শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবুজ পাতার ফাঁকে সূর্যমূখীর হাসি

Digital Camera

গাইবান্ধায় বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। তাই কৃষকরা ঝুকছে সূর্য়মূখী চাষে। যেন ফাল্গুনের দখিনা হাওয়ায় মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। সূর্য্যের আলোয় সুবজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সূর্যমূখী ফুল। আর এই ফুলের উঁকিতে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

সোমবার (১৫ মার্চ) বিকেলে গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামে দেখা যায় সূর্য়মূখীর রঙিন ক্ষেত। এসময় পরিচর্যা ব্যস্ত ছিলেন শ্রমিক আমিনুল ইসলাম।

জানা যায় শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা। এ জেলায় এমন কোন ফসল নেই, যা উৎপাদন হয় না। এ বছরে বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা সূর্যমূখী চাষে ঝুকে পড়েছে। এ চাষে কৃষকদের লাভবান করতে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ। তাদের প্রণোদনা দেওয়াসহ সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তাই কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেকটাই। চলতি মৌসুমে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সার-পরিচার্যা প্রায় শেষের দিকে। আর কয়েক দিন পরই কৃষকরা ঘরে তুলবেন স্বপ্নের এই ফসল।

বামনডাঙ্গার মনমথ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের সহায়তায় এক বিঘা জমিতে সূর্যমূখী চাষাবাদ করা হয়। এতে প্রায় ৪০০ গ্রাম বীজ বপন করতে হয়েছে। সবমিলে প্রায় খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এ থেকে ৭ মণ ফসল পাওয়া যেতে পারে। বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী লাভবান হওয়া সম্ভব।

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামনা জানান, সূর্যমুখী তেল অনেকটাই স্বাস্থ্য সম্মত। সরিষা ও সোয়াবিন তেলের চেয়ে পুষ্টিগুণ বেশী রয়েছে। তাই সূর্যমূখী চাষে কৃষকদের লাভবান করাতে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, চলতি মৌসুমে ৭ টি উপজেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখী চাষাবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। গত বছর অর্জিত হয়েছিল ৩৩৫ হেক্টর। এ বছরে প্রণোদনা দেওয়ায় সূর্যমূখী চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের।

 

জনপ্রিয়

সবুজ পাতার ফাঁকে সূর্যমূখীর হাসি

প্রকাশের সময়: ০৬:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মার্চ ২০২১

গাইবান্ধায় বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। তাই কৃষকরা ঝুকছে সূর্য়মূখী চাষে। যেন ফাল্গুনের দখিনা হাওয়ায় মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। সূর্য্যের আলোয় সুবজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সূর্যমূখী ফুল। আর এই ফুলের উঁকিতে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

সোমবার (১৫ মার্চ) বিকেলে গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামে দেখা যায় সূর্য়মূখীর রঙিন ক্ষেত। এসময় পরিচর্যা ব্যস্ত ছিলেন শ্রমিক আমিনুল ইসলাম।

জানা যায় শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা। এ জেলায় এমন কোন ফসল নেই, যা উৎপাদন হয় না। এ বছরে বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা সূর্যমূখী চাষে ঝুকে পড়েছে। এ চাষে কৃষকদের লাভবান করতে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ। তাদের প্রণোদনা দেওয়াসহ সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তাই কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেকটাই। চলতি মৌসুমে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সার-পরিচার্যা প্রায় শেষের দিকে। আর কয়েক দিন পরই কৃষকরা ঘরে তুলবেন স্বপ্নের এই ফসল।

বামনডাঙ্গার মনমথ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের সহায়তায় এক বিঘা জমিতে সূর্যমূখী চাষাবাদ করা হয়। এতে প্রায় ৪০০ গ্রাম বীজ বপন করতে হয়েছে। সবমিলে প্রায় খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এ থেকে ৭ মণ ফসল পাওয়া যেতে পারে। বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী লাভবান হওয়া সম্ভব।

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামনা জানান, সূর্যমুখী তেল অনেকটাই স্বাস্থ্য সম্মত। সরিষা ও সোয়াবিন তেলের চেয়ে পুষ্টিগুণ বেশী রয়েছে। তাই সূর্যমূখী চাষে কৃষকদের লাভবান করাতে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, চলতি মৌসুমে ৭ টি উপজেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখী চাষাবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। গত বছর অর্জিত হয়েছিল ৩৩৫ হেক্টর। এ বছরে প্রণোদনা দেওয়ায় সূর্যমূখী চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের।