মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণসংযোগে চোখের চিকিৎসা, ওষুধ-চশমা পেয়ে খুশি ভোটাররা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মাঠে তৎপর হয়ে উঠছেন প্রার্থীরা। এমনি একজন তৎপর এমপি প্রার্থীকে দেখা গেছে ভোটের মাঠে। তবে তাঁর প্রচারণায় দেখা গেছে ভিন্নতা। গণসংযোগে তিনি ভোট চাইতে গেলেও তাকে প্রতিনিয়ত দিতে হচ্ছে চোখের চিকিৎসা। আর তিনি হলন অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন তিনি।

সরেজমিনে গত কয়েকদিন গিয়ে দেখা গেছে, প্রার্থীর সাথে থাকা নেতাকর্মীদের হাত ব্যাগে পোস্ট পেপারের পাশাপাশি রয়েছে প্রেসক্রিপশন, ঔষধপত্র ও চশমার ব্যাগ। গনসংযোগ, মতবিনিময় এবং চোখের চিকিৎসা সবগুলোই চলছে সমানতালে। দেখে মনে হয় তিনি যেনো ভোট চাইতে নয়, চোখের চিকিৎসা দিতেই এসেছেন নির্বাচনী মাঠে। নির্বাচনী মাঠে তার ব্যাতিক্রমধর্মী আয়োজনে ভোটারদের উপস্থিতিও দেখা গেছে ব্যাপক। ফ্রীতে ব্যাবস্থাপত্র, ঔষধপত্র ও চশমা পেয়ে উচ্ছ্বসিত নারী-পুরুষ ভোটারগণ।

চোখের চিকিৎসা পেয়ে খুশি ষাটোর্ধ্ব গৃহিণী মোছাঃ মিনারা বেগম জানান, ‘প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা। শাননিক হয়েছিলো বাম চোখে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে নষ্ট হয় সেটি। তখন থেকেই বাম চোখ দিয়ে কিছু দেখি না। ভরসা ছিলো একমাত্র ডান চোখ। ইদানীং সেটি দিয়েও ঝাপসা দেখছি। কোনো মানুষ দেখতে পাই না, অন্ধকার দেখা যায়। টাকা পয়সার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। শুনেছি ডাঃ জিয়া স্যার চোখের ডাক্তার। উনার আসার অপেক্ষায় ছিলাম। শেষমেশ দেখা হয় স্যারের সাথে। উনি ভোট চাইতে এসেছিলেন। চোখের কথা বলতেই তিনি লাইট দিয়ে চোখ দেখে বললেন চোখে ছানি পরেছে। অপারেশন করাতে হবে। সে ব্যাবস্থাও উনি করে দিতে চেয়েছেন। তা-না হলে হয়তো আমাকে অন্ধ চোখ নিয়েই কবরে যেতে হতো। স্যারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মোছাঃ মিনারা বেগম চন্ডিপুর ইউনিয়নের সীচা ব্যাকাটারী গ্রামের মো. আবদুল গফুর মিয়ার স্ত্রী।

চোখেমুখে কৃতজ্ঞতা ছাপ কেবলমাত্র আবদুল গফুর মিয়ার স্ত্রীর নয়, এ ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে হাজারো নিরীহ সাধারণ ভোটারদের চোখেমুখে।

কথা হয় আরেক ষাটোর্ধ্ব বিধবা নারী মোছাঃ আকলিমা বেগমের সাথে। স্বামী-সন্তান কেউ নেই তার এ পৃথিবীতে। কোনোমতে ঠাঁই নিয়ে থাকেন অন্যের পরিত্যক্ত জমিতে। ভিক্ষা-বৃত্তি করে পেট চলে তার। তিনি বলেন, ‘ওমরা ভোট বুলি আসছিল। মোক দেকতেই কয়, মা তোমার চোকের এ অবস্থা ক্যা। কয়ায় দুই চউক নাইট দিয়া দেখিল মোর। তারপর কয় মোর চউকোত নাকি ছানি হইছে। অ্যাখান কাগজ নেকি দিয়া কইছে ঔষধ খাবার। ঔষধগুলাউ মোক দিছে। আল্লাহ ওমার ভালো করুক।

আকলিমা বেগম আরও বলেন, ‘ম্যালাদিন থাকি মুই চোকে ঝাপসা দেকম। গরীব মানুষ মুই। টেকা নাই। সেই জন্যে মুই এতোদিন দাক্তারোক দেকপার পামনাই।’ মোছাঃ আলকিমা বেগম থাকেন রামজীবন ইউনিয়ন।

কথা হয় আরেক ভোটার মো আবদুল আজিজ মিয়ার (৫৫) সাথে। তার বাড়ি উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে। তিনি চন্ডিপুরে তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ফ্রীতে চশমা ও ঔষধ পত্র পেয়ে তিনিও ভীষণ খুশি। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, এ সড়ক দিয়ে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলাম। লোকজনের ভীড় থেকে থামি। শুনি, কে জানি ফ্রীতে চোখ দেখছেন। পরে আমিও চোখ দেখাইলাম। চোখ দেখে উনি আমাকে চশমা এবং পনেরো দিনের ঔষধ দিলেন। কোনো টাকা নিনেল না। পনেরো দিন পরে আমি যেনো ওনার সাথে আবারও দেখা করি সেটাও বললেন উনি। আল্লাহ ওনার মনের আশা পূরণ করুন।

এ বিষয়ে কথা হয় চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলীর সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ এটা অনেকেই জানেন। সে কারণে অনেকে চোখ দেখাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন তাৎক্ষনিক ভাবে আমি তাদের চোখ দেখে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। চোখে ছানি রোগীর সংখ্যাটা বেশি। ইতোমধ্যে তিনটি আই ক্যাম্প করেছি। গত কয়েকদিনে প্রায় হাজার দুয়েক ভোটারকে এ সুবিধা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। কারণ তারা সবাই জানেন আমরা ভোট চাইতে এসেছি। সেটি আর নতুন করে আমাদের তেমন বলা লাগে না। বরং তারাই পাড়া-মহল্লায় গিয়ে প্রচার করছেন যে, ধানের শীষের প্রার্থী ভোট চাইতে এসে আমাদের ফ্রীতে চোখ দেখেছেন। সেই সাথে চিকিৎসা, চশমা ও ঔষধ দিয়েছেন ফ্রীতে। গণসংযোগকালে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির এটাও একটা কারণ হতে পারে বলে আমি ধারণা করছি।

গণসংযোগে চোখের চিকিৎসা, ওষুধ-চশমা পেয়ে খুশি ভোটাররা

প্রকাশের সময়: ০৬:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মাঠে তৎপর হয়ে উঠছেন প্রার্থীরা। এমনি একজন তৎপর এমপি প্রার্থীকে দেখা গেছে ভোটের মাঠে। তবে তাঁর প্রচারণায় দেখা গেছে ভিন্নতা। গণসংযোগে তিনি ভোট চাইতে গেলেও তাকে প্রতিনিয়ত দিতে হচ্ছে চোখের চিকিৎসা। আর তিনি হলন অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন তিনি।

সরেজমিনে গত কয়েকদিন গিয়ে দেখা গেছে, প্রার্থীর সাথে থাকা নেতাকর্মীদের হাত ব্যাগে পোস্ট পেপারের পাশাপাশি রয়েছে প্রেসক্রিপশন, ঔষধপত্র ও চশমার ব্যাগ। গনসংযোগ, মতবিনিময় এবং চোখের চিকিৎসা সবগুলোই চলছে সমানতালে। দেখে মনে হয় তিনি যেনো ভোট চাইতে নয়, চোখের চিকিৎসা দিতেই এসেছেন নির্বাচনী মাঠে। নির্বাচনী মাঠে তার ব্যাতিক্রমধর্মী আয়োজনে ভোটারদের উপস্থিতিও দেখা গেছে ব্যাপক। ফ্রীতে ব্যাবস্থাপত্র, ঔষধপত্র ও চশমা পেয়ে উচ্ছ্বসিত নারী-পুরুষ ভোটারগণ।

