নয়। মাঠে যারা আছেন সবার। মাঠের দর্শকদের আনন্দ দিতে পেরেছি দেখেই আমরা খুশি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যতোটা সহজ মনে করা হয় আসলে এ খেলাটা ততো সজহ না। খেলতে গেলে অনেক সাহস আর শক্তি লাগে। কৌশলীও হতে হয় খেলার মাঠে। যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতেও লাগে উপস্থিত বুদ্ধি। তবে আর যাই হোক খেলা ধুলায় থাকলে মণ ও শরীর দুটোই ভালো থাকে। মাদক বা কুচিন্তা কখনো আসে না মাথায়।

শিক্ষক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজমুল হুদা আয়োজকদের মধ্যে একজন অন্যতম সদস্য। তিনি বলেন, ‘ইয়াং জেনারেশানকে নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। তাদের যে অধগতি এবং অধপতনের রাস্তা তৈরি হয়েছে আমার বিশ্বাস, তাদেরকে খেলাধুলার মধ্যে ধরে রাখতে পারলে ঐ জায়গা থেকে ফিরে আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের করাল গ্রাস এবং মোবাইল আসক্তি আমাদের জীবনী শক্তিকে যে ভাবে ধ্বংস করছে, একমাত্র খেলাধুলায় পারে সেখান থেকে তাদের ফিরে আনতে। আগামীতে বৃহৎ পরিসরে করার চিন্তা ভাবনা আছে বলেও জানান এ আয়োজক।

 

প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসিনি। আসিনি এমপি হিসেবেও। এসেছি প্রতিবেশী হিসেবে। এ খেলাটি গ্রাম বাংলার পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। আগে সবসময় চোখে পড়তো এ হাডুডু খেলা। এখন বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মক পরিচিত হবে এ খেলার মাধ্যমে। সে কারণে আয়োজকদের ধন্যবাদ।

সুন্দরগঞ্জে হাডুডু খেলায় চ্যাম্পিয়ন ‘সিংহ’ দল

প্রকাশের সময়: ০৫:৫০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ড. এম আই পাটোয়ারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৮ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম বাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা।

শুক্রবার সন্ধার দিকে এ খেলার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ খেলার আয়োজন করেছিলেন ফলগাছা বাজার যুব সমাজ ক্লাব। ফাইনাল খেলায় অংশ নেন টাইগার বনাম সিংহ দল। এতে সিংহ দল ২৪ পয়েন্ট এবং টাইগার দল ১৭ পয়েন্ট অর্জন করে। পরে বিজয়ী দল সিংহকে গরু এবং টাইগার দলকে খাসি ছাগল পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক সাংসদ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর এ খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এ বিদ্যালয় মাঠে। ৮ দিনে মোট ১৬ টি দল অংশ নিয়েছিলো এ খেলায়।

এদিকে দীর্ঘদিন পরে এ ধরনের আয়োজনে খুশি দর্শনার্থীরা। তারা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উপভোগ করেছেন খেলাগুলো। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকেও আসতে দেখা গেছে দর্শকদের। আগত হাজার হাজার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীর দেখে আনন্দিত এ খেলার আয়োজকরাও।

দর্শনার্থী মো. শিপন মিয়া (২৫) বলেন, এ খেলা একটা মজার খেলা। যেটা আমরা কখনো দেখি নাই। কি ভাবে খেলে, কতজন খেলোয়ার, কিভাবে গেম হয়। আমার মনে হয় এ যুগের ৮০% ছেলেমেয়ে বলতে পারবে না। কারণ জাস্ট বইয়ে পড়েছি এটা আমাদের একটা জাতীয় খেলা।

বিজয়ী সিংহ দলের অধিনায়ক মো. আলমগীর হোসাইন বিদেশি বলেন, এ বিজয়ের আনন্দ আমার একার নয়। মাঠে যারা আছেন সবার। মাঠের দর্শকদের আনন্দ দিতে পেরেছি দেখেই আমরা খুশি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যতোটা সহজ মনে করা হয় আসলে এ খেলাটা ততো সজহ না। খেলতে গেলে অনেক সাহস আর শক্তি লাগে। কৌশলীও হতে হয় খেলার মাঠে। যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতেও লাগে উপস্থিত বুদ্ধি। তবে আর যাই হোক খেলা ধুলায় থাকলে মণ ও শরীর দুটোই ভালো থাকে। মাদক বা কুচিন্তা কখনো আসে না মাথায়।

শিক্ষক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজমুল হুদা আয়োজকদের মধ্যে একজন অন্যতম সদস্য। তিনি বলেন, ‘ইয়াং জেনারেশানকে নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। তাদের যে অধগতি এবং অধপতনের রাস্তা তৈরি হয়েছে আমার বিশ্বাস, তাদেরকে খেলাধুলার মধ্যে ধরে রাখতে পারলে ঐ জায়গা থেকে ফিরে আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের করাল গ্রাস এবং মোবাইল আসক্তি আমাদের জীবনী শক্তিকে যে ভাবে ধ্বংস করছে, একমাত্র খেলাধুলায় পারে সেখান থেকে তাদের ফিরে আনতে। আগামীতে বৃহৎ পরিসরে করার চিন্তা ভাবনা আছে বলেও জানান এ আয়োজক।

 

প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসিনি। আসিনি এমপি হিসেবেও। এসেছি প্রতিবেশী হিসেবে। এ খেলাটি গ্রাম বাংলার পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। আগে সবসময় চোখে পড়তো এ হাডুডু খেলা। এখন বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মক পরিচিত হবে এ খেলার মাধ্যমে। সে কারণে আয়োজকদের ধন্যবাদ।