মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেলার সাধ মিটাতে খাগড়াই বানানোর ধুম  বাড়িতে

Digital Camera

পহেলা বৈশাখে গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মেলা। গ্রামবাংলার চিরায়ত ওই মেলার আকর্ষণীয় খাবার হচ্ছে খাগড়াই । কিন্ত করোনার বিস্তার রোধে আজ কোথাও বসেনি বৈশাখী মেলা। তাই মেলার সাধ ঘোলে মিটাতে গৃহবধূদের খাগড়াই বানানোর ধুম পড়েছে বাড়িতে।

বুধবার (পহেলা বৈশাখ) দুপুরে গাইবান্ধার সদর উপজেলার কাজলঢোপ গ্রামের দেখা যায় গৃহবধূদের খাগড়াই বানানোর চিত্র। এসময় মেশিনে চাউল দিয়ে খাগড়াই বানাতে ভিড় করছিলেন তারা।

জানা যায়, পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালির সার্বজনীন লোকউৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে নানা আয়োজনসহ গাইবান্ধার বিভিন্নস্থানে বসে বৈশাখী মেলা। এসব মেলার গ্রামবাংলার লোকজ খাবার বাতাসা, নিমকি, বাতাসা, কদমা, মুরলি ও খাগড়াই প্রভৃতি। মেলায় এসব খাবারগুলো প্রচুর চাহিদায় যেমন লাভবান হতো ব্যবসায়ীরা তেমনি খাগড়াইয়ের সাধ মেটাতেন গৃজবধূরা। কিন্ত করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউনের কবলে পড়েছে এ বছরের বৈশাখী মেলাগুলো। ফলে গ্রামবাংলার চিরায়ত খাবার খাগড়াইসহ বিভিন্ন খাবার থেকে বঞ্চিত গাইবান্ধার মানুষরা।

এদিকে, ভিন্ন কায়দা গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে খাগড়াই তৈরীর কাজ। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা শ্যালো মেশিন দিয়ে ভ্রাম্যমানভাবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বানিয়ে দিচ্ছেন খাগড়াই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামীন বধূরা চাল দিয়ে খাগড়াই তৈরী করে নিচ্ছে। যেন গ্রামে-গ্রামে ধুম পড়েছে খাগড়াই বানানোর।

খাগড়াই তৈরী কারিগর কলিম উদ্দিন জানান, প্রত্যেক বছরের চৈত্রালি-বৈশাখী মেলায় নিজস্ব মেশিন দিয়ে খাগড়াই বানিয়ে পাইকারিতে বিক্রি করেতেন। এতে লাভবান হতেন তিনি। কিন্তু এ বছরে করোনার কারণে কোথায় মেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে গিয়ে খাগড়াই বানানো হচ্ছে।

খাগড়াই তৈরী করতে আসা গৃহবধূ কমেলা বেগম বলেন, খাগড়াইসহ বিভিন্ন খাবার রয়েছে মেলার প্রধান আকর্ষণ। করোনার প্রভাবে সেটি থেকে বঞ্চিত এ বছর। তাই বাড়িতে মেশিন আনায় এক কেজি চালের খাগড়াই তৈরী করা হলো। এতে মেশিন মালিককে দিতে হয়েছে ৪০ টাকা।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন জানান, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সর্বাত্নক লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কারণে গাইবান্ধার কোন স্থানে বৈশাখী মেলা বসতে দেয়া হয়নি।

 

মেলার সাধ মিটাতে খাগড়াই বানানোর ধুম  বাড়িতে

প্রকাশের সময়: ০৫:০৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

পহেলা বৈশাখে গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মেলা। গ্রামবাংলার চিরায়ত ওই মেলার আকর্ষণীয় খাবার হচ্ছে খাগড়াই । কিন্ত করোনার বিস্তার রোধে আজ কোথাও বসেনি বৈশাখী মেলা। তাই মেলার সাধ ঘোলে মিটাতে গৃহবধূদের খাগড়াই বানানোর ধুম পড়েছে বাড়িতে।

বুধবার (পহেলা বৈশাখ) দুপুরে গাইবান্ধার সদর উপজেলার কাজলঢোপ গ্রামের দেখা যায় গৃহবধূদের খাগড়াই বানানোর চিত্র। এসময় মেশিনে চাউল দিয়ে খাগড়াই বানাতে ভিড় করছিলেন তারা।

জানা যায়, পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালির সার্বজনীন লোকউৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে নানা আয়োজনসহ গাইবান্ধার বিভিন্নস্থানে বসে বৈশাখী মেলা। এসব মেলার গ্রামবাংলার লোকজ খাবার বাতাসা, নিমকি, বাতাসা, কদমা, মুরলি ও খাগড়াই প্রভৃতি। মেলায় এসব খাবারগুলো প্রচুর চাহিদায় যেমন লাভবান হতো ব্যবসায়ীরা তেমনি খাগড়াইয়ের সাধ মেটাতেন গৃজবধূরা। কিন্ত করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউনের কবলে পড়েছে এ বছরের বৈশাখী মেলাগুলো। ফলে গ্রামবাংলার চিরায়ত খাবার খাগড়াইসহ বিভিন্ন খাবার থেকে বঞ্চিত গাইবান্ধার মানুষরা।

এদিকে, ভিন্ন কায়দা গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে খাগড়াই তৈরীর কাজ। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা শ্যালো মেশিন দিয়ে ভ্রাম্যমানভাবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বানিয়ে দিচ্ছেন খাগড়াই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামীন বধূরা চাল দিয়ে খাগড়াই তৈরী করে নিচ্ছে। যেন গ্রামে-গ্রামে ধুম পড়েছে খাগড়াই বানানোর।

খাগড়াই তৈরী কারিগর কলিম উদ্দিন জানান, প্রত্যেক বছরের চৈত্রালি-বৈশাখী মেলায় নিজস্ব মেশিন দিয়ে খাগড়াই বানিয়ে পাইকারিতে বিক্রি করেতেন। এতে লাভবান হতেন তিনি। কিন্তু এ বছরে করোনার কারণে কোথায় মেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে গিয়ে খাগড়াই বানানো হচ্ছে।

খাগড়াই তৈরী করতে আসা গৃহবধূ কমেলা বেগম বলেন, খাগড়াইসহ বিভিন্ন খাবার রয়েছে মেলার প্রধান আকর্ষণ। করোনার প্রভাবে সেটি থেকে বঞ্চিত এ বছর। তাই বাড়িতে মেশিন আনায় এক কেজি চালের খাগড়াই তৈরী করা হলো। এতে মেশিন মালিককে দিতে হয়েছে ৪০ টাকা।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন জানান, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সর্বাত্নক লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কারণে গাইবান্ধার কোন স্থানে বৈশাখী মেলা বসতে দেয়া হয়নি।