বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কবিগানের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা তৃতীয় লিঙ্গের সাথীর

কবি গানের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী মোছা. শাহিনুর আক্তার ওরফে সাথীর সমর্থকরা ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করছেন। এতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আগামী ৫ জানুয়ারি ১২টি ইউনিয়নে ভোটের লড়াই হবে। এবারের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার নানা শ্রেণিপেশার মানুষের দৃষ্ট কেড়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এক সদস্য প্রার্থী। উপজেলার ৪নং ঈসবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত-৩ (৭, ৮ ও ৯ নং) ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী আসনে ইউপি সদস্য পদে লড়ছেন মোছা. শাহিনুর আক্তার ওরফে সাথী নামে তৃতীয় লিঙ্গের একজন নারী। উপজেলায় এই প্রথম কোনো নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হতে তৃতীয় লিঙ্গের কেউ প্রার্থী হয়েছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনায় কাটছে তার দিনরাত। সাথী প্রতিদ্ব›দ্বী ৩ জন প্রার্থীকে হারিয়ে হাসতে চান বিজয়ীর হাসি। কাজ করতে চান তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ তার এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে।

তার পিতা মো. আব্দুস সোবহান ও মাতা মোছা. হাচেনা বেগম। ৩৮ বছর বয়সী সাথীর জন্ম ১৯৮৩ সালে। ৯ম শ্রেণি পাসের পর শারীরিক পরিবর্তনের কারণে গৃহত্যাগী হয়েছিলেন তিনি। পরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, গরিব ও অবহেলিত সাধারণ মানুষ এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে কাজ করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণসহ সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার আকাঙ্খায় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি কবি গানের মাধ্যমেও তার সমর্থকরা ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনে বক প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। তার সাথে মোছা. মালেকা বেগম (তালগাছ), সাবিত্রী রানী (বই) ও মুক্তা আরা বেগম (মাইক) নামে আরো ৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাথী বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট, বয়স্কভাতা কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড, জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ সহজে পাওয়া, নর্দমা, নলকূপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতিসহ এলাকার মানুষের উপকার যেন সঠিকভাবে করে যেতে পারি এই জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। এলাকার মুরব্বি ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পাচ্ছি। সাধারণ ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন-ইনশাআল্লাহ।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ-উল-আলম বলেন, ‘ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের মতো এ দেশে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, এটি একটি ইতিবাচক দিক। আমাদের প্রত্যেকের উচিত তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা। ভোটারদেরও উচিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ব্যাপারে মনোভাব পরিবর্তন করা।’ ছবি আছে।

কবিগানের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা তৃতীয় লিঙ্গের সাথীর

প্রকাশের সময়: ০৫:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১

কবি গানের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী মোছা. শাহিনুর আক্তার ওরফে সাথীর সমর্থকরা ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করছেন। এতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আগামী ৫ জানুয়ারি ১২টি ইউনিয়নে ভোটের লড়াই হবে। এবারের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার নানা শ্রেণিপেশার মানুষের দৃষ্ট কেড়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এক সদস্য প্রার্থী। উপজেলার ৪নং ঈসবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত-৩ (৭, ৮ ও ৯ নং) ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী আসনে ইউপি সদস্য পদে লড়ছেন মোছা. শাহিনুর আক্তার ওরফে সাথী নামে তৃতীয় লিঙ্গের একজন নারী। উপজেলায় এই প্রথম কোনো নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হতে তৃতীয় লিঙ্গের কেউ প্রার্থী হয়েছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনায় কাটছে তার দিনরাত। সাথী প্রতিদ্ব›দ্বী ৩ জন প্রার্থীকে হারিয়ে হাসতে চান বিজয়ীর হাসি। কাজ করতে চান তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ তার এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে।

তার পিতা মো. আব্দুস সোবহান ও মাতা মোছা. হাচেনা বেগম। ৩৮ বছর বয়সী সাথীর জন্ম ১৯৮৩ সালে। ৯ম শ্রেণি পাসের পর শারীরিক পরিবর্তনের কারণে গৃহত্যাগী হয়েছিলেন তিনি। পরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, গরিব ও অবহেলিত সাধারণ মানুষ এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে কাজ করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণসহ সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার আকাঙ্খায় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি কবি গানের মাধ্যমেও তার সমর্থকরা ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনে বক প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। তার সাথে মোছা. মালেকা বেগম (তালগাছ), সাবিত্রী রানী (বই) ও মুক্তা আরা বেগম (মাইক) নামে আরো ৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাথী বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট, বয়স্কভাতা কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড, জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ সহজে পাওয়া, নর্দমা, নলকূপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতিসহ এলাকার মানুষের উপকার যেন সঠিকভাবে করে যেতে পারি এই জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। এলাকার মুরব্বি ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পাচ্ছি। সাধারণ ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন-ইনশাআল্লাহ।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ-উল-আলম বলেন, ‘ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের মতো এ দেশে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, এটি একটি ইতিবাচক দিক। আমাদের প্রত্যেকের উচিত তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা। ভোটারদেরও উচিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ব্যাপারে মনোভাব পরিবর্তন করা।’ ছবি আছে।