বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরিরবন্দরে থামছেই না ডাম্পট্রাক-ট্রাক্টরের দাপট

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে থামছেই না ডাম্পট্রাক-ট্রাক্টরের দাপট। এসবের দাপটে নাকাল হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বালু বোঝাই ডাম্প ট্রাক আর ট্রাক্টরের দাপটে উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের চওড়ারবাড়ি গ্রামের প্রধান রাস্তা ধুলা বালিতে ভরে গেছে। রাস্তার উপরে জমেছে বালুর স্তুপ ও বসতবাড়িতে ধরেছে ফাটল। এই ডাম্প ট্রাকসহ ট্রাক্টর চলাচলে বাতাসে ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে। ধুলাবালি উড়ে গিয়ে পড়ে আশেপাশের বসতবাড়িতে। পথচারী ও স্থানীয়দের কাপড় দিয়ে নাক মুখ চেপে ধরে এবং পায়ের জুতা খুলে হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয়।

জানা গেছে, উপজেলার ধুরইলঘাট জেলা প্রশাসন থেকে গত মার্চ/২১ মাসে নিলাম ডাক দেয়া হয়। তখন থেকেই অবৈধভাবে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাকে করে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে জরিমানা করা হলেও ডাম্প ট্রাকের চলাচল বন্ধ হয়নি। এতে করে আমতলী বাজার হতে চিরিরবন্দর রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকাবাসির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরতিজা হাসান সরেজমিনে গিয়ে অবৈধভাবে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাকে বালু পরিবহনের দায়ে একটি ডাম্প ট্রাকের চালককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপরও ডাম্প ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন বন্ধ হয়নি। বরং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আত্রাই নদীর ধুরইলঘাট থেকে অবৈধভাবে মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছেন ইজারাদার। আর ঘাটে দুইটি ডাম্প ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। একটি ডাম্প দিনের বেলায় বালু বোঝাই করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছিয়ে দিতে। রাস্তায় প্রায় ৭-৮ ইঞ্চি গভীর বালু আর ধুলোর স্তর। পথচারীসহ স্থানীয়রা পায়ের জুতো খুলে রাস্তার এক ধার দিয়ে চলাচল করছেন। রাস্তার দু’পাশের বাড়িঘর ধুলোয় ভরা ধুসর রং ধারণ করেছে। কয়েকজন গ্রামবাসীর সাথে আলাপ হলে তারা জানান, মনে হয় আমরা ধুলোর রাজ্যে বসবাস করছি। প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।

চওড়াবাড়ি গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, এই এলাকায় আমরা বসবাস করতে পারছি না। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। যানবাহন চলাচল করলেই ধুলা-বালিতে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। আশেপাশের বাসা-বাড়িগুলোর লোকজন টিকতে পারছে না ধুলা-বালির যন্ত্রণায়। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বেশ কয়েকমাস মাস থেকে বালু মহাল থেকে দশ চাকার ডাম্প ট্রাকে ওভারলোড নিয়ে বালু পরিবহনের কারণে এই এলাকার এ অবস্থা। এর আগে বালু বোঝাই করে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাক এই সড়কে চলাচল করতো না।

তারা আরও জানায়, এই মৌসুম থেকেই বালু মহাল থেকে বালু বোঝাই করে এ ধরনের গাড়ি চলাচল করছে। এই ধরনের বড় গাড়ি চলাচলের সময় মনে হয় যেন ভুমিকম্প হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণে তারা ঘুমাতে পারে না। বাসা-বাড়িতেও ফাটল ধরেছে।

বালু মহালের ইজারাদার হাসমিন লুনা মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ ও তার এক আত্মীয় অসুস্থ। কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করা হবে বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, ইতিপূর্বে অবৈধভাবে ড্রামট্রাক চালানোর দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই বেআইনী যানবাহন চালানোর সুযোগ নাই। বর্তমানেও প্রশাসনের নজরে আসলে বা সামনে বেআইনী কিছু পড়লে জেল জরিমানা করা হবে।

