পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে অপহরণ চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অপহৃত দুই কলেজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণ কাজে ব্যবহৃত একাধিক মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী উপজেলার পিয়ারপুর এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ মাজহারুল ইসলাম প্রান্ত (১৯) এবং তার বন্ধু মোঃ তানভীর হোসেন তন্ময় (১৮) গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখ বিকেলে পাবনা শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অপহরণ কারীরা প্রান্তের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে জানায় যে, দুইজনকে একটি মেয়েসহ আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের মুক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একই সঙ্গে অপহৃতদের মারধর ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি পাবনা জেলা ডিবি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ছুফি উল্লাহ স্যারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রেজিনুর রহমান স্যারের তত্ত্বাবধানে ওসি ডিবি জনাব মোঃ রাশিদুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্বে এসআই বেনু রয় পিপিএম,
এসআই মোঃ জাকারিয়া মাসুদ ও এসআই মোঃ মহিদুল ইসলাম এর সমন্বয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) র একটি চৌকস টিম এর মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশের অভিযানে ২০ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ০২:১৫ মিনিটে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয় এবং অপহৃত দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেনঃ- মোঃ রনি শেখ (২৫), জাহিদ ইসলাম হাতেম (২৫), শান্ত মিয়া (২৪), মোঃ রাহাত আলী (২০), সেজান হোসেন (২৫),সাজ্জাদ হোসেন (২০), সোহেল রানা (৪০), রিফাত হোসেন (১৯)।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পলাতক আসামির নাম জানা গেছে, যাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানকালে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোটরসাইকেল ও একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত দুই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অপহরণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, পাবনা 



















