মৌলভী মো. শাহীন মিয়া। চাকুরী নেয় একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসায়। বাবা-মা’র মুখে হাসি ফুটাবেন, এমন স্বপ্নে চাকুরীতে যোগদান করে তিনি। কিন্তু বিধিবাম! চাকুরী জীবনের ৭ বছর পার হলেও, এখনো তার কপালে জোটেনি সেই বেতন-ভাতা। ফলে জীবিকার তাগিদে তিনি এখন ফেরি করে বিক্রি করছেন কেক। এই কেক বিক্রি করেই সংসার চালছে তার।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) গাইবান্ধার জামালপুর ইউনিয়নের নাগবাড়ী বাজারে দেখা হয় শাহীনের সঙ্গে। এসময় বাইসাইকেল আর ব্যাগে করে বেকারীর তৈরী কেক ফেরি করে বিক্রি করছিলেন বিভিন্ন দোকানে।
জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের বকু মিয়ার ছেলে মাওলানা মো. শাহীন মিয়া। গত ২০১৪ ইং সনে স্থানীয় আব্দুল হামিদ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসায় সহকারী মৌলভী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান দিয়ে শিক্ষার আলো ছাড়াচ্ছেন প্রাথমিক স্তরের শিশুদের মাঝে। এভাবে অন্যের জীবন আলোকিত করার চেষ্টা করে আসলেও, নিজের জীবনের আলো প্রায় নিভুনিভু অবস্থায় পড়েছে। কারণ, দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে ওই মাদরাসায় চাকুরী করে আসলেও, আজও তার কপালে জোটেনি কাঙ্খিত বেতন-ভাতা। দীর্ঘ সময়ে বিনা বেতনে চাকুরীতে সংসার জীবনে নেমেছে অস্বচ্ছলতা। এরই মধ্যে এক বছর আগে বিয়েও করেন শাহীন মিয়া। এরই পর নববধূ ও মা-বাবাকে নিয়ে টানা পোড়েনে পড়তে হয় তাকে । যেন তার জীবেন নেমে আসে অন্ধকার। তবে মনোবল হারায়নি কখনো। দৃঢ় মনোবল নিয়ে কেক বিক্রি করে সংসার চলছে শাহীনের।

এ পরিস্থিতির শিকার শাহীন মিয়া জানান, কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিছে পিতা-মাতা। তাদের এ কষ্ট ঘোচাতে ৭ বছর আগে ওই মাদরাসায় সহকারী মৌলভী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্ত প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তি না হওয়ায় এখনো বেতন-ভাতাদির সুবিধা পায়নি। এমতাবস্থায় জীবিকার তাগিদে ফেরি করে বিক্রি করা হচ্ছে বেকারির তৈরী কেক। এ দিয়ে দৈনণ্দিন ২০০-২৫০ টাকা আয় হয়। তা দিয়ে চলছে শিক্ষক শাহীন মিয়ার সংসার।

সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, এ উপজেলায় প্রায় পৌনে ১০০ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে। এসব মাদরাসাগুলোর সরকারি নির্দেশনা না থাকায় এখন পর্যন্ত এমপিও কিংবা বেতন-ভাতা হয়নি। তবে কয়েকটি মাদরাসার শিক্ষকরা কিছু ভাতা পাচ্ছেন।
তোফায়েল হোসেন জাকির 