চোখের চিকিৎসা পেয়ে খুশি ষাটোর্ধ্ব গৃহিণী মোছাঃ মিনারা বেগম জানান, ‘প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা। শাননিক হয়েছিলো বাম চোখে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে নষ্ট হয় সেটি। তখন থেকেই বাম চোখ দিয়ে কিছু দেখি না। ভরসা ছিলো একমাত্র ডান চোখ। ইদানীং সেটি দিয়েও ঝাপসা দেখছি। কোনো মানুষ দেখতে পাই না, অন্ধকার দেখা যায়। টাকা পয়সার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। শুনেছি ডাঃ জিয়া স্যার চোখের ডাক্তার। উনার আসার অপেক্ষায় ছিলাম। শেষমেশ দেখা হয় স্যারের সাথে। উনি ভোট চাইতে এসেছিলেন। চোখের কথা বলতেই তিনি লাইট দিয়ে চোখ দেখে বললেন চোখে ছানি পরেছে। অপারেশন করাতে হবে। সে ব্যাবস্থাও উনি করে দিতে চেয়েছেন। তা-না হলে হয়তো আমাকে অন্ধ চোখ নিয়েই কবরে যেতে হতো। স্যারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মোছাঃ মিনারা বেগম চন্ডিপুর ইউনিয়নের সীচা ব্যাকাটারী গ্রামের মো. আবদুল গফুর মিয়ার স্ত্রী।

চোখেমুখে কৃতজ্ঞতা ছাপ কেবলমাত্র আবদুল গফুর মিয়ার স্ত্রীর নয়, এ ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে হাজারো নিরীহ সাধারণ ভোটারদের চোখেমুখে।

কথা হয় আরেক ষাটোর্ধ্ব বিধবা নারী মোছাঃ আকলিমা বেগমের সাথে। স্বামী-সন্তান কেউ নেই তার এ পৃথিবীতে। কোনোমতে ঠাঁই নিয়ে থাকেন অন্যের পরিত্যক্ত জমিতে। ভিক্ষা-বৃত্তি করে পেট চলে তার। তিনি বলেন, ‘ওমরা ভোট বুলি আসছিল। মোক দেকতেই কয়, মা তোমার চোকের এ অবস্থা ক্যা। কয়ায় দুই চউক নাইট দিয়া দেখিল মোর। তারপর কয় মোর চউকোত নাকি ছানি হইছে। অ্যাখান কাগজ নেকি দিয়া কইছে ঔষধ খাবার। ঔষধগুলাউ মোক দিছে। আল্লাহ ওমার ভালো করুক।

আকলিমা বেগম আরও বলেন, ‘ম্যালাদিন থাকি মুই চোকে ঝাপসা দেকম। গরীব মানুষ মুই। টেকা নাই। সেই জন্যে মুই এতোদিন দাক্তারোক দেকপার পামনাই।’ মোছাঃ আলকিমা বেগম থাকেন রামজীবন ইউনিয়ন।

কথা হয় আরেক ভোটার মো আবদুল আজিজ মিয়ার (৫৫) সাথে। তার বাড়ি উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে। তিনি চন্ডিপুরে তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ফ্রীতে চশমা ও ঔষধ পত্র পেয়ে তিনিও ভীষণ খুশি। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, এ সড়ক দিয়ে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলাম। লোকজনের ভীড় থেকে থামি। শুনি, কে জানি ফ্রীতে চোখ দেখছেন। পরে আমিও চোখ দেখাইলাম। চোখ দেখে উনি আমাকে চশমা এবং পনেরো দিনের ঔষধ দিলেন। কোনো টাকা নিনেল না। পনেরো দিন পরে আমি যেনো ওনার সাথে আবারও দেখা করি সেটাও বললেন উনি। আল্লাহ ওনার মনের আশা পূরণ করুন।

এ বিষয়ে কথা হয় চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলীর সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ এটা অনেকেই জানেন। সে কারণে অনেকে চোখ দেখাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন তাৎক্ষনিক ভাবে আমি তাদের চোখ দেখে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। চোখে ছানি রোগীর সংখ্যাটা বেশি। ইতোমধ্যে তিনটি আই ক্যাম্প করেছি। গত কয়েকদিনে প্রায় হাজার দুয়েক ভোটারকে এ সুবিধা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। কারণ তারা সবাই জানেন আমরা ভোট চাইতে এসেছি। সেটি আর নতুন করে আমাদের তেমন বলা লাগে না। বরং তারাই পাড়া-মহল্লায় গিয়ে প্রচার করছেন যে, ধানের শীষের প্রার্থী ভোট চাইতে এসে আমাদের ফ্রীতে চোখ দেখেছেন। সেই সাথে চিকিৎসা, চশমা ও ঔষধ দিয়েছেন ফ্রীতে। গণসংযোগকালে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির এটাও একটা কারণ হতে পারে বলে আমি ধারণা করছি।