চিরিরবন্দরে থামছেই না ডাম্পট্রাক-ট্রাক্টরের দাপট

প্রকাশের সময়: ০৪:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে থামছেই না ডাম্পট্রাক-ট্রাক্টরের দাপট। এসবের দাপটে নাকাল হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বালু বোঝাই ডাম্প ট্রাক আর ট্রাক্টরের দাপটে উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের চওড়ারবাড়ি গ্রামের প্রধান রাস্তা ধুলা বালিতে ভরে গেছে। রাস্তার উপরে জমেছে বালুর স্তুপ ও বসতবাড়িতে ধরেছে ফাটল। এই ডাম্প ট্রাকসহ ট্রাক্টর চলাচলে বাতাসে ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে। ধুলাবালি উড়ে গিয়ে পড়ে আশেপাশের বসতবাড়িতে। পথচারী ও স্থানীয়দের কাপড় দিয়ে নাক মুখ চেপে ধরে এবং পায়ের জুতা খুলে হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয়।

জানা গেছে, উপজেলার ধুরইলঘাট জেলা প্রশাসন থেকে গত মার্চ/২১ মাসে নিলাম ডাক দেয়া হয়। তখন থেকেই অবৈধভাবে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাকে করে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে জরিমানা করা হলেও ডাম্প ট্রাকের চলাচল বন্ধ হয়নি। এতে করে আমতলী বাজার হতে চিরিরবন্দর রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকাবাসির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরতিজা হাসান সরেজমিনে গিয়ে অবৈধভাবে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাকে বালু পরিবহনের দায়ে একটি ডাম্প ট্রাকের চালককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপরও ডাম্প ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন বন্ধ হয়নি। বরং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আত্রাই নদীর ধুরইলঘাট থেকে অবৈধভাবে মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছেন ইজারাদার। আর ঘাটে দুইটি ডাম্প ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। একটি ডাম্প দিনের বেলায় বালু বোঝাই করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছিয়ে দিতে। রাস্তায় প্রায় ৭-৮ ইঞ্চি গভীর বালু আর ধুলোর স্তর। পথচারীসহ স্থানীয়রা পায়ের জুতো খুলে রাস্তার এক ধার দিয়ে চলাচল করছেন। রাস্তার দু’পাশের বাড়িঘর ধুলোয় ভরা ধুসর রং ধারণ করেছে। কয়েকজন গ্রামবাসীর সাথে আলাপ হলে তারা জানান, মনে হয় আমরা ধুলোর রাজ্যে বসবাস করছি। প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।

চওড়াবাড়ি গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, এই এলাকায় আমরা বসবাস করতে পারছি না। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। যানবাহন চলাচল করলেই ধুলা-বালিতে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। আশেপাশের বাসা-বাড়িগুলোর লোকজন টিকতে পারছে না ধুলা-বালির যন্ত্রণায়। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বেশ কয়েকমাস মাস থেকে বালু মহাল থেকে দশ চাকার ডাম্প ট্রাকে ওভারলোড নিয়ে বালু পরিবহনের কারণে এই এলাকার এ অবস্থা। এর আগে বালু বোঝাই করে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাক এই সড়কে চলাচল করতো না।

তারা আরও জানায়, এই মৌসুম থেকেই বালু মহাল থেকে বালু বোঝাই করে এ ধরনের গাড়ি চলাচল করছে। এই ধরনের বড় গাড়ি চলাচলের সময় মনে হয় যেন ভুমিকম্প হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণে তারা ঘুমাতে পারে না। বাসা-বাড়িতেও ফাটল ধরেছে।

বালু মহালের ইজারাদার হাসমিন লুনা মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ ও তার এক আত্মীয় অসুস্থ। কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করা হবে বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, ইতিপূর্বে অবৈধভাবে ড্রামট্রাক চালানোর দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই বেআইনী যানবাহন চালানোর সুযোগ নাই। বর্তমানেও প্রশাসনের নজরে আসলে বা সামনে বেআইনী কিছু পড়লে জেল জরিমানা করা হবে।